অপূর্ব শর্মা: কুপিবাতি থেকে প্রযুক্তির ছোঁয়া

জীবন পাল : বুঝ ক্ষমতার পর থেকেই নিজের অজান্তেই যার মাথায় ঘুরপাক খেতে থাকে কবি হবার স্বপ্ন। পড়ার টেবিলে বসলে সেই বয়সি ছন্দরা যেন চারপাশে ঘুরে বেড়াত। মুহুর্তেও মধ্যেই খাতায় সেইসব ছন্দগুলো লিখার পর রুপ নিত কবিতায়। শুধুমাত্র লিখার জন্যই পরিবারের সকলের সাথে না থেকে বাড়ির আলাদা কক্ষে থাকতেন। যাতে বাবার চোখে পড়ার টেবিলে বসে কবিতা লেখার দৃশ্যটা না পড়ে। বকুনি খেতে না হয়। শুধু কি তাই? কবিতা লিখার ভূতটা তার মাথায় এমনভাবে চেপে বসে যে, বাবা বুঝে ফেলবে দেখে রাতে বৈদ্যুতিক বাতি নিভিয়ে কুপিবাতি জ্বালিয়ে চালিয়ে যেতেন কবিতা লেখার যুদ্ধ। তিনি এখন আর সেই ছোট্ট ভয়কাতুরে ছেলে নয়। বয়স বাড়ার সাথে সাথে বেড়েছে তার সাহস। যার দৃষ্টান্ত দেখা যায় তারই লেখা সিরিজ ‘তুই রাজাকার’ পড়লে। ছোট্ট বেলার সেই কত সব হাস্যকর কবিতা না লিখলে হয়তো বর্তমানের ১৪টি গ্রন্থের স্রষ্টা হতে পারতেন না। পারতেন না মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক গবেষণা ভিক্তিক ৮টি গ্রন্থ লিখতে। বলছিলাম ছোট্ট বেলার সেই আগ্রহের ফলাফল আজকের অপূর্ব শর্মার কথা ।

 

ছোট্ট বেলার সেই লেখাগুলো সাহিত্যের মানের বিচারের আয়তায় না আসলেই কলেজ জীবনে গিয়ে কলেজের দেয়ালিকা,ম্যাগাজিনে মানের যাচাইয়ে তার লেখা কিন্তু জায়গা করে নিতে সক্ষম হয়েছিল ১ম,২য় পর্যায়ে । যা থেকে লেখার আগ্রহটা যেন আরো কয়েকটা ধাপ বেড়ে গিয়েছিল। যে আগ্রহ থেকেই অপূর্ব শর্মা একজন তরুণ মুক্তিযুদ্ধ গবেষক। ২০০৬ সাল থেকে মুক্তিযুদ্ধ নিয়ে গবেষণা করছেন তিনি। ২০০৮ সালে সিলেট থেকে প্রকাশিত দৈনিক যুগভেরী পত্রিকায় ‘তুই রাজাকার’ নামে যুদ্ধাপরাধীদের বিরুদ্ধে সিরিজ লিখে আলোচনায় আসেন। ২০০৯ সালে তার প্রথম গ্রন্থ ‘অনন্য মুক্তিযোদ্ধা জগতজ্যোতি’ প্রকাশিত হয়। তার অন্যান্য মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক গবেষণা গ্রন্থগুলো হলো ‘সিলেটের যুদ্ধাপরাধ ও প্রাসঙ্গিক দলিলপত্র’ ‘বীরাঙ্গনা কথা’, ‘মুক্তিসংগ্রামে নারী’, ‘চা-বাগানে গণহত্যা : ১৯৭১’ ও ‘মুক্তিযুদ্ধে সিলেট জেলা’ ইত্যাদি। এ যাবৎ ১৪টি গ্রন্থ প্রকাশিত হয়েছে। মুক্তিযুদ্ধ নিয়ে গবেষণা ও সাংবাদিকতার জন্য ইতোমধ্যে বেশ কিছু পুরস্কার ও সম্মাননা পেয়েছেন। ২০১০ সালে ‘এইচএসবিসি কালি ও কলম পুরস্কার’, ২০১৩ সালে ‘বজলুর রহমান স্মৃতিপদক’ ও ২০১৪ সালে সিলেট জেলা মুক্তিযোদ্ধা সংসদ থেকে সম্মাননা পান তিনি। প্রাচীন ‘দৈনিক যুগভেরী’ পত্রিকার নির্বাহী সম্পাদকের দায়িত্ব পালন করছেন অপূর্ব শর্মা। পাশাপাশি সাহিত্য পত্রিকা ‘অভিমত’ সম্পাদনা করছেন।

বর্তমানের অবাধ তথ্যপ্রবাহের এই যুগের সাথে খাপ খাইয়ে নিতেও বিন্দুমাত্র অবহেলা করতে নারাজ তিনি। একজন লেখক বা গবেষকের গ্রন্থিত ও অগ্রন্থিত সকল লেখাকে একটি স্থানে সংরক্ষণ করার প্রয়োজনীয়তা অপরিহার্য্য মনে করছেন। যে চিন্তা ধারা থেকে শুরু করেছেন পূর্ণাঙ্গ লেখক পোর্টাল apurbasharma.com (অপূর্ব শর্মা ডট কম) এর যাত্রা। তার মতে সংরক্ষন কার্যক্রমের পাশাপাশি যে পোর্টাল থেকে উপকৃত হবেন গবেষকরাও ।

লেখক: জীবন পাল/পিবিএ/এসডি

আরও পড়ুন...