আজই সৌদি যাচ্ছেন চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং

জল্পনা-কল্পনার অবসান ঘটিয়ে সৌদি আরবে সফরে যাচ্ছেন চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং। যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে উভয় দেশের উত্তেজনার মধ্যে মধ্যপ্রাচ্যে ওয়াশিংটনের সবচেয়ে বড় এই মিত্র দেশটিতে তিন দিনের সফরে বুধবারই (৭ ডিসেম্বর) পৌঁছাবেন তিনি।

বিশ্বের অন্যতম শক্তিশালী এই নেতার সফরে প্রায় ৩ হাজার কোটি মার্কিন ডলার মূল্যের চুক্তি স্বাক্ষর করবে চীন ও সৌদি আরব। সৌদির রাষ্ট্রীয় বার্তাসংস্থার বরাত দিয়ে বুধবার এক প্রতিবেদনে এই তথ্য জানিয়েছে সংবাদমাধ্যম আল জাজিরা এবং সৌদি গেজেট।

সৌদি গেজেটের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং বুধবারই তিন দিনের সফরে সৌদি আরবে পৌঁছাবেন। এসময় তিনি বিশ্বের সবচেয়ে বড় তেল রপ্তানিকারক এই দেশটির বাদশাহ এবং ডি ফ্যাক্টো (প্রকৃত) শাসক মোহাম্মদ বিন সালমানের সঙ্গে দেখা করবেন।

করোনাভাইরাস মহামারি শুরু হওয়ার পর থেকে দেশের বাইরে চীনা প্রেসিডেন্টের এটি তৃতীয় সফর হতে যাচ্ছে। এছাড়া ২০১৬ সালের পর সৌদি আরবে এটিই হবে শি জিনপিংয়ের প্রথম সফর।

সৌদি আরবের সরকারি বার্তাসংস্থা সৌদি প্রেস এজেন্সি (এসপিএ) মঙ্গলবার (৬ ডিসেম্বর) জানিয়েছে, ‘দুই দেশের (চীন ও সৌদি আরব) মধ্যে ঐতিহাসিক সম্পর্ক ও কৌশলগত অংশীদারিত্ব জোরদার করার জন্য’ সৌদি আরবের বাদশাহ সালমানের আমন্ত্রণে সফরে আসছেন চীনা প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং।

দ্বিপাক্ষিক এই সফরের সময় চীন ও সৌদি আরবের মধ্যে ২ হাজার ৯২৬ কোটি মার্কিন ডলারের প্রাথমিক চুক্তি স্বাক্ষরিত হবে বলেও জানিয়েছে এসপিএ।

আল জাজিরা বলছে, বুধবার সকালে চীনের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এক সংক্ষিপ্ত বিবৃতিতে শি জিনপিংয়ের সৌদি সফরের বিষয়টি নিশ্চিত করেছে। মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র হুয়া চুনয়িং বলেছেন, শি জিনপিং সৌদি আরবে রাষ্ট্রীয় সফর করবেন এবং রিয়াদে চীন-আরব রাষ্ট্র সম্মেলন এবং চীন-জিসিসি শীর্ষ সম্মেলনে যোগ দেবেন।

মূলত জো বাইডেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট হিসেবে দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকেই সৌদি আরবের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের দীর্ঘদিনের মিত্রতার সম্পর্কে যেন ভাটা পড়েছে। এছাড়া ইউক্রেনে রুশ আগ্রাসন শুরুর পর তেলসহ নানা ইস্যুতে রিয়াদ ও ওয়াশিংটনের মধ্যে আগে থেকে বিদ্যমান দূরত্বও যেন রূপ নিয়েছে উত্তেজনায়।

আর যুত্তরাষ্ট্রের সঙ্গে চীনের উত্তেজনা তো আছেই। এই পরিস্থিতিতে ওয়াশিংটনের সঙ্গে বেইজিং-রিয়াদের উত্তেজনার মধ্যেই চলতি সপ্তাহে সৌদি আরব সফরে যাচ্ছেন প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং।

বলা হচ্ছে, যুক্তরাষ্ট্র এবং অন্যান্য পশ্চিমা দেশগুলোর সাথে সম্পর্কের ক্রমবর্ধমান চাপের মধ্যে চীন মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলোর সঙ্গে সম্পর্ককে আরও গভীর করার দিকে নজর দিয়েছে এবং এরই অংশ হিসেবে জিনপিংয়ের সফরটি অনুষ্ঠিত হচ্ছে।

এদিকে একদিন আগেই বেশ কয়েকটি সূত্রের উদ্ধৃতি দিয়ে সিএনএন জানিয়েছিল, সৌদি আরবের রাজধানী রিয়াদে চীনা প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংয়ের সফরের সময় সেখানে চীন-আরব শীর্ষ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হবে। ওই সম্মেলনে ১৪টি আরব দেশের রাষ্ট্রপ্রধানরা অংশ নেবেন বলে আশা করা হচ্ছে।

এছাড়া দুই দিনের ওই সফরে চীন-জিসিসি সম্মেলন হওয়ার কথাও রয়েছে বলে জানিয়েছিল সংবাদমাধ্যমটি।

বুধবার চীনের রাষ্ট্র-চালিত ট্যাবলয়েড গ্লোবাল টাইমস তাদের সম্পাদকীয়তে চীন-আরব রাষ্ট্রগুলোর শীর্ষ সম্মেলনকে ‘চীন-আরব দেশগুলোর সম্পর্কের ইতিহাসে একটি মাইলফলক’ হিসাবে বর্ণনা করা হয়েছে।

পত্রিকাটি আরও বলেছে, আরব বসন্তের ‘গুরুতর প্রভাবের’ পরে এই অঞ্চলে রাজনৈতিক অস্থিরতা এড়াতে এবং স্থিতিশীল প্রবৃদ্ধি অর্জনে জন্য ‘সবারই আকাঙ্ক্ষা’ ছিল এবং এ বিষয়ে ‘চীনের অভিজ্ঞতার প্রতি (আরব দেশগুলো) গভীরভাবে আগ্রহী’ ছিল।

আল জাজিরা বলচে, চীন সৌদি আরবের বৃহত্তম ব্যবসায়িক অংশীদার এবং বুধবার রিয়াদে পৌঁছানোর পর সৌদির প্রকৃত শাসক মোহাম্মদ বিন সালমান শি জিনপিংকে দুর্দান্তভাবে স্বাগত জানাবেন বলে আশা করা হচ্ছে। এমনকি গত জুলাই মাসে মার্কিন প্রেসিডেন্ট জো বাইডেনকে দেওয়া সৌদির সংবর্ধনা অনেকটা নিঃশব্দ ছিল বলেও এতে দাবি করা হয়েছে।

সৌদি আরবের বিশ্লেষক ও দেশটির সরকারের ঘনিষ্ঠ আলী শিহাবি বলেছেন, দুই দেশের মধ্যে ‘সাম্প্রতিক বছরগুলোতে গভীর যে সম্পর্ক গড়ে উঠেছে’ প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংয়ের এই সফর সেটিকেই প্রতিফলিত করছে।

আসন্ন এই সফরে ‘অনেক চুক্তি স্বাক্ষরিত হবে’ বলে আশা করে তিনি বলছেন, ‘সৌদি তেলের বৃহত্তম আমদানিকারক হিসাবে, চীন (রিয়াদের) গুরুত্বপূর্ণ অংশীদার এবং উভয় দেশের মধ্যে সামরিক সম্পর্কও দৃঢ়ভাবে বিকশিত হচ্ছে।’

আরও পড়ুন...