জাতীয় শোক দিবস

আ’লীগের পৃথক কর্মসূচী, গণভোজের আগেই অপরপক্ষ উধাও

পিবিএ,নরসিংদী: নরসিংদী জেলা আওয়ামী লীগ দুভাবে বিভক্ত। একপক্ষের নেতৃত্ব দিচ্ছেন সভাপতি ও সাংসদ মোহাম্মদ নজরুল ইসলাম। আর অপর পক্ষের নেতৃত্ব দিচ্ছেন সাধারণ সম্পাদক ও জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান আবদুল মতিন ভূইয়া। গত একাদশ সংসদ নির্বাচনের পর থেকে দুই পক্ষের বিরোধ প্রকাশ্যে চরম পর্যায়ে। এরই ধারাবাহিকতায় শনিবার (১৫ আগস্ট) শহরের পশ্চিম কান্দাপাড়া এলাকায় জেলা আওয়ামী লীগের কার্যালয়ে জাতীয় শোক দিবস উপলক্ষে পৃথক কর্মসূচীর আয়োজন করে জেলা আওয়ামী লীগ। এদিকে দুপক্ষের কর্মসূচির মধ্যে সকলের দৃষ্টি ছিল গণভোজের আয়োজনে। কিন্তু এক পক্ষের নেতাকর্মীদের বক্তব্য শেষে আলোচনা ও দোয়া মাহফিল দ্রুত করে দুপুর সাড়ে ১২ টার দিকে গণভোজ সম্পন্ন করে অনুষ্ঠানস্থল থেকে উধাও হয়ে যাওয়ায় ব্যাপক সমালোচনার সৃষ্টি হয়েছে। জেলা আওয়ামী লীগ কার্যালয় সূত্র জানায়, জাতীয় শোক দিবস উপলক্ষে জেলা আওয়ামী লীগের কার্যালয়ের সামনে পৃথক দুটি প্যান্ডেল তৈরি করা হয়। এর একটিতে প্রধান অতিথি জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি ও সদরের সাংসদ মোহাম্মদ নজরুল ইসলাম। অপর অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান আবদুল মতিন ভূইয়া। এরমধ্যে সভাপতির অনুষ্ঠানের গণভোজের নির্ধারিত সময়ের আগেই আয়োজকরা অনুষ্ঠানস্থল থেকে উদাও হয়ে যায়। এতে ব্যাপক সমালোচনার সৃষ্টি হয়। শনিবার দুপুর দেড়টা থেকে আড়াইটা পর্যন্ত শহরের পশ্চিম কান্দাপাড়া এলাকায় জেলা আওয়ামী লীগের কার্যালয়ে সরেজমিনে ঘুরে দেখা যায়, জেলা আওয়ামী লীগের কার্যালয়ের সামনের দক্ষিণ পাশে জেলা আওয়ামী লীগের আয়োজনে একটি প্যান্ডেল তৈরি করা হয়। সেই প্যান্ডেলের নিচে কয়েকটি টেবিল ও চেয়ার এলোমেলো অবস্থায় রয়েছে। টানানো রয়েছে একটি ব্যানার। ব্যানারে প্রধান অতিথি হিসেবে নাম লেখা রয়েছে জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি ও সাংসদ মোহাম্মদ নজরুল ইসলামের নাম। কিন্তু সেখানে আওয়ামী লীগের কোন নেতা বা কর্মীকে পাওয়া যায়নি। একেবারে ফাঁকা অবস্থায় রয়েছে।

আর উত্তর পাশে নরসিংদী শহর আওয়ামী লীগের আয়োজনে করা হয়েছে বিশাল একটি প্যান্ডেল। নরসিংদী শহর আওয়ামী লীগের সভাপতি ও পৌর মেয়র মো. কামরুজ্জামানের সভাপতিত্বে ওই অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আবদুল মতিন ভূইয়া। সেই প্যান্ডেলের নিচে চেয়ার টেবিলে কয়েক হাজার নেতাকর্মী শান্তিপূর্ণভাবে গণভোজের বিরিয়ানি খাওয়া দাওয়া করছে। আর এই দুই প্যান্ডেলের মধ্যে অবস্থান নিয়েছে আইন শৃংখলাবাহিনীর সদস্যরা।

জেলা আওয়ামী লীগের কার্যালয়ের সামনে কয়েকজন নেতাকর্মী ক্ষোভ প্রকাশ করে সাংবাদিকদের বলেন, আসছিলাম এমপি সাহেবের আহ্বানে গণভোজে অংশ নিতে। কর্মসূচিতে সময় দেওয়া হয়েছিল দুপুর ২ টা। কিন্তু এর আগেই আয়োজকরা উধাও হয়ে গেছেন। খাবার দাবার কিছুই নেই। সেখানে কাউকে না পেয়ে বাধ্য হয়ে পাশের গণভোজে অংশ নিয়েছি। মানুষকে দাওয়াত দিয়ে এমনভাবে অসম্মান করা হতাশাজনক। যা ইতিপূর্বে কখনো কোন দিন হয়নি।

পিবিএ/খন্দকার শাহিন/এমআর

আরও পড়ুন...