ইবাদত-বন্দেগির সর্বোত্তম সময় যৌবনকাল

পিবিএ ডেস্কঃআল্লাহ তাআলার দরবারে যুবক বয়সের ইবাদত-বন্দেগির মর্যাদা ও গুরুত্ব অনেক বেশি। কারণ যৌবনের টগবগে সময়ে একজন তরুণের মাঝে এক ধরনের কামনা, বাসনা, উত্তেজনা আবার চরম হতাশা কাজ করে। আর তাতে সে ইবাদত-বন্দেগি তথা আল্লাহর ভয় থেকে গাফেলহয়ে যায়।এ কারণেই যৌবনে নিজেকে নির্মল, সৎ ও চরিত্রবান হিসেবে গড়ে তুলতে কুরআন ও হাদিসে জোর তাগিদ দেয়া হয়েছে।

আল্লাহর ইবাদতে কাটানো : যৌবনকালে আল্লাহর ইবাদতকারীকে মহান আল্লাহ আরশের ছায়াতলে স্থান দেবেন। আবু হুরায়রা (রা.) থেকে বর্ণিত।নবী করিম (সা.) ইরশাদ করেছেন, সাত রকমের লোক, যাদের আল্লাহ কিয়ামতের দিন তাঁর ছায়ায় আশ্রয় দেবেন,যেদিন তাঁর ছায়া ছাড়া অন্য কোনো ছায়া হবে না। ১. ন্যায়পরায়ণ বাদশাহ; ২. আল্লাহর ইবাদতে লিপ্ত যুবক; ৩. এমন যে ব্যক্তি আল্লাহকে নির্জনে স্মরণ করে আর তার চোখ দুটি অশ্রুসিক্ত হয়; ৪. এমন ব্যক্তি, যার অন্তর মসজিদের সঙ্গে লেগে থাকে; ৫. এমন দুই ব্যক্তি, যারা আল্লাহর উদ্দেশে পরস্পর ভালোবাসা রাখে; ৬. এমন ব্যক্তি, যাকে কোনো সম্ভ্রান্ত রূপসী নারী নিজের দিকে ডাকল আর সে বলল, আমি আল্লাহকে ভয় করি; ৭. এমন ব্যক্তি, যে সাদকাহ করল আর এমনভাবে করল যে তার বাঁ হাত জানে না যে তার ডান হাত কী করে। (বুখারি, হাদিস : ৬৮০৬)

দৃষ্টিকে সংযত রাখা :  রাসুল (সা.) বলেন, কোনো মুসলমান বান্দার দৃষ্টি যখন কোনো নারীর সৌন্দর্যের প্রতি প্রথমবার পড়ে যায়, অতঃপর সে তার দৃষ্টি সরিয়ে নেয় (তার দিকে তাকায় না), যার কারণে আল্লাহ তাআলা তাকে এমন ইবাদত করার তাওফিক দান করবেন, যার মিষ্টতা ও স্বাদ সে অবশ্যই অনুভব করবে। (মুসনাদে আহমাদ, হাদিস : ২২১৭৯)

মিষ্টভাষী ও চরিত্রবান হওয়া : রাসুল (সা.) ইরশাদ করেছেন, যে ব্যক্তি তার দুই মাড়ির মধ্যখান (জিহ্বা) এবং দুই ঊরুর মধ্যখানের (লজ্জাস্থান) হেফাজতের দায়িত্ব নেবে, আমি তার জান্নাতের দায়িত্ব নিলাম। (বুখারি, হাদিস : ৬৪৭৪)

পরকালের প্রস্তুতি নেওয়া : হাদিস শরিফে এসেছে, বুদ্ধিমান তো সে-ই, যে নিজেকে উপলব্ধি করতে পারে ও মৃত্যুর পরবর্তী জীবনের জন্য আমল করে। (তিরমিজি শরিফ, হাদিস : ২৪৫৯)

মাতা-পিতার সেবা করা : হজরত আবু হুরায়রা (রা.) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসুলুল্লাহ (সা.) ইরশাদ করেছেন, ‘ওই ব্যক্তির নাক ধুলায় ধূসরিত হোক! ওই ব্যক্তির নাক ধুলায় ধূসরিত হোক। ওই ব্যক্তির নাক ধুলায় ধূসরিত (অর্থাৎ সে ধ্বংস হোক)। জিজ্ঞেস করা হলো, হে আল্লাহর রাসুল! কে সে? তিনি বলেন, যে ব্যক্তি মাতা-পিতা উভয়কে অথবা তাদের কোনো একজনকে বার্ধক্য অবস্থায় পেল, অথচ সে জান্নাতে প্রবেশ করতে পারল না, সে ধ্বংস হোক।’ (সহিহ মুসলিম, হাদিস : ২৫৫১)

আরও পড়ুন...