ইরানে চলমান বিক্ষোভ-সহিংসতায় নিহত ২ শতাধিক

দুই মাসের বেশি সময় ধরে ইরানে চলমান বিক্ষোভ-সহিংসতায় এখন পর্যন্ত দুই শতাধিক মানুষের প্রাণহানি ঘটেছে বলে প্রথমবারের মতো দেশটির একটি নিরাপত্তা সংস্থা আনুষ্ঠানিকভাবে স্বীকার করেছে। শনিবার ইরানের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের রাষ্ট্রীয় নিরাপত্তা পরিষদ এক বিবৃতিতে এই তথ্য জানানো হয়েছে।

এতে বলা হয়েছে, সেপ্টেম্বর থেকে দেশজুড়ে সহিংসতায় দুই শতাধিক মানুষ নিহত হয়েছেন। দাঙ্গার কারণে এই প্রাণহানির ঘটনা ঘটেছে বলে সংস্থাটি জানিয়েছে।

বিবৃতিতে বলা হয়েছে, সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড চালানোর সময় বিদেশি বিভিন্ন গোষ্ঠীর সাথে সংশ্লিষ্টরা নিহত হয়েছেন। নিহতদের বেশিরভাগই ‘দাঙ্গাকারী’ এবং ‘সশস্ত্র বিচ্ছিন্নতাবাদী গোষ্ঠীর সদস্য’ ছিল। সন্ত্রাসীদের হামলায় নিরাপত্তা বাহিনীর অনেক সদস্যও মারা গেছেন।

দেশটির এই রাষ্ট্রীয় নিরাপত্তা পরিষদ অবশ্য নিরপরাধ মানুষ যারা নিরাপত্তা বিশৃঙ্খলার মাঝে মারা গেছেন তাদের কথাও উল্লেখ করেছে। তবে তারা কীভাবে মারা গেছেন সেবিষয়ে বিস্তারিত জানায়নি সংস্থাটি।

ইরানের বিপ্লবী গার্ড কোরের (আইআরজিসি) শীর্ষ জেনারেল আমির আলি হাজিজাদেহ বিক্ষোভ-সহিংসতায় ৩ শতাধিক মানুষ নিহত হয়েছেন বলে স্বীকার করার কয়েক দিন পর দেশটির স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের নিরাপত্তা পরিষদ নতুন এই পরিসংখ্যান প্রকাশ করেছে।

তবে আন্তর্জাতিক বিভিন্ন মানবাধিকার সংস্থা ইরানে সহিংসতায় ৪ শতাধিক মানুষ নিহত হয়েছেন বলে যে পরিসংখ্যান প্রকাশ করেছে, তার তুলনায় সরকারিভাবে প্রাণহানির এই সংখ্যা অনেক কম।

হিজাব পরার বিধান লঙ্ঘনের দায়ে গ্রেপ্তারের পর গত ১৬ সেপ্টেম্বর ইরানের নৈতিকতা পুলিশের জিম্মায় মারা যান মাহসা আমিনি নামের ২২ বছর বয়সী এক তরুণী। ওই তরুণীর পর দেশটিতে হিজাববিরোধী আন্দোলন শুরু হয়; যা বর্তমানে সরকারবিরোধী আন্দোলনে রূপ নিয়েছে।

১৯৭৯ সালের ইসলামিক বিপ্লবের পর এবারই প্রথম সবচেয়ে বড় ধরনের চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি হয়েছে ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনি নেতৃত্বাধীন দেশটির ক্ষমতাসীন শাসকগোষ্ঠী। ব্যাপক দমনপীড়নের মাধ্যমে ইরানি কর্তৃপক্ষ সরকারবিরোধী এই বিক্ষোভ মোকাবিলার চেষ্টা করছে।

চলমান অস্থিরতার জন্য ইরানের কর্তৃপক্ষ মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র, ইসরায়েল, যুক্তরাজ্য এবং সৌদি আরবকে দায়ী করেছে।

সূত্র: রয়টার্স, আলজাজিরা।

আরও পড়ুন...