ঈদের ছুটিতে কুয়াকাটা সৈকতে পর্যটক কম, ব্যবসায়ীরা হতাশ

উত্তম কুমার হাওলাদার,কলাপাড়া (পটুয়াখালী): ঈদের ছুটিতে পর্যটন কেন্দ্র কুয়াকাটায় এবার পর্যটকদের সংখ্যা কম। আশানুরূপ পর্যটক না আসায় হতাশ হোটেল-মোটেল ব্যবসায়ীরা। যারা এসেছে তারা বেশিরভাগ স্থানীয়। আগত এসব পর্যটকরা সমুদ্রের ঢেউয়ের সাথে নেচে-গেয়ে আনন্দ উৎসবে মেতে উঠছে। কেউ মেতেছেন বন্ধুদের সঙ্গে হইহুল্লোড়ে। কেউবা আবার সৈকতের বেঞ্চিতে বসে নৈসর্গিক সৌন্দর্য উপভোগ করছেন। কেউ ঘোড়া, ওয়াটার বাইক কিংবা মোটরসাইকেল চড়ে ঘুরে দেখছেন দর্শনীয় স্থান।

এছাড়া তিন নদীর মোহনা, লেম্বুর বন, ঝাউবাগান ও গঙ্গামতি সৈকতসহ সব স্পটে কম বেশি পর্যটকদের আনাগোনা রয়েছে। আগত পর্যটকদের নিরাপত্তায় ট্যুরিস্ট পুলিশ, নৌ-পুলিশ, থানা পুলিশ ও ফায়ার সার্ভিসের সদস্যদের তৎপরতা লক্ষ্য করা গেছে।

পর্যটন সংশ্লিষ্টরা জানান, বিশেষ ছাড়ের ব্যবস্থা থাকলেও অধিকাংশ হোটেল মোটেলর কক্ষ খালি রয়েছে। এ বছর দূর দূরান্তের পর্যটক না থাকালেও পর্যটন স্পটগুলোতে ছিল স্থানীয়দের ভীড়। তবে চলমান তীব্র দাবদাহ ও দীর্ঘদিন ধরে বৃষ্টি না হওয়ার কারণে অতিষ্ঠ হয়ে উঠেছিল জনজীবন। ঈদের তৃতীয় দিনে বুধবার সকাল থেকে হঠাৎ করে বৃষ্টি শুরু হওয়াতে স্বস্তি ফিরেছে পর্যটন এলাকায়। জিরো পয়েন্ট থেকে শুরু করে সৈকতের পূর্ব ও পশ্চিম দিকের কয়েক কিলোমিটার জুড়ে আনন্দ উল্লাস ও সমুদ্রস্নানে মেতেছেন আগত পর্যটকরা।

পর্যটক তাবাসসুম তানিয়া জানান, ঈদের ছুটিতে ফ্যামিলি নিয়ে কুয়াকাটায় ঘুরতে এসেছি। এখানকার প্রাকৃতিক সৌন্দর্য আমাদের বিমোহিত করেছে। কখনো হালকা, আবার কখনো মাঝারি বৃষ্টিতে ভিজেছি। একই সাথে সমুদ্রের সাঁতার কাটা আসলেই অন্যরকম এক অনুভূতি।

পর্যটক সারামনি বলেন, আকাশ মেঘলা। একটু পর পর বৃষ্টি হচ্ছে। সব মিলিয়ে দারুণ এক পরিবেশ। দখিনের বাতাস আর সমুদ্রের মোহনীয় গর্জন প্রাণ শীতল করেছে।

ট্যুর অপারেটরস অ্যাসোসিয়েশন অব কুয়াকাটা টোয়াক’র যুগ্ন সাধারন সম্পাদক আবুল হোসেন রাজু বলেন, ঈদের প্রথম ও দ্বিতীয় দিন পর্যটক কম ছিল। কিন্তু ঈদের তৃতীয় দিন বুধবার সকাল থেকে পর্যটকের সংখ্যা বাড়তে থাকে। তবে বৃষ্টির করনে আগত আনেক পর্যটক হোলেটের রুম থেকে বের হয়নি। আশা করছি শুক্রবার পর্যন্ত এমন অবস্থা থাকবে।

কুয়াকাটা ট্যুরিস্ট পুলিশ জোনের দায়িত্বপ্রাপ্ত পুলিশ সুপার আবুল কালাম আজাদ বলেন, পর্যটকদের নিরাপত্তায় বিভিন্ন স্পটে ট্যুরিস্ট পুলিশ মোতায়েন রয়েছে। এছাড়া মাঠে নৌ-পুলিশ, থানা পুলিশ এবং ফায়ার সার্ভিসের সদস্যরাও রয়েছেন। আশা করছি পর্যটকরা নিরাপদে তাদের ভ্রমণ উপভোগ করতে পারবে।

আরও পড়ুন...