কমলগঞ্জে দ্বিতীয় শ্রেণীর ছাত্রীকে দপ্তরির যৌন নির্যাতন

মোঃ আহাদ মিয়া,মৌলভীবাজার: মৌলভীবাজারের কমলগঞ্জ উপজেলার সদর ইউনিয়নের ফুলবাড়ি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের দ্বিতীয় শ্রেণীর ছাত্রীকে পেন্সিল খাতা দিয়ে দপ্তরী রমজান আলী কর্তৃক যৌন নির্যাতন করার অভিযোগ উঠেছে। ভিকটিমের মা আমিরা বেগম বলেন, বিগত কিছুদিন ধরে দ্বিতীয় শ্রেণীতে পড়ুয়া মেয়ে( ছব্দনাম) রহিমা আক্তার( ৭) স্কুল থেকে ফিরার সময় নতুন নতুন কলম,পেন্সিল,খাতা ইত্যাদি নিয়ে আসতো। তখন মা তাকে জিজ্ঞেস করলে সে জানায় দপ্তরি রমজান আলী তাকে এসব দিতো।

বিষয়টি নিয়ে ছাত্রীর মা বাবা এতটা গভীরভাবে চিন্তা করেননি, কারণ তারা ভেবেছিলেন একটা শিশুকে স্নেহের দৃষ্টিতে কেউ কলম,পেন্সিল ইত্যাদি দিতে পারে, কিন্তু পরবর্তীতে একদিন যৌন নির্যাতিত শিশু রহিমা আক্তার(ছব্দনাম) তার শরীরের স্পর্শকাতর জায়গায় ব্যথার কথা বলতে গেলে,যৌন নির্যাতনের ঘটনাটি প্রকাশ পায়। সে তখন জানায় রমজান আলী বিভিন্ন সময় তার শরীলের অবাঞ্চিত ও স্পর্শকাতর স্থানে স্পর্শ করতো এবং এইসব কথা পরিবারের কাউকে না জানানোর জন্য কঠিনভাবে ভয়-ভীতি দেখানোর পাশাপাশি, তাকে প্রতিদিন খাতা-কলম পেন্সিল প্রদান করতো। এ বিষয়ে অভিযুক্ত দপ্তরি রমজান আলীর সাথে যোগাযোগ করতে, তার বসতবাড়িতে গিয়ে তাকে পাওয়া যায়নি,তবে রমজান আলীর মা জানান, শিশু নির্যাতনের বিষয়টি তিনি মানুষের কাছ থেকে জেনেছেন, জেনে তিনি তার ছেলে দপ্তরি রজমান আলীকে জিজ্ঞেস করেছিলেন, তখন ছেলে জানায় ভিকটিম সহ আরেকটি ছাত্র স্কুলে ঝগড়া করেছিলো, এই সময় ভিকটিম স্কুলের ফ্লোরে পড়ে গেলে, রমজান মেয়েটিকে তুলে বুকে লেগে থাকা মাটি পরিস্কার করেছে, খারাপ কিছু করেনি। ফুলবাড়ি গ্রামের ( ইউপি) সদস্য মোঃ মামুন মিয়া বলেন দ্বিতীয় শ্রেণীর শিশুকে যৌন নির্যাতনের বিষয়টি মঙ্গলবার সন্ধ্যায় দপ্তরি রমজান আলী আমাদের পঞ্চায়েত সবার সামনে স্বীকার করেছে, তখন রমজান আলী সামাজিক ভাবে বিষয়টি সমাধান করলে চেয়েছিলো,আমরা তখন ভিকটিমকে আইনের আশ্রয় নিতে বলি, তিনি আরো বলেন ফুলবাড়ি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত শিক্ষিকার অবহেলা ও দায়িত্বহীনতার কারনে এমন ঘটনা ঘটেছে।

এ বিষয়ে কমলগঞ্জ উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা সাইফুল ইসলাম বলেন, ঘটনাস্থলে তিনি গিয়েছেন এবং জেনেছেন, তদন্ত সাপেক্ষে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে। অভিযোগের সত্যতা নিশ্চিত করে কমলগঞ্জ থানার থানার এস আই আমিনুল ইসলাম বলেন,অভিযোগ পেয়েছি। তদন্ত সাপেক্ষে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

 

আরও পড়ুন...