করোনাভাইরাসের মধ্যেও এশিয়ার সর্বোচ্চ প্রবৃদ্ধি বাংলাদেশে

পিবিএ,ঢাকা: চলতি অর্থবছরে বাংলাদেশের প্রবৃদ্ধি নিয়ে যে পূর্বাভাস এশীয় উন্নয়ন ব্যাংক (এডিবি) দিয়েছে তা অবাস্তব বলে মনে করছেন অর্থনীতিবিদরা।

করোনা ভাইরাস মহামারির কারণে বিশ্ব অর্থনীতিতে চলমান অস্থিরতার মধ্যে এই পূর্বাভাস নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন তারা। যদিও সরকার বলছে এটা ‘সুখবর’।

উল্লেখ্য, চলতি অর্থবছরে মোট দেশজ উৎপাদনের (জিডিপি) প্রবৃদ্ধি কিছুটা কমে ৭ দশমিক ৮ শতাংশ হতে পারে বলে পূর্বাভাস দিয়েছে এশীয় উন্নয়ন ব্যাংক (এডিবি)।

সংস্থাটি বলছে, করোনা ভাইরাসের প্রভাবে প্রবৃদ্ধি মাত্র ০.২ থেকে ০.৪ শতাংশ কমবে। এবং এশিয়ার মধ্যে বাংলাদেশেই সর্বোচ্চ প্রবৃদ্ধি হবে।

শুক্রবার প্রকাশিত এশিয়ান ডেভেলপমেন্ট আউটলুক ২০২০ নামে এডিবির শীর্ষ হালনাগাদ প্রতিবেদনে এমন পূর্বাভাস দেয়া হয়েছে।

চলতি অর্থবছরে ৮ দশমিক ২ শতাংশ প্রবৃদ্ধির লক্ষ্যমাত্রা ঠিক করেছিল সরকার। গত অর্থবছরে বাংলাদেশের প্রবৃদ্ধি ছিল ৮ দশমিক ১৩ শতাংশ। এডিবির পূর্বাভাস বলছে, আগামী অর্থবছরে প্রবৃদ্ধি আবার ৮ শতাংশ হবে।

এ বিষয়ে বেসরকারি গবেষণা সংস্থা সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগের (সিপিডি) নতুন নির্বাহী পরিচালক ড. ফাহমিদা খাতুন বলেন, ‘এডিবির মত সংস্থা আজকের দিনে বসে কিসের ভিত্তিতে এমন পূর্বাভাস করেছে জানি না। তবে এটা অবাস্তব।’

তিনি বলেন, ‘ করোনার কারণে সারা বিশ্বের প্রবৃদ্ধি যেখানে এত কমছে, ভারত লক্ষ্যের অর্ধেক করে ফেলেছে, বলছে আরও কমও হতে পারে। সেখানে বাংলাদেশের প্রবৃদ্ধি অন্তত এক শতাংশ ক্ষতিগ্রস্ত হবেই।’

‘আজকের দিনে ৭ দশকিম ৮ শতাংশ প্রবৃদ্ধি অনুমান করা অসম্ভব। এ অর্থ বছরের প্রথম ৮ মাসে রফতানি কম ছিল। বেসরকারি বিনিয়োগ, রাজস্ব আয় লক্ষ্যের তুলনায় কম ছিল। শুধু রেমিটেন্স বেশি ছিল, সেটাও ইতিমধ্যে কমতে শুরু করেছে। তাহলে প্রবৃদ্ধি কোথা থেকে আসবে।’

ড. ফাহমিদা বলেন, ‘এ কয়েকদিনের মধ্যে পরিস্থিতি ঘুরে দাঁড়াবে সেটাও আশা করা যায় না। দুইটা সমস্যা একই সঙ্গে চলছে, উৎপাদন কম, চাহিদাও নেই। হাতে টাকা থাকলেও কেনাকাটা বন্ধ, ইনফরমাল সেক্টরসহ দিনমুজরদের হাতে টাকাও নেই।’

তিনি বলেন, ‘অর্থনৈতিক নির্দেশক সবগুলো যখন নেগেটিভ তখন করোনা ভাইরাসের প্রভাবে মাত্র ০.২ থেকে ০.৪ শতাংশ কমবে বলে এডিবির পূর্বাভাস আমার কাছে বাস্তবসম্মত মনে হচ্ছে না।’

তবে ‘চলমান সময়ে এটা অবশ্যই একটা দারুণ খবর। এটা অবশ্যই আশাব্যঞ্জক’ বলে মন্তব্য করেন পরিকল্পনামন্ত্রী এম এ মান্নান।

তিনি বলেন, ‘এশীয় প্যাসেফিক অঞ্চল নিয়ে এডিবির জ্ঞান অনেক, যথেষ্ট তথ্যও তাদের আছে। অতীতেও বাংলাদেশের প্রবৃদ্ধি নিয়ে যে ভবিষ্যত বাণী তারা করেছে বিশ্বব্যাংকের তুলনায় এডিবির বাণীই বাস্তবতার কাছাকাছি থেকেছে।’

এক প্রশ্নের জবাবে পরিকল্পনামন্ত্রীর কথায় কিছুটা দুশ্চিন্তার আভাসও মেলে।

তিনি বলেন, ‘বর্তমান পরিস্থিতি যদি দুই তিন সপ্তাহেও ঠিক হয়, তাহলে পুরোটা গুছিয়ে আগের জায়গায় নিয়ে আসা কিছুটা সময়ের ব্যাপার। কৃষিখাত নিয়ে আমাদের ভয় নেই। এ খাত ভালো করছে।’

‘তবে পোশাকসহ অন্যান্য শিল্পের উৎপাদন হলেও রফতানি কমে যেতে পারে, সেটাই দুশ্চিন্তা। কারণ, কারা কিনবে ক্রেতা থাকতে হবে তো’ বলেন এম এ মান্নান।

অবশ্য ম্যানিলাভিত্তিক ঋণদাতা সংস্থা এডিবি জানায়, গত আট মাসে বাংলাদেশের অর্থনীতি ভালো ছিল। সরকারের ব্যয় বৃদ্ধি, তরলীকৃত গ্যাস, তেল ও কন্সট্রাকশন পণ্যের আমদানি বৃদ্ধি, অধিক বিদ্যুৎ উৎপাদন ও রফতানিতে সরকারের প্রণোদনার জন্য অভ্যন্তরীণ চাহিদা বৃদ্ধি পেয়েছিল।’

কিন্তু করোনা ভাইরাসের প্রভাবে রফতানি ও প্রবাসী আয় কমে যাবে, কমবে মানুষের ভোগও।

প্রতিবেদনে চলতি অর্থবছরে প্রবৃদ্ধি কমার জন্য দ্রুত বর্ধনশীল তৈরি পোশাকের রফতানির বড় বাজারগুলো থেকে চাহিদা কমাকে অন্যতম কারণ হিসেবে দেখানো হয়। তবে বিশ্বজুড়ে ভোক্তাদের মধ্যে আস্থার উন্নয়ন হলে ২০২১ সালে প্রবৃদ্ধি কিছুটা এগিয়ে ৮ শতাংশে উঠতে পারে বলে আশা প্রকাশ করছে ঋণদাতা এ সংস্থাটি।

তবে এডিবির বাংলাদেশের কান্ট্রি ডিরেক্টর মনমোহন প্রকাশ বলেন, ‘করোনার বৈশ্বিক মহামারির প্রভাবে বাংলাদেশের অর্থনীতির ০.২ শতাংশ থেকে ০.৪ শতাংশ ক্ষতি হতে পারে। তবে করোনার বিস্তার যদি আরও বেশি হয় সে ক্ষেত্রে ক্ষতি পরিমাণ হয়ত আরও বাড়তে পারে।’

করেনার আরও তথ্য পাওয়া গেলে এই আউটলুক হালনাগাদ করা হবে জানিয়ে মনমোহন প্রকাশ বলেন, করোনা ভাইরাসের অভিঘাত মোকাবিলা ও প্রশমনে বাংলাদেশকে সহায়তা দিতে ও সহযোগিতা করতে তার সংস্থা প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।

পিবিএ/এমআর

আরও পড়ুন...