আন্তর্জাতিক অভিবাসী দিবস উদযাপন!

কর্তাবাবুদের মর্যাদা নাকি অভিবাসীর মর্যাদা?

আল-আমিন নয়ন : আন্তর্জাতিক অভিবাসী দিবস উপলক্ষে পালিত হলো জাতীয় পর্যায়ে অনুষ্ঠান। অনুষ্ঠানে অংশগ্রহনের জন্য সকাল ৮টা আমিসহ ১২ বিদেশ ফেরত অভিবাসী নারী ও পুরুষ কর্মী, যারা সেচ্ছাসেবক হিসাবে কাজ করছেন অভিবাসী কর্মীদের জীবন-মান উন্নয়নে ও মর্যাদা প্রতিষ্ঠায়।

আজকের উদ্দেশ্য আমাদের অধিকার নিয়ে কথা বলতে এতো আয়োজন, আজকের দিনে আমাদেরইতো মর্যাদা প্রতিষ্ঠার জন্য বড় বড় কর্তাবাবুরা হাজিরা দিতে অনুষ্ঠান স্থলে। হাজারো মানুষের লাইনে দাড়িয়ে প্রথম নিরাপত্তা বেষ্টনী পার হয়ে দ্বিতীয় ও তৃতীয় বেষ্টনী, আমার সাথে আমন্ত্রণ পত্র হাতে ১২ রেমিট্যান্স যোদ্ধা, শেষ বেষ্টনীতে ৪ জনকে আটকে দিলেন নিরাপত্তা কর্মীরা কারন তাদের সাথে জাতীয় পরিচয় পত্র নেই, কিন্তু আমন্ত্রণ পত্রে নামের সাথে লেখা বিদেশ ফেরত কর্মী, কোন তেই ছাড় নেই, অংশগ্রহণ করতে দেওয়া হলোনা অনুষ্ঠানে, নেওয়া হলো তাদের একটি রুমে, অনুষ্ঠান শেষে মুক্ত করা হবে তাদের, মনেহয় তারা কোন বড় অপরাধ করেছেন, আমন্ত্রণ পত্রে উল্লেখ্য ছিলোনা যে জাতীয় পরিচয় পত্র সাথে আনতে হবে, তবে কেন এমন আচরণ।

তাতেই শেষনা, আমিসহ বাকি ৮ অভিবাসী কর্মী প্রবেশ করতে গেলাম নিচের গ্যালারীতে, গেটেই থামিয়ে দেওয়া হলো আমাদের বলা হলো নিচে ভিআইপি ও বিভিন্ন সরকারী ও বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের ব্যক্তিদের জন্য নির্ধারিত স্থান, আপনারা উপরের সাধারণ গ্যালারীতে বসুন, বললাম আমরা অভিবাসী কর্মী, উত্তরে বলল তাতে কি হয়েছে, কথা না বলে দ্রুত এখান থেকে চলে যান, কোন উপায়ন্তর না পেয়ে আমরা উপরে গিয়ে আসন গ্রহন করলাম, নিচে দেখি বিভিন্ন কর্তাবাবু, রিক্রুটিং এজেন্সির মালিক ও কোর্ট পরা ভদ্রলোক, ভাবলাম ও আমরাতো কোর্ট পরা ভদ্রলোক না, তাহলে ওখানে কি ভাবে যাবো।

উপর থেকে দেখি সাংবাদিক, ভিআইপিদের জন্য বসার আসনের সামনে ট্যাগ দেওয়া আছে কিন্তু কোথাও দেখলাম না যে এটা অভিবাসীদের জন্য নির্ধারিত স্থান। নিজেদেরকে বড়ই অসহায় মনে হলো। কার মর্যাদার কথা বলতে এতো বড় আয়োজন, কাদের জন্য এতবড় অনুষ্ঠান? নিজের মন্ত্রণালয় তো মর্যাদা দেয়না তাহলে বিদেশে গিয়ে ভিনদেশিদের কাছ থেকে কিভাবে মর্যাদা আশাকরি।

তাই বলি দেশে আগে মর্যাদা নিশ্চিত করুন, এমন অনুষ্ঠানে অভিবাসীদের জন্য নির্ধারিত স্থান রাখুন, যাতে ভিআইপি/কর্তাবাবুরা বুঝতে পারে এরাই রেমিট্যান্স যোদ্ধা আর এদের জন্য আজ এতো আয়োজন।

লেখক, অভিবাসী কর্মী।

আরও পড়ুন...