কলাপাড়ায় অবহেলিত জনপদ চম্পাপুর ইউনিয়ন

উত্তম কুমার হাওলাদার,কলাপাড়া (পটুয়াখালী): পটুয়াখালীর কলাপাড়ায় অবহেলিত জনপদের নাম চম্পাপুর ইউনিয়ন। এ ইউনিয়নে ৬০ কিলোমিটার রাস্তার মধ্যে মাত্র ৬ কিলোমিটার পাঁকা। তার মধ্যেও প্রায় ১ কিলোমিটার সড়কে খানাখন্দে ভরা। কোন কোন স্থানে বড় বড় গর্তের সৃষ্টি হয়েছে। আবার কোথাও কার্পেটিং উঠে গিয়ে দেবে গেছে। সামান্য বৃষ্টি হলেই জমে যায় পানি। এসব রাস্তা দিয়ে যানবান চালাতো দূরে কথা পায় হেটে চলাই দুস্কর হয়ে পড়েছে। আর অভ্যন্তরীন কাঁচা রাস্তাগুলোতে বর্তমানে হাটু সমান কাঁদা রয়েছে। এসব রাস্তার মাঝে চলাচলের জন্য স্থানীয়রা নিজ উদ্যোগে স্থাপন করেছে বাশের সাঁকো। তবে শুষ্ক মৌসুমে চলাচল করতে পারলেও বর্ষাকালে চরম ভোগান্তিতে পরে ওই ইউনিয়নের মানুষ। এমন চিত্র ফুটে উঠেছে উপজেলার চম্পাপুর ইউনিয়নে।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, পর্শ্ববর্তী বৃহত্তর ধানখালী ইউনিয়ন থেকে বিভক্ত হয়ে ২০১১ সালে ১২ টি গ্রাম নিয়ে এ ইউনিয়নটি গঠন হয় । এখানে ১২ টি সরকারি, ২ টি বে-সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়, ৩ টি মাধ্যমিক বিদ্যালয় ও ১ টি দাখিল মাদ্রাসাসহ একাধিক শিক্ষা প্রতিষ্ঠান রয়েছে। এ ইউনিয়নটিতে মোট ৩০ হাজার মানুষ বসবাস করছে। বিশাল এ জনবসতিপূর্ণ ইউনিয়নের ৬০ কিলোমিটার সড়কের মধ্যে ৫৪ কিলোমিটারই কাঁচা সড়ক। এছাড়া ইউনিয়ন পরিষদ থাকলেও তাও আবার একটি একচাল টিনের ঘর। সেখানে বসেই চলছে ইউনিয়নের সকল কার্যক্রম। তবে এসব রাস্তা-ঘাট পাঁকা করণ সহ সংশ্লিষ্ট স্থাপনা নির্মান করার দাবি জানিয়েছেন ভুক্তভোগি ইউনিয়নের বাসিন্দারা।

ওই ইউনিয়নের বাংলাবাজারের ব্যবসায়ি মো.নুরুল ইসলাম বলেন, রাস্তার যে অবস্থা তাতে উপজেলা সদর হতে মালামাল আনতে হিমশিম খেতে হয়। যে রাস্তাটুকু পাঁকা রয়েছে তাও ভাঙ্গাচুরা । ঝুঁকি নিয়ে রাস্তা দিয়ে চলাফেরা করতে হয়। রাস্তা মেরামত ও কাঁচা রাস্তা পাঁকা করার জন্য তারা যথাযথ কর্তৃপক্ষের দৃষ্টি কামনা করেন।

একই এলাকার বাসিন্দা আলতাফ গাজী বলেন, চম্পাপুর ইউনিয়নটি দীর্ঘদিন ধরে অবহেলিত অবস্থায় রয়েছে। দেশে এতো উন্নয়ন হচ্ছে, অথচ এ ইউনিয়নে তেমন কোন উন্নয়নের ছোয়া লাগেনি। এমন কথা বলেছেন ওই ইউনিয়নের আরো অনেকে।

বে-সরকারি উন্নয়ন সংস্থা আভাসের স্পন্সরশীপ অফিসার মো.আরিফুল ইসলাম বলেন, চম্পাপুর ইউনিয়নের প্রায় নব্বই ভাগই কাঁচা রাস্তা, যতটুকু পাকা রাস্তা আছে তা উচ্চ জোয়ারের কারনে ভেঙ্গে গিয়ে চলাচলের অযোগ্য হয়ে পড়েছে। বর্তমানে অসহনীয় দূর্ভোগ পোহাচ্ছে এ জনপদের মানুষ, যা এখনকার সময়ের প্রেক্ষাপটে অত্যান্ত দুঃখজনক।

ইউপি সদস্য মো. বাচ্চু মোল্লা বলেন, দীর্ঘ বছর ধরে অত্যান্ত অবহেলিত অবস্থায় রয়েছে এ ইউনিয়ন। বেড়িবাঁধ ভাঙ্গা থাকায় অতিরিক্ত জোয়ারের পানি প্রবেশ করে কাঁচা পাকা রাস্তা ঘাটগুলো ক্ষতবিক্ষত হয়ে গেছে। এ সকল ভাঙ্গা সড়ক পাঁকাকরন ও ইউনিয়নের কাঁচা রাস্তা পাকা করনের দাবি জানান।

চম্পাপুর ইউনিয়ন চেয়ারম্যান রিন্টু তালুকদার বলেন, ২০১১ সালে বৃহত্তর ধানখালী ইউনিয়ন বিভক্ত হয়ে চম্পাপুর ইউনিয়ন গঠিত হয়। এর পর থেকে রাস্তা ঘাট নির্মান ও মেরামতের জন্য উপজেলা পরিষদের মিটিংয়ে একধিকবার আলোচনা করে আসছি। কিন্তু কোনই লাভ হয়নি। তবে যথাযথ কর্তৃপক্ষ এ ইউনিয়নটির প্রতি সু-দৃষ্টি দিবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।

এবিষয়ে স্থানীয় সরকার উন্নয়ন এলজিইডি’র উপজেলা নির্বাহী প্রকৌশলী মো.মোহর আলী বলেন, ওই ইউনিয়নের পাঁকা সড়কটি সংষ্কারের প্রক্রিয়া চলছে। আরো কিছু সড়ক পাঁকা করনের প্রস্তাবনা দেয়া হয়েছে বলে তিনি সাংবাদিকদের জানিয়েছেন।

আরও পড়ুন...