কারাগারে সকালের নাস্তায় খিচুড়ি, সবজি রুটি ও হালুয়া

পিবিএ,ঢাকা: প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশে দেশের কারাগারগুলোতে পরিবর্তন এলো কারাবন্দীদের সকালের নাস্তার মেনুতে। ব্রিটিশ আমলে বন্দীদের জন্য নির্ধারিত রুটি-গুড়ের বদলে দেওয়া হবে মুখরোচক খাবার। প্রাতঃরাশে বন্দীরা সপ্তাহে দু’দিন ভুনা খিচুড়ি, চারদিন সবজি-রুটি এবং বাকি একদিন হালুয়া-রুটি পাবেন।

সোমবার (১৬ সেপ্টেম্বর) দুপুরে নারায়ণগঞ্জ জেলা কারাগারে মহাপরিদর্শক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল একেএম মোস্তফা কামাল পাশা বেশ কয়েকটি প্রকল্পের উদ্বোধন শেষে সংবাদমাধ্যমকে তিনি এ কথা জানান।

কারা মহা-পরিদর্শক আরো জানান, সারা দেশে কারাগারে ১শ’ ৪১ জন চিকিৎসকের পদ থাকলেও সেখানে মাত্র ৯ জনের পদায়ন হয়েছে। এ সংকট দূর করাসহ বন্দিদের চিকিৎসার মান উন্নয়নের জন্য সরকারের বিভিন্ন পর্যায়ে চেষ্টা করা হচ্ছে। ইতিমধ্যে এ ব্যাপারে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ও স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে গোলটেবিল বৈঠকও হয়েছে।

তিনি জানান, প্রধানমন্ত্রী এ বিষয়ে কঠোর নির্দেশনা দিয়েছেন। সেই নির্দেশনার আলোকে কাজ চলছে।

কারা মহা-পরিদর্শক বন্দিদের জীবনযাত্রার বিভিন্ন স্তরের মান উন্নয়নের বিষয় উল্লেখ করে আরো জানান, কারাগারে বন্দিরা জেল খাটছেন এমনটা যেন মনে না করেন সেই লক্ষ্যে প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশ অনুযায়ী দেশের কারাগারগুলোকে সংশোধনাগার হিসেবে রুপান্তর করা হচ্ছে। এছাড়া বন্দিদের খাবারের মানও উন্নত এবং তৃপ্তিদায়ক করা হয়েছে।

সকালের নাস্তা রুটি আর ১৪ গ্রাম গুড় পরিবর্তন করে খিচুড়ি, সবজি রুটি ও হালুয়া রুটি দেয়া হচ্ছে। উন্নতমানের খাবারের ত্রিশ টাকা বরাদ্দকে পাঁচ গুন বাড়িয়ে একশ’ পঞ্চাশ টাকা করা হয়েছে।

কারা অভ্যন্তরে পরিচ্ছন্ন কর্মীদের মাসিক ২০ টাকার পরিবর্তে তা বাড়িয়ে এখন ৫শ’ টাকা দেয়া হচ্ছে। কারা অভ্যন্তরে গার্মেন্ট ও জামদানী কারখানায় উৎপাদিত পণ্য সামগ্রী বিক্রয়ের লভ্যাংশের শতকরা ৫০ ভাগ কর্মরত বন্দিদের দেয়া হচ্ছে। এতে একদিকে যেমন তারা কাজ শিখছে অপরদিকে অর্থ উপার্জনও করছে।

এটি সরকারের একটি যুগান্তকারী পদক্ষেপ এবং বিরাট সাফল্য বলে তিনি মনে করেন। এতে বন্দিরা খুবই আনন্দিত ও প্রফুল্লতার সাথে বন্দি জীবনযাপন করছেন। এর পাশাপাশি তারা কারামুক্ত হয়ে সমাজে পুর্নবাসিত হওয়ারও সুযোগ পাচ্ছেন।

তিনি আরো জানান, সারা দেশে ব্যাপকহারে মানুষ ডেঙ্গু রোগে আক্রান্ত হলেও দেশের কোন কারাগারে ডেঙ্গুতে আক্রান্ত একজন রোগীও পাওয়া যায়নি। তিনি বলেন, বন্দি পুর্নবাসন সরকারের একটি ড্রিম প্রজেক্ট। আমরা প্রতিনিয়ত বন্দিদের কল্যাণে কাজ করে যাচ্ছি। সরকারের যে রূপকল্প রয়েছে বন্দিশালা উন্নততর হওয়ার মাধ্যমে বঙ্গবন্ধুর সোনার বাংলা স্বপ্ন বাস্তবায়নের পথে আমরা এগিয়ে যাচ্ছি।

এর আগে কারা মহা-পরিদর্শক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল একেএম মোস্তফা কামাল পাশা নারায়ণগঞ্জ জেলা কারাগারে নারী বন্দিরে শিশু সন্তানদের দেখাশোনার জন্য ডে কেয়ার সেন্টার, প্রিজন জেন্টস পার্লার, স্টুডিও, বন্দী প্রশিক্ষণ ও পুর্নবাসন কেন্দ্র এবং বন্দি ব্যারাকের উধ্বর্মুখী সম্প্রসারণ প্রকল্পের উদ্বোধন করেন। পরে কারা গার্মেন্টস রিজিলিয়ান্স, জামদানি তৈরীর কারখানা, লেডিস পার্লারসহ বিভিন্ন প্রকল্প পরিদর্শন করে কর্মরত বন্দিদের সাথে কুশল বিনিময় করেন।

এসময় উপস্থিত ছিলেন কারা অধিদপ্তরের ডিআইজি টিপু সুলতান, নারায়ণগঞ্জ জেলা কারাগারের জেল সুপার সুভাষ কুমার ঘোষ, জেলার শাহ রফিকুল ইসলাম, ডেপুটি মহিলা জেলার তানিয়া জামান প্রমুখ।

পিবিএ/ইকে

আরও পড়ুন...

ঘরে বসেই নিজের বিকাশ একাউন্ট খুলুন