কিংফিসার বারে অভিযান, গ্রেফতার ৩৫

রাজধানীর উত্তরা পশ্চিম থানার ১৩ নম্বর সেক্টরের গরীবে নেওয়াজ এভিনিউ এলাকার ৩৫ নম্বর বাড়ি। দিন গড়িয়ে আড্ডার কেন্দ্র বিন্দুতে থাকত এই বাড়িটি। দিনের আলো নিভে যাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে বাড়িতে প্রবেশ করত শত শত ছেলে মেয়ে। হিন্দি গান আর ডিজে পার্টির তালে তালে মেতে থাকত মদের নেশায়।

গোয়েন্দা পুলিশ বলছে, বাড়িতে প্রতিদিন অসামাজিক কর্মকাণ্ড চলত। স্থানীয় জনপ্রতিনিধিসহ অনেকেই অভিযোগ দেন।

সেই অভিযোগের ভিত্তিতে অভিযান চালিয়ে ম্যানেজারসহ ৩৫ জনকে গ্রেফতার করেছে গোয়েন্দা পুলিশ। বাড়িটি থেকে উদ্ধার করা হয়েছে বিপুল পরিমাণ দেশি, বিদেশি ব্রান্ডের ৫০০ বোতল মদ ও ছয় হাজার ক্যান বিয়ার।

এরই প্রেক্ষিতে গতকাল বৃহস্পতিবার রাত ৯টায় অভিযান চালায় ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি) উত্তরা বিভাগ।

গোয়েন্দা পুলিশের কর্মকর্তারা বাড়িটির সপ্তম তলায় গিয়ে দেখেন তরুণ-তরুণীদের হুরোহুরি। বাড়িটির বিভিন্ন ফ্লরে বিদেশি মদ ও বিয়ার মজুদের প্রমাণ পায় গোয়েন্দা পুলিশের সদস্যরা।

বিপুল পরিমাণ মদের উৎস সম্পর্কে জানতে চাইলে কথিত এই বারের কর্মকর্তারা কোনো সঠিক তথ্য জানাতে ব্যার্থ হন।

শুক্রবার দুপুরে রাজধানীর মিন্টো রোডে ডিএমপি মিডিয়া সেন্টারে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এ তথ্য জানান গোয়েন্দা পুলিশের অতিরিক্ত কমিশনার মোহাম্মদ হারুন অর রশীদ।

তিনি জানান, কথিত ‘কিং ফিশার’ বারে অভিযান চালানো হয়। অভিযানে ৩৫ জনকে গ্রেফতার করা হয়। গ্রেফতারকৃত আসামিসহ বার মালিকের মুক্তার হোসেনসহ ৩৮ জনের বিরুদ্ধে মাদক নিয়ন্ত্রণ আইনে মামলা দায়ের করা হয়েছে। এই মামলায় তাদের আদালতে পাঠিয়ে রিমান্ড আবেদন করা হবে।

ভবনটিতে এই কার্যক্রম কি ব্যানারে চলতো প্রশ্ন করা হলে ডিবি প্রধান বলেন, কিংফিশার রেস্টুরেন্টে নামে এই ভবনের এসব কার্যক্রম চলতো।

কথিত এই বারের মালিক মুক্তার হোসেন নামে এক ব্যক্তি। মুক্তারের নারায়নগঞ্জ, উত্তরা, মিরপুরসহ বেশ কয়েকটি বার রয়েছে।

মুক্তার হোসেনের কাছে বারের কয়টি লাইসেন্স জানতে চাইলে তিনি বলেন, আমরা গতকাল যেই ভবনটিতে অভিযান চালিয়েছি সেখানের ম্যানেজারকে জিজ্ঞাসাবাদ করেছি। ম্যানেজার আমাদের বলেছেন মুক্তার মিরপুর, গুলশান ও নারায়ণগঞ্জেসহ ৫ টি বার চালায়। সেগুলো একই লাইসেন্সের কিনা সেটা আমরা জানি না। তবে গতকাল আমরা উত্তরার যে ভবনটিতে অভিযান পরিচালনা করেছি সেখানে কিংফিশার রেস্টুরেন্টের নামে এসব কার্যক্রম চলতো।

ম্যানেজারের বরাত দিয়ে গোয়েন্দা প্রধান আরও জানান, মুক্তার ২০০৮ সালের দিকে বারিধারায় বেবিলিয়ন নামে একটি রেস্টুরেন্টে ওয়েটার হিসেবে কাজ করতেন। লেকভিউ নামে গুলশান-২ একটি রেস্টুরেন্টে ছিল সেখানেও সে কাজ করতো ওয়েটার হিসেবে। বারের ওয়েটার থেকে এখন শতকোটি টাকার মালিক মুক্তার। রাজধানীসহ যুক্তরাষ্ট্রে রয়েছে বাড়ি-গাড়ি। সেখানে তার স্ত্রী ও সন্তান বসবাস করে। তবে মুক্তারের অবস্থান সম্পর্কে কিছু জানাতে পারেনি গোয়েন্দা পুলিশ।

মামলায় প্রতিষ্ঠানটির কোন পর্যায়ের কর্মকর্তাদের অভিযুক্ত করা হয়েছে জানতে চাইলে তিনি বলেন, মালিক ও ম্যানেজারসহ অনেকে মামলায় আসামি করা হয়েছে।

গ্রেফতার ৩৫ জনের মধ্যে প্রতিষ্ঠান সংশ্লিষ্ট কয় জন জানতে চাইলে তিনি বলেন, এ বিষয়গুলো আমরা যাচাই-বাছাই করছি।

এই কর্মকাণ্ডে সঙ্গে বাংলাদেশী বংশোদ্ভূত এক কোরিয়ান নাগরিক জড়িত কিনা প্রশ্ন করা হলে তিনি বলেন, এ বিষয়ে আমরা যাচাই-বাছাই করছি।

উত্তরার কথিত বারটিতে গোয়েন্দা কর্মকর্তাদের যাতায়াত ছিল। তাদের অভ্যন্তরীণ কোন্দলের কারণে সেখানে অভিযান পরিচালনা করা হয়েছে বলে প্রশ্ন করা হলে তিনি বলেন, কাদের যাতায়াত ছিল সে বিষয়ে আমরা তদন্ত করব। পরে বিস্তারিত জানানো হবে।

আরও পড়ুন...