কুড়িগ্রামে বিদেশফেরতদের তালিকায় গরমিল

পিবিএ,কুড়িগ্রাম: করোনা নিয়ে দেশব্যাপি সতর্কতা ও প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা গ্রহন করা হলেও কুড়িগ্রামে বিদেশ ফেরতদের তালিকা নিয়ে রয়েছে সংশয় ও গড়মিল। ফলে কতজন বিদেশ ফেরত হোম কোয়ারেন্টাইনের আওতায় আসেনি সে ব্যাপারে নিশ্চিত নয় স্বাস্থ্যবিভাগ।

বিভিন্ন প্রাপ্ত সূত্রে জানা গেছে, ইমিগ্রেশন সূত্রে জেলায় বিদেশফেরতের তালিকা করা হয়েছে ৬৮৩ জন। অপরদিকে প্রধানমন্ত্রীর অফিস সূত্রে প্রশাসনের কাছে তালিকা রয়েছে ৬২৫ জন। এদের মধ্যে মাত্র ৩৩১ জনের পাওয়া তথ্যে তাদেরকে হোম কোয়ারান্টাইন নিশ্চিত করা গেলেও বাকিদের নিয়ে তৈরি হয়েছে সংশয়।

সিভিল সার্জন কার্যালয় সূত্রে জানা যায়, জেলায় হোম কোয়ারান্টাইন শেষে ২৬০জন বিদেশফেরত ব্যক্তি অবমুক্ত হলেও এখনো ৭১জন হোম কোয়ারান্টাইনে রয়েছে। এরমধ্যে সদরে-৯জন, নাগেশ্বরী-৭জন, ভূরুঙ্গামারী-১৭জন, ফুলবাড়ি-৬জন, রাজারহাট-৭জন, উলিপুর-৭জন, চিলমারী-৪জন, রৌমারী-১১জন, রাজিবপুরে-৩জন।

যারা ১৪ দিন বাড়িতে কোয়ারাইন্টিনে থাকার পর তাদের মাঝে কোভিট-১৯ বা করোনা ভাইরাসের কোন উপসর্গ না থাকায় জেলা স্বাস্থ্য বিভাগ তাদেরকে ছাড়পত্র দেয়। ছাড়পত্র পাওয়া এসব ব্যক্তিদের পরিবার এবং অন্য সদস্যদের সাথে মেলামেশার কোন বাধা নেই। জেলা ও উপজেলা প্রশাসন এবং স্বাস্থ্য বিভাগের পক্ষ থেকে বিদেশ এবং ঢাকা ফেরতদেরকে বাধ্যতামূলকভাবে হোম কোয়ারান্টাইনে থাকতে বাধ্য করা হচ্ছে। ইতোমধ্যে এসব হোম কোয়ারান্টাইনে থাকা ব্যক্তিদের বাড়ি-বাড়ি লাল পতাকা (নিশানা) টাঙ্গিয়ে দিয়েছে প্রশাসন।

সিভিল সার্জন ডাঃ হাবিবুর রহমান বলেন, জেলায় বিদেশ ফেরত ৫৪০জন ব্যক্তির তালিকা পাওয়া গেছে। তাদের অনেকের হোম কোয়রান্টাইন আগেই শেষ হয়েছে। এর মধ্যে ১৫ মার্চ থেকে ৩১ মার্চ পর্যন্ত ৩৩১ জনের মধ্যে ২৬০ জনের হোম কোয়ারাইন্টাইন হতে অবমুক্ত করা হয়েছে।

তিনি আরও বলেন, জেলায় এখন পর্যন্ত কোভিড-১৯ বা করোনা ভাইরাসের কোন লক্ষণ না পাওয়ায় যায়নি।

পুলিশ প্রশাসনের প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী ইমিগ্রেশন থেকে জেলার ১১টি থানায় ১ মার্চ থেকে ৩১ মার্চ পর্যন্ত ৬৮৩ জন বিদেশ ফেরতের তালিকা এসেছে। এদের মধ্যে প্রায় ৬০০ জনের পাসপোর্টের সন্ধান মিললেও ৪২৯ জনের ঠিকানা সনাক্ত করা গেছে। বাকি ১৮৪ জনের খোঁজ পেতে নানা ধরনের ভোগান্তিসহ বেগ পেতে হচ্ছে আইন শৃংখলা বাহিনীকে।

নাম প্রকাশ্যে অনিচ্ছুক আইন শৃংখলা বাহিনীর বিভিন্ন সংস্থার প্রতিনিধিগণ বলেন, জেলায় বিদেশ ফেরতদের তালিকায় পূর্ণাঙ্গ ঠিকানা না থাকায় তাদের খুঁজে বের করতে বেগ পেতে হচ্ছে। এখানে চরাঞ্চলের সংখ্যা বেশি এবং দুর্গম এলাকায় যোগাযোগ ব্যবস্থা নাজুক হওয়ায় সমস্যাটি বেশি দেখা দিয়েছে। তবে আমরা জনপ্রতিধিদেরসহ কাজ করছি বিদেশ ফেরতদের খোঁজ পেতে।

এই বিষয়ে পুলিশ সুপার মহিবুল ইসলাম খান জানান, আমরা তালিকা অনুযায়ী বিদেশ ফেরতদের খোঁজখবর নিচ্ছি। পাসপোর্টে অনেকের ঠিকানা কুড়িগ্রাম দেয়া থাকলেও তাদের মধ্যে অনেকেই জেলার বাইরে অবস্থান করছে। তারপরেও আমরা সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে বিদেশ বা ঢাকা ফেরতদের হোম কোয়ারান্টাইন নিশ্চিত করছি। তবে বিদেশ ফেরতদের যাদের সন্ধান পাওয়া যায়নি বা তারা যোগাযোগ করছে না তাদের বিরুদ্ধে আইনী ব্যবস্থা নেয়া হবে।

অপরদিকে জেলা প্রশাসন কার্যালয় সূত্রে জানা যায়, প্রধানমন্ত্রীর অফিস থেকে কুড়িগ্রামে বিদেশ ফেরত ৬২৫ জনের একটি তালিকা এসেছে।
পিবিএ/মমিনুল ইসলাম বাবু/এএম

আরও পড়ুন...