খবর নিতে চোখ রাখছেন মোবাইলে!

পিবিএ,আখাউড়া:সারা দেশের ন্যায় ব্রাহ্মণবাড়িয়ার আখাউড়ায় করোনা ভাইরাসের আতঙ্ক বিরাজ করছে । করোনাভাইরাস সংক্রমণের আতঙ্কে জরুরী প্রয়োজন ছাড়া কেউ ঘর থেকে বের হচ্ছে না। ইতিমধ্যে সরকারি নির্দেশনায় করোনা ভাইরাস বিস্তার রোধে সতর্কতামূলক ব্যবস্থা হিসেবে পৌর শহরসহ উপজেলার সর্বত্র হাট-বাজারে ছোট বড় শত শত ব্যবসা প্রতিষ্ঠান বন্ধ রয়েছে।

এদিকে করোনাভাইরাসের প্রভাব পড়েছে পত্রিকাতেও। গত ১ সপ্তাহের উপরে চলছে এ উপজেলায় জাতীয়সহ কোন পত্রিকায় আসছে না। নিয়মিত পাঠকরা সময়মতো পত্রিকা না পেয়ে টেলিভিশন বা স্যাটেলাইট চ্যানেল ও অনলাইনের মাধ্যমে মোবাইল ফোনে খবরা খবর জানা শুরু করেছেন। শহরসহ গ্রামের বেশী ভাগ লোকজন খবরের জন্য ওই দুটিকেই যেন তারা বেছে নিয়েছে। বিদ্যুৎ ও নেট সুবিধা ভাল থাকায় নানা বয়সী লোকজন দেশ-বিদেশের খবরসহ সম্প্রতিক করোনাভাইরাসের বর্তমান পরিস্থিতির খবর সম্পর্কে তারা অবগত হচ্ছেন।

খোঁজ নিয়ে জানা যায়, এ উপজেলার প্রতিদিন দেশের জাতীয় দৈনিক পত্রিকা ৮শ’র উপরে আসতো। দোকান পাট অফিস আদালত, বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানসহ বাসা বাড়িতে লোকজন ওই পত্রিকা রাখা হত। সেই সাথে রয়েছে ম্যাগাজিন, সাপ্তাহিক, পাক্ষিক,মাসিক পত্রিকা। সব মিলিয়ে এলাকায় পত্রিকার ভাল পাঠক রয়েছে। কিন্তু করোনার কারণে পত্রিকা আসা বন্ধ হওয়ায় পাঠকরা অনেকটাই পড়েছে বিপাকে। তাই তারা খবর নিতে চোখ রাখছেন টেলিভিশন বা স্যাটেলাইট চ্যানেল ও অনলাইনের মাধ্যমে মোবাইল ফোনে খবরা খবর রাখছেন।

পৌর শহরসহ উপজেলার তারাগন, দেবগ্রাম, খড়মপুর,মোগড়াসহ বেশ কয়েকটি এলাকায় গিয়ে দেখা যায় কারোনাভাইরাসের কারণে তারা শহরে না আসলেও, বাসা বাড়িতে , গ্রামের মোড়ে মোড়ে কিংবা বিভিন্ন স্থানে বসে গল্প করছেন। যাদের বাড়িতে টেলিভিশন বা স্যাটেলাইট চ্যানেল নেই তারা পাশের বাড়িতে গিয়ে সকাল বিকাল দেশ-বিদেশের খবর শুনছেন। আবার কেউ কেউ নিয়মিত মোবাইলের মাধ্যমে জানার চেষ্টা করছেন।

পৌর এলাকার তারাগনের চিকিৎসক ডা: ইমাম খান বলেন, ছোট বেলা থেকেই পত্রিকা পড়ার প্রতি নেশা। তাই প্রতিদিন ১টা জাতীয় দৈনিক পত্রিকা বাড়িতে আনা হতো। বাড়িতে সবাই পত্রিকা পড়তান। কিন্তু বেশ কয়েক দিন ধরে পত্রিকা না আসায় খুবই খারাপ লাগছে। তাই এখন বসে মোবাইল কিংবা টেলিভিশনের মাধ্যমে খবর জানার চেষ্টা করছি।

মো. লিয়াতক হোসেন বলেন, পত্রিকা না পড়লে খুবই খারাপ লাগে। বিশ্বজুড়ে যে অবস্থা খবর জানতে মনটা অস্থির হয়ে থাকে। তাই পাশের বাড়িতে খবর শুনতে যাওয়া হয়।

কলেজ শিক্ষার্থী শিব্বির আহমেদ বলেন, এখন ইন্টারনেটের যুগ হওয়ায় অনলাইনের মাধ্যমে টিভিসহ বিভিন্ন পত্রিকা পড়া হয়। তাছাড়া খবর জানতে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুক ও নিয়মিত দেখা হয় বলে জানায়।

আখাউড়া প্রেস ক্লাবের সভাপতি আলহাজ্ব রফিকুল ইসলাম বলেন মানুষের খবর জানার একটি বড় মাধ্যম হচ্ছে পত্রিকা। দেশ বিদেশে কখন কী হচ্ছে কী ঘটছে তা জানা যাচ্ছে পত্রিকার মাধ্যমে। সম্প্রতিক পত্রিকা না আসার কারণে এখন মোবাইল কিংবা টেলিভিশন দেখে খবর জানতে পারছি। করোনা ভাইরাস যে ভাবে সারা বিশ্বে আতঙ্ক সৃষ্টি করেছে সেই কারণে মানুষ খবর জানার বেশি আগ্রহী হয়ে উঠেছে।

আখাউড়া পত্রিকার এজেন্ট আব্দুল মমিন বাবুল বলেন, এ উপজেলায় জাতীয় দৈনিক পত্রিকার চাহিদা বেশ ভাল রয়েছে । যোগাযোগ ব্যবস্থা বন্ধ থাকা ও বর্তমানে করোনাভাইরাসের কারণে হকাররা বিক্রিতে অনিহা থাকায় সাময়ীক বন্ধ রাখা হয়েছে। তাই পাঠকরা পত্রিকা পাচ্ছেন না।
পিবিএ/কাজী সুহিন/এএম

আরও পড়ুন...