গাজীপুরে উন্নয়ন এবং সংগঠন সর্বত্র জাহাঙ্গীর


শতাব্দী আলম: ‘যখন মানুষ বলবে পাগল তখনই বুঝবে সফল।’ একজন মানুষ তার কাজে-কর্মে সফল তা কিভাবে বুঝবো! একথা জানতে চেয়েছিলাম মানিকগঞ্জ জেলায় তেরশ্রী কলেজের প্রিন্সিপাল কবি ঈমান আলী স্যারের কাছে, তিনি উত্তরে একথা বলেছিলেন। সত্যিইতো ভালবাসার শ্রেষ্ঠ নজির লায়লির প্রেমে পাগল মজনুর কথা কে না জানে। আর পৃথিবীর সফল মানুষগুলো কাজের জন্য পাগল ছিলো বলেই আমরা আধুনিক বিশ^ পেয়েছি। রাজনীতিতে পৃথিবীর শ্রেষ্ঠ নজির জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান নিজ জাতির মুক্তির জন্য পাগল ছিলেন। তাঁর ধ্যানজ্ঞান ছিলো বাঙালি জাতির মুক্তি। বিজ্ঞানী আইনষ্টাইন গবেষণা কাজে এতটাই মগ্ন থাকতেন, বিরক্ত স্ত্রী তাকে ছেড়ে যায়। যে কেহ আইনষ্টাইনের উস্কুখুসকু চুল ও দাড়ি-গোঁফ দেখলে পাগল না বলে পারবেই না। আমাদের জাতীয় কবি নজরুল সারাটা জীবন বাউন্ডেলেভাবেই কাটিয়েছেন। পৃথিবীর ইতিহাস ঘাটলে এমন ভুরি ভুরি নজির পাওয়া যাবে।
একথা হলফ করে বলতে পারি জাহাঙ্গীর আলম একজন পুরোদস্তুর কাজ পাগল মানুষ। কি নিজের কাজ অথবা জনগণের কাজ। কাজের আবার অনেক ধরন আছে। ব্যবসা-বাণিজ্য, রাজনীতি, সমাজসেবা, উন্নয়ন এমনকি ধর্মকর্মও কাজেরই অংশ। প্রতিটি কাজই জাহাঙ্গীর আলম অত্যন্ত গুরুত্বসহকারে করেন। আর যখন কোন কিছু শুরু করেন সেই কাজ সঠিকভাবে সম্পন্ন করতে পাগল হয়ে যান। তার সাথে বা আশপাশে যারাই তার সাথে কাজে জড়িত থাকে একথা কমবেশী সবাই একবাক্যে স্বীকার করবেন।

গাজীপুর মহানগর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক হন মাত্র ৩৬ বছর বয়সে। তার সমবয়সী এবং সমকালিন সবাই যুবলীগে একটি থানা বা ওয়ার্ডের পদ পেতে মরিয়া। রাজনীতিতে ব্যক্তি জাহাঙ্গীর আলম খুব দ্রুতই সফলতার সিড়িতে পা রেখেছেন একথা বলাই যায়। জাহাঙ্গীর আলমকে নিয়ে করা বঙ্গবন্ধু কন্যা মানবতার জননী জননেত্রী শেখ হাসিনার সেই উক্তি ‘‘গাজীপুরে একটি চারা গাছ রোপণ করেছি সেই চারা জাহাঙ্গীর আলম’’ আমি বাঁধাই করে রেখেছি। শেখ হাসিনার চারাগাছ জাহাঙ্গীর বাংলাদেশের রাজনীতিতে তরুনদের আইকন। বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের মত বৃহৎ একটি সংগঠন উজ্জিবিত করতে জাহাঙ্গীরের মত অতন্দ্র প্রহরী দরকার ছিলো। তার নেতৃত্বে গাজীপুর মহানগরের ৫৭ ওয়ার্ড আওয়ামী লীগ সাংগঠনিক কমিটি করা হয়েছে। ক্ষমতাসীন দলের কমিটি গঠন নিয়ে অনেক মতবিরোধ প্রতিদ্বন্দীতা থাকবে এটাই স্বাভাবিক। সাথে আরো একটি বিষয় বেশ আলোচিত তা হচ্ছে কমিটি বাণিজ্য। গাজীপুর মহানগরের ওয়ার্ড কমিটিতে আসতে কোন নেতারই একটি টাকাও খরচ হয়নি। অথচ যুবলীগের কমিটিতে নাম লেখাতে গাজীপুরের অনেক পদপ্রত্যাসী লাখ লাখ টাকা লগ্নি করেছে এ কথা সবাই জানি। জাহাঙ্গীর আলম মহানগর সাধারণ সম্পাদক হিসেবে দুইবছর নিজে ওয়ার্ডে ওয়ার্ডে ঘুরে ঘুরে দলের জন্য নিবেদিত প্রাণ নেতাদের খোজে বের করেছেন। যোগ্যতা ও বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের জন্য ত্যাগীদের মূল্যায়ন করেছেন। এর জন্য কারো কোন মূল্য দিতে হয়নি। শুধু কমিটি কেন ?

গাজীপুরে আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক যে কোন সভা-সমিতি বা মিছিল মিটিং জাহাঙ্গীরের আর্থিক সহযোগীতায় হয়। রাজনীতিতে এটাই জাহাঙ্গীর আলমকে অন্যদের থেকে আলাদা করেছে। গাজীপুর মহানগর আওয়ামী লীগের আকাশে বাতাসে তাই এখন জাহাঙ্গীরের জয়জয়কার। বঙ্গতাজ শহিদ তাজ উদ্দিন আহমদ, ভাওয়াল বীর শহিদ আহসান উল্লাহ মাষ্টার, প্রথম প্রতিরোধ যুদ্ধের জীবন্ত কিংবদন্তী আ ক ম মোজাম্মেলের যোগ্য উত্তরসুরী জাহাঙ্গীর আলম। দ্বিতীয় গোপালগঞ্জ খ্যাত গাজীপুর পেয়েছে তার যোগ্য ভুমিপুত্র। বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের রাজনীতিতে ৬৪ জেলায় কমিটি গঠন বা সাংগঠনিক কাজে গাজীপুর অনুকরণীয় দৃষ্টান্ত হিসেবে পরিগণিত হবে। গাজীপুর মহানগর সাধারণ সম্পাদক হিসেবে জাহাঙ্গীর আলমের কমিটি গঠন প্রকৃয়া কেন্দ্রীয় নেতৃবৃন্দের কাছেও বাহবা পেয়েছে। তার পাশে থেকে একজন অভিভাবকের মত দিক নির্দেশনা দিয়েছেন মহানগর সভাপতি অ্যাডভোকেট মোঃ আজতম উল্লা খান। সাংগঠনিক সফরে মির্জা আজম এমপি গাজীপুরের সাংগঠনিক পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করে অত্যন্ত খুশি। মহানগর নেতৃবৃন্দের সাংগঠনিক ভুমিকায় সন্তুষ্টির বিষয়টি কেন্দ্রীয় সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদেরের কথাতেই স্পষ্ট।

সুষ্ঠু এবং সুন্দর সমাজ গঠনে মানুষই চালিকাশক্তি। যে মানুষের ধ্যানজ্ঞান কাজ। তিনি সফল হবেনই। মেয়র হিসেবে জাহাঙ্গীর আলমের সফলতার কথা বলার সময় এখনো আসেনি। তবে একথা দুই চোখে তাকালেই বলা যায় গাজীপুরে উন্নয়ন চলছে জোড়েসোড়ে। এক্ষেত্রেও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা গাজীপুরের প্রতি বিশেষ সুদৃষ্টি দিয়েছেন। একক সিটি হিসেবে গাজীপুরে সর্বোচ্চ আর্থিক বরাদ্দ দেয়া হয়েছে। টঙ্গী থেকে কাউলতিয়া, পুবাইল থেকে কোনাবাড়ি নগরের ৫৭ ওয়ার্ডেই উন্নয়নের মহাযজ্ঞ। গাজীপুর সিটি কর্পোরেশনের বরাদ্দ ছাড়াও বনানী থেকে গাজীপুর চৌরাস্তা পর্যন্ত এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ে নির্মাণ দ্রুত গতিতে এগিয়ে চলছে। রাস্তা প্রশস্ত করন নিয়ে জনমনে কৃত্রিম ক্ষোভ সৃষ্টির চেষ্টা ছিলো। কিন্তু জনসাধারণ ঠিকই অনুধাবন করেছে রাস্তা প্রশস্ত হলে প্রকারান্তরে তাদেরই লাভ। নবনির্মিত প্রশস্ত রাস্তা হতেই জনসাধারণের বাহবা পাওয়া যাচ্ছে। বাংলাদেশের সবদিকে শেখ হাসিনা সরকারের উন্নয়নের জয়জয়কার। বিশে^ বাংলাদেশ উন্নয়নের রোল মডেল। আর বাংলাদেশে গাজীপুর সিটি হবে উন্নয়নের রোল মডেল। এটা এখন আর স্বপ্ন নয়। বাস্তবতার রেখা দৃশ্যমান। গাজীপুরকে কেন বাংলাদেশে উন্নয়নের রোল মডেল বলা হচ্ছে তা একটি লেখায় প্রকাশ সম্ভব না। একবার আসুন দেখে যান। পথিক হয়ত গাড়িতে বসে থমকে থমকে পথ চলায় বিরক্ত হবেন। না আপনার এই বিরক্তির কারন হচ্ছে উন্নয়ন। শেখ হাসিনার উন্নয়ন। প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশে টেকসই উন্নয়নে মেয়র বদ্ধপরিকর।

নিজে দাড়িয়ে থেকে মেয়র জাহাঙ্গীর আলম কাজ তদারকি করেন। গাজীপুরের পথে প্রান্তরে জাহাঙ্গীর আলম মাইলের পর মাইল কাজ তদারকিতে যত দৌড়াচ্ছেন তা যোগ করলে পৃথিবী বেড় দেয়া যাবে। উন্নয়ন, সংগঠন এবং জাহাঙ্গীর একসূত্রে গাঁথা। জয়বাংলা।

লেখক : সাংবাদিক ও সাহিত্যিক

আরও পড়ুন...