গ্রামগঞ্জের মানুষ খেতে পারছে, গায়ে জামাকাপড়ও আছে: মন্ত্রী

দেশে কিছুটা সংকট থাকলেও মানুষ ভালোই আছে বলে মনে করেন স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায়মন্ত্রী তাজুল ইসলাম। এ কথা মনে করার কারণ হিসেবে তিনি বলেছেন, গ্রামগঞ্জের কোনো মানুষ না খেয়ে নেই। প্রত্যেক মানুষের গায়ে জামাকাপড় আছে।

তেলের দাম লিটারে ৩৪ থেকে ৪৬ টাকা পর্যন্ত বাড়ানোর বিষয়ে মন্ত্রী বলেছেন, ‘সরকারকে ভেবেচিন্তে সিদ্ধান্ত নিতে হয়। কথায় কথায় ভর্তুকি দিলে অন্য খাতে ইনব্যালেন্স চলে আসবে।’

তিনি এও বলেন, ‘যেই প্রজেক্ট আমাকে দুঃসময়ে দুর্দিনে সার্ভিস দেবে, একটু কষ্ট করে সেই কাজ যদি আমি না করি, তাহলে তো আমি সারা জীবনই দরিদ্র থাকব।’

বুধবার ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটিতে ‘নিত্যপণ্য ও জ্বালানি তেলের মূল্যবৃদ্ধি: জনজীবনের চ্যালেঞ্জ’ বিষয়ে এক সংলাপে যোগ দিয়ে এসব কথা বলেন মন্ত্রী। এর আয়োজক ছিল করে নগর উন্নয়ন সাংবাদিক ফোরাম, বাংলাদেশ।

দেশের সক্ষমতা বেড়েছে দাবি করে মন্ত্রী বলেন, ‘গ্রামগঞ্জের কোনো মানুষ না খেয়ে নেই। প্রত্যেক মানুষ খেতে পারছে। প্রত্যেক মানুষের গায়ে জামাকাপড় আছে।…আমি মনে করি না, আমরা খুব খারাপ অবস্থায় আছি। একটা প্যানিক (আতঙ্ক) সৃষ্টি করে ভয় ঢুকিয়ে দেয়া হয়েছে।’

আমদানির জন্য কারেন্ট অ্যাকাউন্টে ঘাটতি আছে স্বীকার করে তিনি বলেন, ‘কিন্তু দেশে রিজার্ভ আছে। রিজার্ভ দিয়ে এটা কভার করা যাবে।’

বিদেশ থেকে ঋণ প্রসঙ্গে

আলোচনায় আইএমএফ ও বিশ্বব্যাংক থেকে সাড়ে ছয় বিলিয়ন ডলার ঋণ চাওয়ার বিষয়টিও তুলে ধরেন সাংবাদিকরা।

জবাবে তাজুল বলেন, ‘আইএমএফ থেকে আমরা মাঝে মাঝে ঋণ নেই এবং তা শোধ করে দেই। কোভিডের সময়ও নিয়েছি। এটা স্বাভাবিক বিষয়।’

এখন বিভিন্ন সংস্থা ঋণ দেয়ার জন্য আসে দাবি করে তিনি বলেন, ‘বাংলাদেশের অবস্থা যদি এত খারাপ হয়, তাদের কি মাথা খারাপ হয়েছে ঋণ দেয়ার জন্য।’

‘বন্যায় সিলেট ও সুনামগঞ্জে সৃষ্ট ক্ষয়ক্ষতি সারিয়ে নেয়ার কাজ করার জন্য নতুন প্রকল্পে বিশ্বব্যাংক আমাদের সেধে টাকা দিচ্ছে। বিশ্বব্যাংক এসে ঘুরছে বিভিন্ন প্রকল্পে টাকা দেয়ার জন্য। তারা ঋণ কখন দেয়? যখন আমরা শোধ করতে পারি।’

অর্থ পাচার নিয়ে এক প্রশ্নে মন্ত্রী বলেন, ‘হ্যাঁ, আপনি বলছেন, এই দেশ থেকে টাকা পাচার হয়ে গেছে। এখন টাকা তো গেছে, তাদের ধরেন। বলবেন, আপনি ধরেন না কেন? ধরার জন্য আমাদের যে চেষ্টা নেই, এটা বলব কী করে? এটা তো আজকে না, প্রথম থেকে গেছে। বহুজনের টাকাও আনা হয়েছে বিদেশ থেকে।’

‘বিশ্বের সংকট সরকার তৈরি করেনি’

এই মুহূর্তে গোটা বিশ্বের দশাই মোটামুটি একই বলেও দাবি করেন তাজুল। বলেন, ‘কেউ বলতে পারবে না পৃথিবীর অবস্থা কোন দিকে যাবে। দুঃসময় সারা পৃথিবীতে। এটা বর্তমান সরকার তৈরি করেনি।

‘আমরা আশা করেছিলাম ২০৪১ সালের আগেই আমরা উন্নত রাষ্ট্র হব। কিন্তু সব কিছুর ওপরে তো আমাদের নিয়ন্ত্রণ নেই। আমাদের দেশ পরিচালনার দায়িত্ব আমাদের, এ ছাড়া আমরা মতামত দেই। কিন্তু ইউক্রেন রাশিয়ার যুদ্ধের কারণে সারা পৃথিবীতেই অর্থনৈতিক টালমাটাল অবস্থা।’

বাংলাদেশের অবস্থা শ্রীলঙ্কার মতো হবে বলে যে সমালোচনা উঠেছে তার জবাবও দেন তাজুল ইসলাম। তিনি বলেন, ‘অনেক উন্নয়ন সহযোগী দেশ ও সংস্থা বিভিন্ন প্রকল্পে অর্থায়নের আগ্রহ প্রকাশ করছে। আমাদের দেশের অবস্থা এত খারাপ হলে তারা তো আমাদের সহযোগিতা করত না। একটি গ্রুপ বলে বাংলাদেশ নাকি শ্রীলঙ্কা হবে। কেন হবে? শ্রীলঙ্কা কী করেছে আর আমরা কী করছি? ভয়ের কোনো কারণ নেই। আমাদের একজন শেখ হাসিনা আছেন।’

‘অতীতে রিজার্ভের সমান আমদানি এক মাসেই’

যে আমদানি দেশের অর্থনীতিতে চাপে ফেলেছে, সেটি সামলাতে পারা দেশের সক্ষমতা বৃদ্ধির প্রমাণ হিসেবেও দেখছেন মন্ত্রী।

তিনি বলেন, ‘আমরা আমদানি করছি বেশি। বাংলাদেশ প্রতি মাসে ৮ বিলিয়ন ডলার সমপরিমাণের আমদানি করে। এতে একদিকে আমাদের ওপর চাপ আসছে, আরেক দিকে দেখে খুশিও লাগছে যে বাংলাদেশ মাসে ৮ বিলিয়ন ডলার আমদানি করে। একসময় আমাদের বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ ছিল ৯ বিলিয়ন ডলারের। আমরা তো এখন এটা হ্যান্ডেল করতে (সামাল দিতে) পারছি।’

সরকার দীর্ঘমেয়াদি লক্ষ্যমাত্রা নিয়ে কাজ করছেন উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘সরকার বিভিন্নভাবে মানুষকে সক্ষম করে তুলছে। বড় প্রজেক্ট হচ্ছে মানে আমাদের আর্ন হচ্ছে, জিডিপি বাড়বে।’

পেট্রল-অকটেনের দাম বাড়ানো কেন

দেশে উৎপাদন হলেও আন্তর্জাতিক বাজারে বাড়ার কারণ দেখিয়ে পেট্রল ও অকটেনের দাম বাড়ানোর কারণ নিয়ে মন্ত্রীর কাছে প্রশ্ন রাখেন গণমাধ্যমকর্মীরা।

জবাবে মন্ত্রী বলেন, ‘আমাদের গ্যাস ফিল্ডগুলা থেকে যেই গ্যাস ওঠে, এর সঙ্গে একটা লিকুইড ওঠে, যেটাকে রিফাইন করে আমরা পেট্রল ও অকটেন বানাই। কিন্তু এগুলো কারা ব্যবহার করে? তারা গুলশানের মতো এলাকায় থাকে, ১৫ টাকার পানি ২৫ টাকা দিয়ে কেনে তারা।’

তেলের সংকটের বিষয়ে তিনি বলেন, ইউরোপের অধিকাংশ দেশসহ সারা বিশ্বের প্রায় ২৫ ভাগ জ্বালানি আসে রাশিয়া থেকে, যা এখন পাওয়া যাচ্ছে না। বিশ্বের সব চেয়ে বেশি জ্বালানি সরবরাহ আসে ভেনিজুয়েলা থেকে। কিন্তু দেশটির ওপর বিভিন্ন নিষেধাজ্ঞা থাকার কারণে সেখান থেকেও নেয়া সম্ভব হচ্ছে না।’

তেলের দাম বাড়ানোর কারণে আরও মূল্যস্ফীতি হবে কি না- এমন প্রশ্নে তাজুল বলেন, ‘তেলের দাম বেড়েছে, মূল্যস্ফীতির কথা বলা হচ্ছে। মূল্যস্ফীতি আমরা ডেকে আনিনি, এটা জোর করে ঢুকেছে।

‘জনগণের জন্যই জনগণকে কষ্ট করতে হবে।’

নগর উন্নয়ন সাংবাদিক ফোরামের সভাপতি অমিতোষ পালের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করেন সংগঠনের সাধারণ সম্পাদক সোহেল মামুন।

আরও পড়ুন...