ঘিওরে আগাম ফুলকপি চাষ করে লাভবান কৃষক

শরিফুল ইসলাম,মানিকগঞ্জ : ঘিওরে দিন দিন বাড়ছে বিভিন্ন সবজির আবাদ । প্রতিবছরের মতো এবছরও আগাম জাতের ফুলকপি চাষ করে লাভবান হচ্ছেন মানিকগঞ্জের ঘিওর উপজেলার অনেক কৃষক । আগাম ফুলকপি বিক্রি প্রায় শেষের দিকে । শীতের মৌসুমে আগাম ফুলকপি চাষ করে ভাগ্য বদলিয়েছেন অনেক কৃষক । ফুলকপির ভরা মৌসুমে দাম ভালো না পাওয়ার শঙ্কায় আগাম জাতের ফুলকপির দিকেই ঝুঁকছে চাষীরা।

সার ও শ্রমীকের দাম বেশী হওয়ায় ধান,ভূট্রা,সরিষাসহ অনান্য ফসলে চাষীরা যখন লোকসানের মুখ দেখছেন তখনই উপজেলা কৃষি অফিসের পরামর্শে ও সহায়তায় আগাম এ ফুলকপি চাষসহ বিভিন্ন জাতের সবজি চাষ করে লাভবান কৃষকরা। কৃষি অফিস সূত্রে জানাযায়, প্রতিবছরের মত এবার ঘিওরে প্রায় ১৫ শতাধিক প্রান্তিক কৃষকের মাঝে কৃষি প্রনোদনার আওতায় রাসায়নিক সার বিতরন করা হয়েছে ।

বৃস্প্রতিবার ২৪ নভেম্বর সরেজমিনে ঘিওর উপজেলাধীন বালিয়াখোড়া ইউনিয়নের চরকুশুন্ডা এলাকার কৃষক নবু মিয়া’র সাথে কথা বললে তিনি জানান, ‘এবছর আমি আমার দুই বিঘা জমিতে আগাম ‘নিনজা’ জাতের ফুলকপির চাষ করেছি। খরচ হয়েছে বিঘা প্রতি ৮-১০ হাজার টাকা। বাজারে এখন পাইকারি ৪০ টাকা কেজি যে দাম রয়েছে তাতে আমি বিঘা প্রতি ৬০-৭০ হাজার টাকা পাবো।’

একই এলাকার আরেকজন কৃষক এছেন আলী জানান, তার প্রায় দের বিঘা জমিতে ফুলকপি আবাদ করেছেন। তিনি বলেন, অন্য ফসলের তুলনায় ফুলকপি চাষ অধিক লাভজনক। জমি থেকেই পাইকারী ক্রেতারা ৪০ টাকা কেজি দরে ফুলকপি কিনে নিয়ে যায়। প্রায় এক বিঘা জমিতে ৬০-৭০ হাজার টাকা লাভের আশাকরেন তিনি ।

কৃষি অফিস জানায়, এবছর ঘিওরে ২০ হেক্টর জমিতে ফুলকপির চাষ হচ্ছে যার লক্ষমাত্রা ধরা হয়েছে ৪০ হেক্টর । অন্যদিকে বাধাকপি ১০ হেক্টর চলমান যার লক্ষমাত্রা ধরা হয়েছে ৩০ হেক্টর ।

ঘিওর উপজেলা কৃষি অফিসার মোঃ মাজেদুল ইসলাম জানান, এই অঞ্চলের আবহাওয়া ও মাটি সবজি চাষের জন্য খুবই উপযোগী। এছাড়া কৃষি বিভাগের পরামর্শে এই অঞ্চলের মানুষ আধুনিক চাষের সঙ্গে সম্পৃক্ত হয়েছেন। চাষিরা আগাম জাতের ফুলকপি চাষ করে বেশ লাভবান হচ্ছেন। ফলে তারা ফুলকপি চাষের দিকে ঝুঁকছেন। কৃষকের আগাম ফুলকপি প্রায় শেষের দিকে। কৃষকদের ফুলকপিসহ নানা ধরনের সবজি চাষে উৎসাহ দেওয়া হয়। ঘিওরে বিপুল সংখ্যক কৃষক সবজি উৎপাদন করে নিজেদের অনেক উন্নতি করছেন।’

আরও পড়ুন...