চারঘাটে ফসলি জমিতে পুকুর খননের হিরিক

পিবিএ,রাজশাহী: রাজশাহী চারঘাট উপজেলায় ফসলি জমি নষ্ট করে পুকুর খনন উৎসবে মেতে উঠেছে অসাধু ব্যবসায়িরা। রাজনৈতিক নেতা কর্মীর মদদে চলছে অবৈধ্যভাবে পুকুর খনন। স্থানীয় বাসীন্দারা উপজেলা চেয়ারম্যান ও নিার্বহী কর্মকর্তার নিকট লিখিত অভিযোগ দিয়েছে। মাছ চাষে পুকুরের যেমন প্রয়োজন আছে, তেমনি প্রতিনিয়ত কৃষি জমির ছাড়াও জীবন জীবিকা বাচাঁনো সম্ভব নই। তথ্য ও অপাথ্য মতে এক ফসলি জমি এবং পানি বন্দি নিচু জমিতে পুকুর খননের করার নিয়ম রয়েছে। কিন্ত নিয়ম নীতির তোয়াক্কা না করে উপজেলা বিভিন্ন পুকুর খননের সিন্ডিকেট চলমান আছে।

সম্প্রতী উপজেলার শলুয়া ইউনিয়নের হলিদাগাছি জাগিরপাড়ায় আম ও কলা বাগান নষ্ট করে প্রায় ৩০ বিঘা জমির উপর পুকুর খনন করছে আবুল কালামের ছেলে কচি মাহমুদ। এই পুকুর খননে প্রতিবেশিদের ফসলি জমিতে চাষাবাদ এবং স্থানীয় বাসীন্দাদের নানা বিধ অসুবিধা ভোগ করছে। ওই গ্রামবাসীদের সাথে কথা বলে জানাযায়, তারা বিভিন্ন প্রক্রিয়াই জমির মালিককে পুকুর খনন বন্ধের কথা বলে কোন ফল পাওয়া যায়নি। যার দরুন ইউএনও’র কাছে লিখিত আকারে পুকুর বন্ধের দাবি জানিয়েছে এলাকাবাসী। এবিষয়ে জমির মালিক কচি মাহমুদ গনমাধ্যমকে বলেন, তিনি অবৈধ্যভাবে পুকুর খনন করছেন না। তদুপরি তার পুকুর খননে এলাকাবাসীর কোন অসুবিধাও সৃষ্টি হচ্ছে না।

অপরদিকে, ১ নং ওর্য়াডের চকমুক্তারপুর সরকারপারা গ্রামের আমজাদ আলীর আম বাগন কর্তন করে প্রায় ৩ বিঘার একটি পুকুর খনন করছে উপজেলা ঝিকরা গ্রামের স্থায়ী বাসিন্দা ফারুক নামের এক ব্যাক্তি। স্থানীয় সূত্রমতে, ওই ফারুক উপজেলার বিভিন্ন গ্রামের জমির মালিকদের নানা কৌশল ও অর্থের প্রলোভন দিয়ে জমি লিজ নিয়ে পুকুর খনন করছে। স্থানীয় আ’লীগ নেতা ও থানা পুলিশকে অর্থ দিয়ে তার কর্মকান্ড চলমান রেখেছে ওই ফারুক।

আজ রবিবার সরজমিনে গিয়ে চকমুক্তারপুর সরকারপাড়া গ্রামের পুকুর খননের সত্যতা পাওয়া গেছে। পুকুর ব্যবসায়ি ফারুক (ভেকু) মাটিকাটা যন্ত্রের মাধ্যমে ওই পুকুর খনন করছে। ওই সময় জমির মালিক আমজেদের ছেলে জনি আহম্মেদ গনমাধ্যমকে জানায়, পৌর আ’লীগ সভাপতি ও কাউন্সিলর সাজ্জাত হোসেন পুকুর খননে তদারকি করছে। এবিষয়ে কাউন্সিলর বলেন, বিভিন্ন দপ্তরকে অবগত করে এই পুকুর খনন করা হচ্ছে।

পুকুর খননের কথা শিকার করে ব্যবসায়ি ফারুক সাংবাদিককে বলেন, সে গত ২৬ ডিসেম্বর থেকে পৌর আ’লীগ সভাপতি ও কাউন্সিলর সাজ্জাত হোসনের সহযোগিতায় পুকুর খনন করছে । এছাড়া স্থানীয়রা ৯৯৯ এর মাধ্যমে অভিযোগ পেয়ে থানা পুলিশ খবর ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে। অবৈধ্য পুকুর খনন সর্ম্পকে চারঘাট মডেল থানার ওসি সমিত কুমার কুন্ডু বলেন, আনিত অভিযোগ সাপেক্ষে অপরাধিদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া হবে।

সার্বিক বিষয়ে উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভুমি) আনিছুর রহমান বলেন, পুকুর খননের বিষয়টি তিনি জানেন। ভূমি দপ্তর থেকে একটি দল ঘটনাস্থল পরির্দশন করেছে এবং তৎক্ষনাত পুকুর খনন বন্ধের নির্দেশ দেয়া হয়েছে। অসাদু ব্যবসায়িরা পূনরায় পুকুর খনন করলে তাদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হবে।

উপজেলা চেয়ারম্যান ফকরুল ইসলাম এবং ইউএনও মুহাম্মদ নাজমুল হক বলেন, ইচ্ছা স্বাধীন চেতনায় যত্রতত্র পুকুর খনন করা যাবে না। ফসলি জমি নষ্ট করে পুকুর খনন জরুরী নই। অনেক পূর্ব থেকে এদেশের মানুষ “মাছে ভাতে বাঙ্গালী” কিন্ত পুকুর খনন উৎসবে নই। অবৈধ্য ভাবে অনেক পুকুর খননের অভিযোগ পাওয়া গেছে তদন্ত সাপেক্ষে তাদের বিরুদ্ধে কঠর ব্যবস্থা গ্রহন করা হবে।

পিবিএ/ওবায়দুল ইসলাম রবি/বিএইচ

আরও পড়ুন...