জাবিতে চিত্রাঙ্কন করে ভিসির বিরোধী অন্দোলন অব্যাহত জাবিতে

 

পিবিএ, জাবি : জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় (জাবি) উপাচার্য অধ্যাপক ড. ফারজানা ইসলামের অপসারণ দাবিতে প্রশাসনের সকল বাধা নিষেধাজ্ঞা উপেক্ষা করে বন্ধের দিনেও চলমান ‘দুর্নীতির বিরুদ্ধে জাহাঙ্গীরনগর’ ব্যানারে আন্দোলনরত শিক্ষক -শিক্ষার্থীদের আন্দোলন কর্মসূচি।

অনির্দিষ্ট কালের জন্য ক্যাম্পাস বন্ধ ও সাপ্তাহিক ছুটির দিন শুক্রবার উপেক্ষা করেই চিত্র কলার মাধ্যমে প্রতিবাদ ও বিক্ষোভ প্রদর্শন করেন আন্দোলনকারীরা।

শুক্রবার বেলা ১২টা থেকে বিশ্ববিদ্যালয়ের পুরাতন প্রশাসনিক ভবনের সামনে জড়ো হয়ে পূর্বঘোষিত কর্মসূচী অনুযায়ী আন্দোলনের অংশ হিসাবে প্রতিবাদী চিত্রাঙ্কন কর্মসূচিতে অংশ নেয় আন্দোলনকারী শিক্ষার্থীরা ।

সরজমিনে গিয়ে দেখা যায় চিত্রাঙ্কনে শিল্পীরা ‘দাড়ি ধরে মারো টান, ফারজানা ইসলামের গদি হোক হোক খানখান’, ‘ভাঙ্গবে শিকল খুলবে চোখ, ধ্বংস হবে ভন্ড লোক’,’গুলিবিদ্ধ গান একদিন ঠিক কেড়ে নেবে স্বৈরাচারের প্রাণ’, ‘হাও মাও খাও প্রতিবাদ এর গন্ধ পাও! বন্ধ করো ক্যাম্পাস, বন্ধ করো হল, ভয় পাও সব বেয়াদবের দল’ ইত্যাদি স্লোগানসহ চিত্রের মাধ্যমে প্রতিবাদের ভাষা তুলে ধরেন। এরপর সন্ধ্যায় পটচিত্র নিয়ে তারা ক্যাম্পাসের গুরুত্বপূর্ণ রাস্তা প্রদক্ষিণ করে বিক্ষোভ প্রদর্শণ করেন।

 

চিত্রাঙ্কন শিল্পীরা বলেন ‘চিত্রাঙ্কন হলো আমাদের প্রতিবাদের একটি ভাষা। যা মুখে এতো দিন বলে আসছিলেন তা রঙ্গ ও তুলির মাধ্যমে প্রকাশ ঘটেছে।’ চিত্রশিপ্লী বিশ্ববিদ্যালয়ের চারুকলা বিভাগের শিক্ষার্থী শান্ত জানান, ‘রঙ্গের মধ্য দিয়ে ফুটিয়ে তুলেছি আমাদের অব্যক্ত কথাগুলো। আমাদের চলমান আন্দোলনের ঘটনাগুলো চিত্রের মাধ্যমে প্রকাশ করার চেষ্টা করেছি।

আরেক চিত্রশিল্পী প্রত্নতত্ত্ব বিভাগের শিক্ষার্থী তানজিদা শহিদ বলেন,’আমরা বিশ্ববিদ্যালয়ের অভিভাবক উপাচার্যের চরিত্রকে চিত্রের মাধ্যমে তুলে ধরছি। তার দুর্নীতি, সন্ত্রাসী কর্মকান্ড, নারী নিপিড়কদের প্রশ্রয়, শিক্ষাকে ব্যবসা ইত্যাদি অঙ্কিত হচ্ছে এ চিত্রের মাধ্যমে’।

আন্দোলনের সংগঠক অধ্যাপক জামাল উদ্দিন রুনো জানান, আমরা সকাল থেকেই অবস্থান কর্মসূচী পালন করছি। পাশাপাশি চিত্রাঙ্কন হয়েছে। এই দুর্নীতিবাজ উপাচার্য অপসারিত না হওয়া পর্যন্ত আন্দোলন চলমান থাকবে।

আন্দোলনের অন্যতম সংগঠক রাকিবুল হক রনি বলেন, ‘হামলা-মামলা ও হুমকিতে অগ্রাহ্য করে নৈতিকস্খলন ও দুর্নীতির দায়ে অভিযুক্ত উপাচার্যকে অপসারণ এবং দুর্নীতিতে জড়িত সকলের রাষ্ট্রীয় আইনে বিচার নিশ্চিত না হওয়া পর্যন্ত আমাদের এই আন্দোলন চলবে।’

ছাত্র ইউনিয়ন সাধারণ সম্পাদক আরিফুল ইসলাম অনিক বলেন, আমরা পটচিত্রের মাধ্যমে অন্যায় ও দুর্নীতির বিরুদ্ধে প্রতিবাদ প্রকাশ করছি । এসব পটচিত্রে উপাচার্যের দুর্নীতি, স্বেচ্ছাচারিতা, ছাত্রলীগ দ্বারা আন্দোলনকারীদের ওপর হামলাসহ সব অনিয়ম তুলে ধরা হয়েছে। একই সঙ্গে এই অসৎ উপাচার্যের অপসারণ চাইছি।

এছাড়া শুক্রবার রাতে ইমেলযোগে শিক্ষা মন্ত্রণালয় এবং বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনে (ইউজিসি) কে উপাচার্যের বিরুদ্ধে ‘দুর্নীতির’ তথ্য-উপাত্ত জমা দেওয়ার কথা জানিয়েছেন আন্দোলনকারী শিক্ষক-শিক্ষার্থীরা।

পিবি্ে/শাহিনুর রহমান শাহিন/জেডআ ই

আরও পড়ুন...

ঘরে বসেই নিজের বিকাশ একাউন্ট খুলুন