চিলমারীতে আশ্রয়ণ প্রকল্পের বেহাল দশা

পিবিএ,কুড়িগ্রাম: কুড়িগ্রামের চিলমারী উপজেলার আশ্রয়ন প্রকল্পগুলোর বেহাল দশা। জরাজীর্ন ঘরগুলো ব্যবহারের অনুপযোগী হয়ে পড়ছে। অভিযোগ উঠেছে নিম্নমানের নির্মান সামগ্রী দিয়ে তৈরী করার কারনে এ গুলো বসবাসের অযোগ্য হয়ে পড়ছে। নদী ভাঙ্গনে গৃহহারা ও হতদরিদ্র মানুষ গুলো ভিটে-মাটি হারিয়ে যখন নিঃস্ব , ঠিক তখনি পরিবারগুলোর আবাসনের জন্য তৈরি করা হয় গৃহ। পরবর্তিতে অসহায় ছিন্নমূল পরিবারেরে মাঝে বরাদ্ধ দিয়ে ঘরগুলো হস্তান্তর করার পর থেকেই বসবাস করে আসছে ।

আশ্রয়ণ প্রকল্প
চিলমারীতে আশ্রয়ণ প্রকল্পের বেহাল দশা

কিন্তু বর্তমানে আশ্রয়নের ঘরগুলো পরিত্যক্ত অবস্থায় পরে আছে। এরপরও পরিত্যক্ত ঘরে বাস্ত্রহারা ছিন্নমুল পরিবারগুলো চরম কষ্টে রোদে পুরে বৃষ্টিতে ভিজে ভাঙ্গাঘরে বসবাস করতে বাধ্য হচ্ছে। উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন অফিস সুত্রে জানা যায়, বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর সদস্যদের তত্ত্বাবধানে কুড়িগ্রামের চিলমারী উপজেলায় ২০১১/১২ অর্থ বছরে উপজেলার চিলমারী ইউনিয়নের বিশার পাড়া ও ২০১০/১১ অর্থ বছরে শাখাহাতীতে দুইটি আশ্রয়ণ প্রকল্পটি নির্মান করা হয়।

শাখাহাতী আশ্রয়ণ প্রকল্পটির অধিনে উক্ত সময় ১২টি ব্যারাকে ১২০টি ও বিশার পাড়া আশ্রয়ণ প্রকল্পে ২০টি ব্যারাকে ১শতটি পরিবারকে পূনর্বাসিত করা হয়। কিন্তু পূনর্বাসিত করার সময় তালিকায় অর্থসহ নানা ধরনের অনিয়ম করায় প্রকৃত সুবিধাভূগিরা এই সুবিধা থেকে বঞ্চিত। পরিচর্যা বা কোন ধরনের অনুদান না থাকায় অবহেলায় দিনের পর দিন অকেজো হয়ে পড়ছে ব্যবহারিক জিনিসপত্রসমুহ । টিউবয়েল ও ল্যাট্রিনগুলো ব্যবহারের অনুপযোগী হয়ে পড়ছে। নির্মানের পর থেকে আশ্রয়ণ প্রকল্প সংস্কার না করায় সেগুলোর জরাজীর্ণ হয়ে পড়েছে।

প্রকল্পের বাসিন্দাদের অভিযোগ, জেলা ও উপজেলা প্রশাসন বিষয়টি জানালেও ঘর, মাঠ, টিউবয়েল, ল্যাট্রিন মেরামতের কোনো উদ্যোগ নেননি। আশ্রয়নের বাসিন্দা রাশেদা বেগম জানান, ঝরি আসলে ঘরত থাকা যায় না,পানিতে ঘর ভিঁজি যায়।ল্যাট্রিনগুলো ভালো না ব্যবহার করা যায় না। জোৎসা বেগম জানান, টিউবওয়েলগুলো নষ্ট, পানি পাওয়া যায় না অনেক কষ্ট করে পানি আনি খাওয়া নাগে।

এছাড়াও চর শাখাহাতী আশ্রয়ণ প্রকল্প ঘুরে দেখা যায় বেশির ভাগ ব্যারাক জরাজীর্ণ হয়ে পড়েছে। দরজা-জানালার কপাট ভেঙ্গে গেছে। টিউবয়েল, ল্যাট্রিন ভেঙ্গে নষ্ট হয়ে গেছে মাটি সরে ডেবে যাচ্ছে। সুবিধাভোগি মঞ্জু মিয়া জানান, সরকার আমাদের থাকার জন্য ঘর দিয়েছেন কিন্তু সেই ঘরে থাকার এখন কোন পরিবেশ নাই। আমরা সরকারি কোন সুযোগ সুবিধাই পাই না।

এ ব্যাপারে উপজেলা নির্বাহী অফিসার শাহ মোঃ শামসুজ্জোহার পিবিএেক জানান, সরেজমিন ঘুরে যথাযথ কর্তৃপক্ষের সাথে কথা বলে ব্যবস্থা নেয়া হবে।

 

পিবিএ/এমআইবি/আরআই


আরও পড়ুন...

ঘরে বসেই নিজের বিকাশ একাউন্ট খুলুন