চুলের যত্নে ক্যাস্টর তেলের ব্যবহার

চুলের যন্তে ক্যাস্টর তেলের ব্যবহার

পিবিএ ডেস্কঃ আজকাল এই দূষণের যুগে চুলের যত্ন নিয়ে ভাবেন না এমন মানুষ খুঁজে পাওয়া কঠিন। রোদ, বৃষ্টি, ঘাম, খারাপ আবহাওয়া থেকে নিজের চুলকে বাঁচতে কতই না ঘরোয়া পদ্ধতি বা টোটকা ব্যবহার করে থাকেন সকলে।

তবে আজকাল প্রায় দেখা না গেলেও একটা সময় ছিল যখন মা-ঠাকুমারা চুলের যত্নে ক্যাস্টর অয়েল বা রেড়ির তেলকে এক অব্যর্থ চুলের ওষুধ বলে মনে করতেন। চুলের সৌন্দর্য বাড়াতে ক্যাস্টর অয়েল কিন্তু নানা উপায়ে ব্যবহার করা যেতে পারে। দেখে নিন সেগুলি কী কী-

১) নতুন চুল গজাতে সাহায্য করে

এই তেলের এক মস্তো গুণ হল এই তেল নতুন চুল গজাতে সাহায্য করে।
ক্যাস্টর অয়েল স্ক্যাল্পে মাসাজ করলে তা মাথার তালুতে রক্ত সঞ্চালনের মাত্রা বহুগুণে বৃদ্ধি করে।
এর ফলে স্ক্যাল্পের অভ্যন্তরে থাকা হেয়ার ফলিকলগুলি তরতাজা হয়ে ওঠে এবং নতুন চুল গজাতে সাহায্য করে।
ক্যাস্টর অয়েলে রয়েছে ওমেগা-৯ ফ্যাটি অ্যাসিড এবং প্রয়োজনীয় কিছু ভিটামিন, যা চুলকে করে স্বাস্থ্যোজ্জ্বল এবং ঘন।
সেইসঙ্গে এতে রয়েছে প্রচুর পরিমাণে অ্যান্টি অক্সিডেন্ট, যা চুলের বৃদ্ধিতে বিশেষভাবে সাহায্যকারী।
ব্যবহার
আপনার রেগুলার হেয়ার অয়েল যেমন, নারকেল তেল, আমন্ড অয়েল’এর সঙ্গে ক্যাস্টর অয়েল খুব ভাল করে মিশিয়ে নিন। (যেহেতু ক্যাস্টর অয়েল খুব ঘন, তাই এটি আপনার রেগুলার অয়েলের সঙ্গে মিশিয়ে নেওয়া জরুরী)
এরপর মিশ্রনটি নিজে বা কাউকে দিয়ে ভাল করে স্ক্যাল্পে মাসাজ করে নিন, এরপর দুই থেকে আড়াই ঘণ্টা শাওয়ার ক্যাপ পরে থাকুন। তারপর ভাল করে শ্যাম্পু করে কন্ডিশনার লাগিয়ে নিন।
যদি সর্দি-কাশির ধাত না থাকে তাহলে সারা রাত যদি তেল রেখে দিতে পারেন তাহলে ভালো ফল পাবেন।
এইভাবে সপ্তাহে দুবার ব্যবহার করতে পারেন, তবে একবারও ব্যবহার করা যেতে পারে।

২) অকালপক্কতা দূর করতে

চুল পেকে যাওয়ার সমস্যায় আজকাল প্রায় সকলেই ভোগেন। কিন্তু আপনার এই সমস্যার সমাধান হতে পারে ক্যাস্টর অয়েল ব্যবহার করে।
সেক্ষেত্রে সামান্য জলের সঙ্গে মিশিয়ে নিয়ে ক্যাস্টর অয়েল সারা মাথায় লাগিয়ে নিন।
এইভাবে সপ্তাহে দু’বার আধ ঘণ্টা করে এই তেল লাগান, চুল অকালে আর পাকবে না।

৩) হট অয়েল মাসাজ

হট অয়েল ম্যাসাজ চুলের একটা খাদ্য। আর সেই তেল যদি ক্যাস্টর অয়েল হয়, সেক্ষেত্রেও একইভাবে আপনার রেগুলার অয়েলের সঙ্গে পরিমাণমতো ক্যাস্টর অয়েল মিশিয়ে নিন।
এবার সেই মিশ্রণটিকে একটি কাঁচের বাটিতে নিয়ে সেটিকে আর একটি গরম জলের পাত্রে রাখুন। এতে তেলটি যখন গরম হয়ে যাবে, তখন সেটি মাথায় মালিশ করে নিন ভাল করে। এতে আপনার চুলের গ্রোথ যেমন বাড়বে, তেমনি চুল অনেকটাই মজবুত হবে।

৪) অ্যালোভেরা-ক্যাস্টর অয়েল হেয়ার মাস্ক

ক্যাস্টর অয়েলের সঙ্গে সমপরিমাণে অ্যালোভেরা জেল মিশিয়ে নিন
এরপর মিশ্রণটি খুব ভাল করে সারা মাথায় অ্যাপ্লাই করুন।
এরপর মাথায় টাওয়েল মুড়িয়ে রেখে দিন আধ ঘণ্টা থেকে পঁয়তাল্লিশ মিনিট মতো।
ভালো ফল পেতে চাইলে সারা রাত রেখে দিতে পারেন

৫) ডিম ক্যাস্টর অয়েল হেয়ার মাস্ক

একটি ডিম, এক চা-চামচ মধু এবং দুই চা-চামচ ক্যাস্টর অয়েল ভালো করে মিশিয়ে নিন।
মিশ্রণটি এক ঘণ্টা মাথায় রাখুন।
এরপর ভালো করে চুলে শ্যাম্পু এবং কন্ডিশনার লাগিয়ে নিন।
এই পদ্ধতি অ্যাপ্লাই করলে চুলের উজ্জ্বলতা বহুগুণ বৃদ্ধি পায়।

৬) ক্যাস্টর অয়েল-তিলের তেল মাস্ক

এই মিশ্রণটি খুব ভালো একটি হেয়ার টনিক।
সেক্ষেত্রে ক্যাস্টর অয়েলের সঙ্গে তিলের তেল এবং অল্প পরিমাণে অলিভ অয়েল মিশিয়ে নিন।
মিশ্রণটি আধ ঘণ্টা মাথায় রেখে শ্যাম্পু করে নিন।
এই হেয়ার টনিকটি স্ক্যাল্পকে কন্ডিশনিং করতে এবং চুলের গ্রোথ বাড়াতে সাহায্য করে।

৭) মেথি-ক্যাস্টর অয়েলের মিশ্রণ

সামান্য পরিমাণে মেথি এবং সঙ্গে দুই-চা চামচ নারকেল তেল এবং সমপরিমাণ ক্যাস্টর অয়েল ভালো করে মিশিয়ে গরম করে নিন।
এইবার এই মিশ্রণটি সারা মাথায় বিশেষ করে স্ক্যাল্পে ভালো করে মাসাজ করুন।
এই মিশ্রণ অকালে চুল ঝরে যাওয়ার হাত থেকে বাঁচায়।

পিবিএ/এমআর

আরও পড়ুন...

ঘরে বসেই নিজের বিকাশ একাউন্ট খুলুন