চুয়াডাঙ্গার ক্ষতিগ্রস্থ চাষীদের আম মোকামে পাঠানো শুরু

পিবিএ,চুয়াডাঙ্গা: করোন ও আম্পান,কালবৈশাখী ঝড়ে ক্ষতিগ্রস্থ আম চাষী ও ব্যবসায়ীদের গাছে থাকা অবশিষ্ট আম বিক্রির জন্য ঢাকা,চট্রগ্রামসহ দেশে বিভিন্ন জেলার মোকামে পাঠাতে শুরু হয়েছে।
জেলা প্রশাসন, পুলিশ প্রশাসন, কৃষি বিপনন অধিদপ্তর ও জেলা মার্কেটিং অফিসের তত্বাবধানে এ কার্যক্রম শুরু হয়।
শুক্রবার (২৯ মে) চুয়াডাঙ্গা থেকে জেলা মার্কেটিং অফিসার নিজে তদারকি করে ট্রাকের সামনে “জরুরী কৃষিপণ্য সরবরাহ” নামে ষ্টিকার লাগিয়ে এ আম পাঠানো শুরু করেন।
জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর সূত্র জানায়, চলতি মৌসুমে ১ হাজার ৯৮০ হেক্টর জমিতে আম বাগান আছে। এ সব বাগান থেকে ফলনের লক্ষ্যমাত্রা ছিল ২৯ হাজার ৭০০ মেট্রিকটন আম। পাইকারী প্রতি মন ১ হাজার ২০০ টাকা হিসাবে বিক্রি হলে হবে ৮৯ কোটি ১০ লাখ টাকায়। সাম্প্রতিক ঝড়ে ১০ হাজার ৫৮৪ মেট্টিক টন আমের ক্ষতি হয়েছে। যার মূল্য ৩১ কোটি ৭৫ লাখ ২০ হাজার টাকা ।
চুয়াডাঙ্গা জেলার হিমসাগর আমের চাহিদা থাকায় ঢাকা-চট্টগ্রামসহ দেশের বিভিন্ন মোকামে এ আম পাঠানো শুরু হয়েছে।
পৌর এলাকার মহিলা কলেজ পাড়ার কুদ্দুস মহলদারের বাগানসহ জেলার বিভিন্ন স্থান থেকে আম বোঝায় ৫টি ট্রাক চুয়াডাঙ্গা ছেড়ে গেছে। জেলা প্রশাসন, পুলিশ প্রশাসন, কৃষি বিপণন অধিদপ্তর ও জেলা মার্কেটিং অফিস ট্রাক ভাড়া নির্ধারণ, নির্বিঘেœ গন্তব্যে পৌছানো, মোকামের ব্যবসায়ীদের সাথে ন্যায্য মূল্য নিশ্চিত করা সহ সব ধরণের সহযোগীতা করে যাচ্ছে ।
আমব্যবসায়ী শাহজাহান আলী জানান, কালবৈশাখী ঝড় ও আম্পানে আম বাগানে প্রচুর ক্ষতি হয়েছে। জেলা প্রশাসন ও মার্কেটিং অফিসের সহযোগিতায় চট্টগ্রামের হযরত বেলায়েত আলী শাহ ফার্ম, মেসার্স সাথী বাণিজ্যলয় সহ বেশ কয়েকটি প্রতিষ্ঠানে হিমসাগর ও গুঁটি(আটি) আম পাঠাচ্ছি। করোনার প্রভাবে বাজার কেমন হবে বলতে পাচ্ছি না ।
চুয়াডাঙ্গা আম ব্যবসায়ী সমিতি’র সহ-সভাপতি ও বিশিষ্ট আম ব্যবসায়ী কুদ্দুস মহলদার জানান, কালবৈশাখী ঝড় ও আম্পানে আমার ৩০ থেকে ৪০ লাখ টাকার আমের ক্ষতি হয়েছে। আমি চুয়াডাঙ্গার জেলা প্রশাসন ও মার্কেটিং অফিসের মাধ্যমে ক্ষতি কিছুটা পুশিয়ে নেয়ার জন্য মাননীয় প্রধানমন্ত্রী ও কৃষি মন্ত্রীর কাছে আবেদন জানায়। তারা যেন সাহায্যের হাত বাড়িয়ে জেলার আম ব্যবসায়ীদের ব্যাপক ক্ষতির হাত থেকে রক্ষা করেন।
তিনি আরো জানান, চট্্রগ্রামের মার্কেটে গুঁটি আম প্রকারভেদে ২০ থেকে ২৫ টাকা কেজি দরে ও হিমসাগর ৫০ থেকে ৫৫ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে।
আমবাগানের শ্রমিক ইকতিয়ার আলী জানান, আমের মৌসুমে আমরা ৩/৪ মাস ট্রাক সাজানোর কাজ করি। গাছ থেকে আম ভাঙ্গা ও ট্রাক সাজিয়ে যা পারিশ্রমিক পায় তা দিয়ে সংসার চালায়। তবে এ মৌসুমে পর পর দুটি বড় ঝড়ের কারণে গাছে আম নেই বললেই চলে। এক সপ্তাহের মধ্যেই এ কাজ শেষ হয়ে যাবে।
ট্রাক চালক জাহিরুল ইসলাম জানায়, করোনার কারণে প্রায় ২ মাস ট্রাক চালানো বন্ধ আছে। আজ থেকে বিভিন্ন মোকামে আম পরিবহণের মাধ্যমে ট্রাক চালানো শুরু হলো ।
এ জেলার হিমসাগরসহ বিভিন্ন জাতের আমের চাহিদা রয়েছে দেশে বিদেশে। করোনার কারনে আম বিক্রি নিয়ে চাষীরা দুঃচিন্তা করলেও ন্যায্য মূল্য ও মোকামে পাঠানোর ব্যাপারে সহযোগীতার আশ্বাস দিয়েছে জেলা প্রশাসন ও কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর। এ দাবীসহ ক্ষতিগ্রস্থ চাষীদের কৃষি প্রণোদনা দেয়ার প্রত্যাশা করছেন এখানকার আম চাষীরা।

পিবিএ/সনজিত কর্মকার/এমআর

আরও পড়ুন...