চুয়াডাঙ্গায় মাস্ক ব্যবহারের বালাই নেই


সনজিত কর্মকার, চুয়াডাঙ্গা: করোনাভাইরাস প্রতিরোধে মাস্ক ব্যবহার বাধ্যতামূলক করা হলেও চুয়াডাঙ্গায় কেউ মাস্ক ব্যবহার করছে না। ফলে করোনা ভাইরাস সংক্রমণের ঝুঁকি থেকেই যাচ্ছে।

পাড়া মহল্লা থেকে শুরু করে গণপরিবহনগুলোতে সামাজিক দূরত্ব এবং মাস্ক ব্যবহারের বালাই নেই বল্লেই চলে। মসজিদ-মন্দিরে নামাজে যাওয়ার সময়ও অনেকে মাস্ক ব্যবহার করছে না।
শনিবার চুয়াডাঙ্গা শহরের প্রাণ কেন্দ্র শহীদ হাসান চত্বরসহ বড় বাজার, নিউ মার্কেট ও ফেরিঘাট রোডে সাধারণ মানুষকে মুখে মাস্ক ব্যবহার না করে চলাফেরা করতে দেখা গেছে।
ক্রেতা-বিক্রেতা দুইজনের মাস্ক পরা বাধ্যতামূলক হলেও চুয়াডাঙ্গা বড় বাজার কাপড়ের গলি ও নিউ মার্কেটের দোকান গুলোতে দেখা গেছে মাস্ক ব্যবহার করছে না কেউ।
এছাড়া সদর হাসপাতালের ওষুধের দোকানগুলোর সামনে সমাজিক দূরত্ব রক্ষা করার নোটিস দেওয়া হলেও রোগীসহ সাধারণ মানুষের মুখে নেই মাস্ক।

সুশীল সমাজের প্রতিনিধিরা বলছে, প্রশাসনের মাঠ পর্যায়ে তদারকীর অভাবে সাধারণ মানুষ করোনাভাইরাস প্রতিরোধে মাস্ক ব্যবহার করতে অনীহা প্রকাশ করছে।
জেলা প্রশাসন বলছে, জেলার গ্রামাঞ্চলে সাধারণ মানুষকে সচেতন করতে বিভিন্ন পদক্ষেপ গ্রহন করা হলেও মাস্ক ব্যবহার করছে না কেউ। প্রশাসনের গাড়ি দেখলে তড়িঘড়ি করে মাস্ক ব্যবহার করছে সাধারণ মানুষ।

জেলা সিভিল সার্জন কার্যালয় শেষ তথ্য অনুযায়ী জানা যায়, জেলায় মোট আক্রান্ত ১ হাজার ৫শ ৬০ জন। এরমধ্যে সুস্থ ১ হাজার ৪শ ৬৯ জন। হোম আইসোলেশনে ৪১ জন ও প্রাতিষ্ঠানিক আইসোলেশনে ভর্তি ৯ জন রয়েছে। এছাড়াও এ জেলায় করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে এ পর্যন্ত মৃতের সংখ্যা ৪১ জন। গত ১৯ মার্চ চুয়াডাঙ্গাতে প্রথম ইতালি ফেরত এক যুবকের শরীরে করোনাভাইরাস ধরা পড়ে।

বড় বাজার ফেরিঘাট রোডের মিজানুর রহমান জানান, মাস্ক ব্যবহার করলে শরীরে খারাপ লাগে তার। তাই মাস্ক ব্যবহার করেন না তিনি।

নিউ মার্কেটের আতিয়ার রহমান নামে এক ক্রেতা জানান, তার পকেটে সবসময় মাস্ক থাকে। বেশী মানুষ জন দেখলে তখন মাস্ক মুখে ব্যবহার করেন তিনি । বড় বাজারের চা দোকানদার রমজান আলী জানান, চায়ের দোকানে সব সময় আগুনের পাশে থাকি। আগুনের গরমে আমাদের ভাইরাস হবে না।

জেলা প্রশাসক নজরুল ইসলাম সরকার জানান, সাধারণ মানুষকে মাস্ক ব্যবহার বাধ্যতামূলক করতে জেলা প্রশাসন সব সময় কাজ করে যাচ্ছে।

পিবিএ/এমএসএম

আরও পড়ুন...