ছেলের মৃত্যুশোক সড়িয়ে পূত্রবধূর বিয়ে দিলেন শ্বশুর!

পিবিএ ডেস্ক: কিছু ঘটনা সব সময় ঘটে না। তাইতো ছোট হলেও সেসব ঘটনা প্রভাব ফেলে পুরো সমাজে। কিন্তু পূত্রবধূকে কোনো শ্বশুর বিয়ে দিচ্ছেন এমনটা শুনলে খটকা লাগারই কথা। কিন্তু ছেলে হঠাৎ অসুস্থ হয়ে মারা যাওয়ার পর পূত্রবধূকে বিয়ে দিয়ে খবর হয়েছেন পশ্চিমবঙ্গের মুকুন্দ মাইতি।

ঘটনাটি ঘটেছে রাজ্যের পূর্ব মেদিনিপুর জেলায়। মুকুন্দ মাইতি নামে ওই ব্যক্তির পূত্রবধূর নাম উমা মাইতি আর ছেলের নাম অমিত মাইতি। গত ডিসেম্বরে তিনি মারা যান।

গতকাল সোমবার রাতে, পূর্ব মেদিনীপুর জেলার পাঁশকুড়ার ভবতারিণীর মন্দিরে নিজের পূত্রবধূকে বিয়ে দিয়েছেন মুকুন্দ মাইতি। মহীশূর-হাওড়া এক্সপ্রেসে করে বাড়ি ফেরার পথে গত বছরের শেষে ট্রেনেই হঠাৎ মারা যান অমিত মাইতি।

প্রতিবেদন অনুযায়ী, ছেলের বউকে খুব আদর করত মুকুন্দ। ছেলের মৃত্যুর পর মেয়ের মতো করে তাকে আগলে রাখতেন। কিন্তু বিধবা পূত্রবধূর একাকিত্ব তাকে পীড়া দেয়। তাই পূত্রবধূকে বিয়ে দেবেন বলে সিদ্ধান্ত নেন। কিছু প্রতিবেশী অবশ্য তার এমন সিদ্ধান্তের বিরোধিতাও করেন।

স্বামী অমিত মাইতির মৃত্যুর পর প্রায় সাত মাস ধরে শ্বশুর বাড়িতেই ছিলেন ওই পূত্রবধূ। প্রতিকূলতা ডিঙিয়ে অবশেষে পাশের শ্যামসুন্দরপুরের পাটনা এলাকার বাসিন্দা স্বপন মাইতির সঙ্গে বিধবা পূত্রবধূর বিয়ে দেন মুকুন্দ মাইতি।

তবে সাদামাটাভাবে বিয়ে দেন পূত্রবধূর। ঘটা করে বৌভাতেরও আয়োজন হয়েছে ওই মন্দিরে। মাছ, মাংস, চিংড়ি, পোস্ত আর দই মিষ্টি দিয়ে অতিথিদের আপ্যায়ন করেছেন তিনি। গোটা মন্দিরের চারদিকে ছিল আলোর ঝলকানি। পূত্রবধূকে বিদায় দেয়ার সময় কাঁদের তিনি।

পূত্রবধূ উমা মাইতি বলেন, ‘তিনি আমার শ্বশুর নন, স্বয়ং বাবা। বাবার ভালোবাসা-স্নেহে আমার জীবন ভরিয়ে দিয়েছিলেন তিনি। আজকের এই দিনের কথা আমি কখনোই ভুলবো না। এক সময় যখন দেয়ালে পিঠ ঠেকে গিয়েছিল তখন তিনি আমাকে নিজের মেয়ের মতন আগলে রেখেছেন, সাহস জুগিয়েছেন, প্রেরণা দিয়েছেন।‘ মুকুন্দ মাইতির এমন উদ্যোগের প্রশংসা করেছেন তার এলাকার বেশিরভাগ বাসিন্দা।

পিবিএ/এমএসএম

আরও পড়ুন...

ঘরে বসেই নিজের বিকাশ একাউন্ট খুলুন