জমে উঠেছে গোপালগঞ্জের ৫ উপজেলার নির্বাচনী প্রচার প্রচারনা

পিবিএ,গোপালগঞ্জ : তৃতীয় ধাপে আগামী ২৪ মার্চ গোপালগঞ্জ জেলার ৫ উপজেলায় নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। দিন যতই এগিয়ে আসছে নির্বাচনী প্রচার প্রচারনা ও উত্তাপ ততই বড়েই চলছে। এবারের নির্বাচনে আওয়ামী লীগ থেকে মনোনয়ন না দেয়ায় বেড়েছে প্রার্থী সংখ্যা। চেয়ারম্যান পদে ১৯ জন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেছেন। এর মধ্যে দুইজন প্রার্থী রয়েছে জাকের পার্টি ও জাতীয় পার্টির। বাকী ১৭ জন প্রার্থী আওয়ামী লীগের জেলা ও উপজেলা পর্যায়ের নেতা। এছাড়া ভাইস চেয়ারম্যান পদে ২৮ জন ও মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান পদে ২০ জন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। এসব প্রার্থীরা স্বতন্ত্র হিসেবে নিজেদের পছন্দ মাফিক প্রতিক নিয়ে নির্বাচন করছেন। ভোটারদের দৃষ্টি আকর্ষন করতে প্রার্থীরা দিচ্ছেন নানান প্রতিশ্রুতি। তবে দেখে শুনে যোগ্য প্রার্থীকে ভোট দেবার কথা বলেছেন ভোটাররা।

জেলার বিভিন্ন উপজেলায় ঘুরে দেখা গেছে, আওয়ামী লীগের দূর্গ হিসাবে পরিচিত গোপালগঞ্জ জেলা। এখানে যিনিই আওয়ামী লীগের প্রার্থী হবেন তিনিই নিশ্চিত জয়লাভ করবেন। তবে এবারের নির্বাচনে আওয়ামী লীগ থেকে মনোনয়ন না দেয়ায় নির্বাচনী উত্তাপ বেড়েছে বহুগুন, পেয়েছে ভিন্ন মাত্রা। ফলে প্রার্থীরা রয়েছেন বাড়তি চাপে।

প্রতীক বরাদ্দের পর পরই তাই গোপালগঞ্জের ৫ উপজেলায় নির্বাচনী প্রচারনা এখন জোরে শোরেই শুরু হয়েছে। ভোটারদের দৃষ্টি আকর্ষন করতে প্রতিটি গলি ছেয়ে গেছে পোষ্টার, ব্যানার আর ফেষ্টুনে। প্রতিদিনই বিভিন্ন উঠান বৈঠকে যোগ দিচ্ছেন প্রার্থীরা। বাড়ি-বাড়ি, পাড়া-মহল্লা, হাটবাজার ও ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে গিয়ে লিফলেট হাতে সকাল থেকে গভীর রাত পর্যন্ত ভোট চেয়ে বেড়াচ্ছেন প্রার্থী ও তাদের সমর্থকরা। প্রচারনায় সামিল হয়েছেন স্কুল কলেজে পড়ুয়া শিক্ষার্থীরাও। নির্বাচিত হতে পারলে কি কি কাজ করবেন সে প্রতিশ্রুতিতো আছেই। দুপুর ২টার পর মাইকে মাইকে চালানো হচ্ছে প্রচারনা। কেউবা গানের তালে কেউবা মুখরোচক কথার মাধ্যমে ভোট চাইছেন।

সময় এগিয়ে আসায় প্রার্থীরা প্রচানার মাধ্যম হিসাবে বেছে নিয়েছেন সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুককে। দৃষ্টি নন্দন পোষ্ট এবং দোয়া ও ভোট প্রার্থনা করছেন। বসে নেই তাদের সমর্থকেরাও। তারাও তাদের প্রার্থীদের গুণাগুন তুলে ধরে ফেসবুকে ভোটারদের দৃষ্টি আকর্ষণের চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন। প্রার্থীদের প্রচার-প্রচারনার ছবি ও ভিডিওতে এখন ফেসবুক ভরপুর। একের পর এক প্রচার তথ্য ও ভিডিও আসছে সোস্যাল মিডিয়ায়। আবার কোন কোন প্রার্থী তাদের প্রচার প্রচারণার লাইভ করছেন।

নির্বাচনী প্রচার প্রচারনায় পিছিয়ে ভাইস চেয়ারম্যান ও মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান প্রার্থীরা। তারাও ছুটছেন আলি থেকে গলি, দোকান থেকে বাড়ী। নারী উন্নয়নসহ দিচ্ছেন নানা প্রতিশ্রুতি।

গোপালগঞ্জ সদর উপজেলা: একটি পৌরসভা ও ২১টি ইউনিয়ন নিয়ে গোপালগঞ্জ সদর উপজেলা গঠিত। এ উপজেলায় মোট ভোটার দুই লাখ ৫০ হাজার ৭০৩ জন। এর মধ্যে পুরষ ভোটার এক লাখ ২৫ হাজার ৯৫০ জন ও মহিলা ভোটার এক লাখ ২৪ হাজার ৭৫৩ জন। এ উপজেলা থেকে চেয়ারম্যান পদে ৪ জন, ভাইস চেয়ারমান পদে ৮ জন ও মহিলা ভাইস চেয়ারমান পদে ৫ জন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেছে। চেয়ারম্যান পদে প্রার্থীরা হলেন, এস এম শাহ আলম (আনারস), প্রীতিশ বিশ্বাস (লাঙ্গল), মাহামুদ হোসেন মোল্যা দীপু (ঘোড়া) ও শেখ লুৎফর রহমান বাচ্চু (দোয়াত কলম)। ভাইস চেয়ারম্যান পদে প্রার্থীরা হলেন, তাসবিরুল হুদা বাবু (চশমা), নীতিশ রায় (পালকি), পলাশ কুমার দাস (মাইক), পলাশ শরীফ (বই), মোহাম্মদ আজিজুল ইসলাম (তালা), মো: হাবিবুর রহমান হাবিব (টিউবওয়েল), রিয়াজুল ইসলাম (টিয়া পাখি) ও সুশীল বিশ্বাস শিপন (উড়োজাহাজ)। মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান পদে প্রার্থীরা হলেন, অনিমা রানী সরকার (প্রজাপতি), আমেনা খানম (কলস), নাহিদা খান মলি (সেলাই মেশিন), নিরুনাহার বেগম (হাঁস) ও শিপ্রা বিশ্বাস (পদ্ম ফুল)।

টুঙ্গিপাড়া উপজেলা : একটি পৌরসভা ও ৫ টি ইউনিয়ন নিয়ে টুঙ্গিপাড়া উপজেলা গঠিত। এ উপজেলায় মোট ভোটার ৭৫ হাজার চার জন। এর মধ্যে পুরষ ভোটার ৩৭ হাজার ৬৭৮ জন ও মহিলা ভোটার ৩৭ হাজার ৩২৬ জন। এ উপজেলা থেকে চেয়ারম্যান পদে ২ জন, ভাইস চেয়ারমান পদে ৬ জন ও মহিলা ভাইস চেয়ারমান পদে ২ জন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেছে। চেয়ারম্যান পদে প্রার্থীরা হলেন, মো: বাবুল শেখ (দোয়াত কলম) ও মো: সোলাইমান বিশ্বাস (আনারস)। ভাইস চেয়ারম্যান পদে প্রার্থীরা হলেন, অসীম কুমার বিশ্বাস (বৈদ্যিতিক বাল্ব), আলম শেখ (টিয়া পাখি), আব্দুল ওহাব শেখ (উড়োজাহাজ), ফয়সাল শেখ (টিউবওয়েল), মো: কামাল হোসেন (তালা) ও মো: রফিকুজ্জামান শেখ (চশমা)। মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান পদে প্রার্থীরা হলেন, মোসা: মিলিয়া আমিনুর (কলস), ও সোফিদা আক্তার জোনাকী (ফুটবল)।

কোটালীপাড়া উপজেলা : একটি পৌরসভা ও ১১ টি ইউনিয়ন নিয়ে কোটালীপাড়া উপজেলা গঠিত। এ উপজেলায় মোট ভোটার এ লাখ ৭২ হাজার ৩৬ জন। এর মধ্যে পুরষ ভোটার ৮৭ হাজার ৯১৭ জন ও মহিলা ভোটার ৮৪ হাজার ১১৯ জন। এ উপজেলা থেকে চেয়ারম্যান পদে ৩ জন, ভাইস চেয়ারমান পদে ৩ জন ও মহিলা ভাইস চেয়ারমান পদে ৩ জন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেছে। চেয়ারম্যান পদে প্রার্থীরা হলেন, কমল চন্দ্র সেন (আনারস), বিমল কৃষ্ণ বিশ্বাস (দোয়াত কলম) ও মুজিবুর রহমান হাওলাদার (চিংড়ি মাছ)। ভাইস চেয়ারম্যান পদে প্রার্থীরা হলেন, আ: খালেক হাওলাদার (চশমা), আমিনুজ্জামান খান (উড়োজাহাজ) ও মতিয়ার রহমান হাজরা (তালা)। মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান পদে প্রার্থীরা হলেন, গুলশান আরা (কলস), রাফেজা বেগম (হাঁস) ও লক্ষী রানী সরকার (প্রজাপতি)।

কাশিয়ানী উপজেলা : ১৪ টি ইউনিয়ন নিয়ে কাশিয়ানী উপজেলা গঠিত। এ উপজেলায় মোট ভোটার এক লাখ ৬১ হাজার ৪৭১ জন। এর মধ্যে পুরষ ভোটার ৭৬ হাজার ৬৪৬ জন ও মহিলা ভোটার ৮১ হাজার ৮২৫ জন। এ উপজেলা থেকে চেয়ারম্যান পদে ৬ জন, ভাইস চেয়ারমান পদে ৪ জন ও মহিলা ভাইস চেয়ারমান পদে ৫ জন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেছে। চেয়ারম্যান পদে প্রার্থীরা হলেন, কাজী নুরুল আমিন (মোটর সাইকেল), জানে আলম মিয়া (আনারস), মোছা: শামচুন্নাহার (হেলিকাপ্টার), মো: ফারুক আহম্মেদ (কাপ-পিরিচ), মো: মোক্তার হোসেন (দোয়াত কলম) ও সুব্রত ঠাকুর (টেলিফোন)। ভাইস চেয়ারম্যান পদে প্রার্থীরা হলেন, খান কামরুজ্জামান (টিউবওয়েল), টুটুল মোল্যা (চশমা), মো: খাজা নেওয়াজ (তালা) ও মো: জামিনুর রহমান (উড়োজাহাজ)। মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান পদে প্রার্থীরা হলেন, জিনাত রেহানা খান (প্রজাপতি), মঞ্জুয়ারা বেগম (ফুটবল), মোসা: তানজিলা বেগম (হাঁস), মোসা: মোনালিসা বেগম (কলস) ও সোহাগী আক্তার মুক্তা (পদ্ম ফুল)।

মুকসুদপুর উপজেলা : একটি পৌরসভা ও ১৬ টি ইউনিয়ন নিয়ে মুকসুদপুর উপজেলা গঠিত। এ উপজেলায় মোট ভোটার দুই লাখ ২১ হাজার ৭৩১ জন। এর মধ্যে পুরষ ভোটার এক লাখ ১২ হাজার ১৪৯ জন ও মহিলা ভোটার এক লাখ ৯ হাজার ৫৮২ জন। এ উপজেলা থেকে চেয়ারম্যান পদে ৪ জন, ভাইস চেয়ারমান পদে ৭ জন ও মহিলা ভাইস চেয়ারমান পদে ৫ জন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেছেন। চেয়ারম্যান পদে প্রার্থীরা হলেন, এম এম মহিউদ্দিন আহম্মেদ (মোটর সাইকেল), মোহাম্মদ সাজ্জাদ হোসেন মিয়া (গোলাপ ফুল), মো: কাইমুজ্জামান (দোয়াত কলম) ও মো: কাবির মিয়া (আনারস)। ভাইস চেয়ারম্যান পদে প্রার্থীরা হলেন, এ বি এম মাসুদুর রহমান (উড়োজাহাজ), দুলাল হোসেন (তালা), পরিতোষ সরকার (টিয়া পাখি), মোহাম্মদ রবিউল ইসলাম (টিউবওয়েল), মো: মিজানুর রহমান মোল্যা (চশমা), মো: রফিকুল ইসসাম মিরন (বৈদ্যুতিক বাল্ব) ও সৈকত মন্ডল (মাইক)। মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান পদে প্রার্থীরা হলেন, তাপসী বিশ্বাস (হাঁস), রিনা বেগম (সেলাই মেশিন), রেনঞ্জু বেগম (পদ্ম ফুল), বিপ্লবী রানী রায় (ফুটবল) ও হাজিরা বেগম (কলস)।

গোপালগঞ্জ জেলা নির্বাচন কর্মকর্তা মুন্সী ওহিদুজ্জামান জানান, জেলার ৫টি উপজেলার নির্বাচন সুষ্ঠভাবে সম্পন্ন করতে সকল প্রস্তুতি সম্পন্ন করা হয়েছে। কোন প্রার্থী আচারন বিধি লঙ্ঘন করছেন কিনা তা মনিটরিং করা হচ্ছে। জেলার ৫ উপজেলায় মোট ভোট কেন্দ্র রয়েছে ৩৮৮টি আর কক্ষ রয়েছে ২ হাজার ৪৬৬টি। সুষ্ঠভাবে ভোটগ্রহন সম্পন্ন করতে ৩৮৮ জন প্রিজাইজিং কর্মকর্তা, ২ হাজার ৪৬৬ জন সহকারী প্রিজাইজিং কর্মকর্তা ও ৪ হাজার ৯৩২ জন পোলিং অফিসার দায়িত্ব পালন করবেন। এছাড়া আইন শৃঙ্খলা পরিস্থিতি রক্ষাতে আইন শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী মাঠে থাকবে।

পিবিএ/বিএস/এমএসএম

আরও পড়ুন...