জামালপুরে অবৈধভাবে বালু উত্তোলনের মহোৎসব

পিবিএ,জামালপুর: রকিব হাসান নয়নঃজামালপুর ব্রহ্মপুত্র নদে অবৈধ ড্রেজার বসিয়ে বালু লুটের মহোৎসব চলছে ঘাটে ঘাটে। সরকারের রাজস্ব খাতকে শুভঙ্করের ফাঁকিতে ফেলে প্রশাসনের নাকের ডগায় সরকারি বালু মহালগুলো থেকে কয়েক কোটি টাকার বালু লোপাট করে আসলেও আইনি জটিলতার অজুহাত দেখিয়ে নির্বিকার রয়েছে প্রশাসনের কর্তাব্যক্তিরা। এই বালু লুটকে ঘিরে একেক সময় গড়ে উঠেছে একাধিক সিন্ডিকেট। সিন্ডিকেটের নেপথ্যে ও প্রকাশ্যে শেল্টার দিয়ে এই লুটতরাজকে জায়েজ করছে রথী-মহারথীরা। সরাসরি বালু লুটের সাথে জড়িত রয়েছেন নানা শ্রেণিপেশার লুটেরা।

লুটের টাকা মাছের ভাগের মতো স্তরভেদে চলে যায় তাদের পকেটে।জামালপুর জেলাজুড়ে এই মহোৎসব চললেও বালু লুট বন্ধে তেমন কোনো প্রশাসনিক তৎপরতা নেই। কালেভদ্রে জেলা প্রশাসনের অভিযান চললেও তা সুফল মিলছে না। প্রশাসনের অসাধু কর্মকর্তা-কর্মচারীদের সাথে লুটেরাদের সখ্য থাকায় অবৈধ ড্রেজার ধ্বংসের অভিযানের খবর আগেই চাউর হয়ে যায়। ইঞ্জিনচালিত নৌকার পিছনে হুক লাগিয়ে নদীপথে মুহূর্তেই হাওয়া হয়ে যায় বালু উত্তোলনের অবৈধ ড্রেজার মেশিনগুলো।

সংঘবদ্ধভাবে সিন্ডিকেটের মাধ্যমে যুগ যুগ ধরে বালু লুটের কারণে ব্রহ্মপুত্রের তলদেশ থেকে মাটি সরে গিয়ে নদের দুই পাড়ে সরকারি-বেসরকারি স্থাপনাসহ হুমকির মুখে পড়েছে বসতবাড়ি, ফসলি জমি, রাস্তাঘাট ও ব্রহ্মপুত্র সেতু। অপরদিকে ব্রহ্মপুত্র নদ তার নাব্যতা হারিয়ে এখন মৃত্যুর প্রহর গুনছে। সেই সাথে প্রাকৃতিক ভারসাম্য নষ্ট হয়ে জীববৈচিত্র্যে নেতিবাচক প্রভাব পড়ছে বলে পরিবেশবাদীদের অভিমত।জেলার বিভিন্ন উপজেলার যমুনা, ব্রহ্মপুত্র, ঝিনাই, সুবর্ণখালী, জিঞ্জিরাম ও বংশী নদীর প্রায় ৩ শতাধিক পয়েন্টে চলছে ড্রেজার দিয়ে বালু উত্তোলন। বালু লুটেরাদের হাত থেকে রেহাই পাচ্ছে না খাল, বিলসহ বিভিন্ন শাখা নদীও। এরমধ্যে শুধু ব্রহ্মপুত্র নদে দেওয়ানগঞ্জ উপজেলা থেকে সদর উপজেলার পিয়ারপুর পর্যন্ত শতাধিক পয়েন্টে ড্রেজার মেশিনসহ নানা কায়দায় চলছে অবৈধ বালু উত্তোলন।

জামালপুর শহর থেকে পিয়ারপুর পর্যন্ত ব্রহ্মপুত্র নদ এলাকা ঘুরে দেখা যায়, পাথালিয়ার ব্রহ্মপুত্র বাঁধ থেকে শুরু করে সদর উপজেলার নরুন্দি পর্যন্ত প্রায় ২০টি ঘাটে বালু উত্তোলন হচ্ছে দীর্ঘ দিন ধরে। পাথলিয়া, নাওভাঙা, কম্পপুর, ছনকান্দার মাদ্রাসা ঘাট, চান্দে গেদার ঘাট, শরিফপুরে ট্যানারি ঘাট, নান্দিনার গোদার ঘাট, খড়খড়িয়া ঘাট, গোলাবাড়ি ঘাট, পালবাড়ি ঘাট, আলগীর চর ঘাট এবং নরুন্দি ও পিয়ারপুরের বেশ কয়েকটি ঘাটে বালু উত্তোলন হচ্ছে। চালুর অপেক্ষায় রয়েছে ছনকান্দার মিল্টনের ঘাট, জামালের ঘাট, বাজুর ঘাট ও মুক্কার ঘাট।

এসব বালুর খনি থেকে ট্রাক, ভটভটি, মাহেন্দ্র ও ট্রাক্টর যোগে বালু যাচ্ছে জেলার সর্বত্রসহ আশপাশের জেলায়। জামালপুর-ময়মনসিংহ মহাসড়কের দু’পাশে বিক্রির অপেক্ষায় রয়েছে সারি সারি অবৈধ বালুর ঢিবি। প্রকাশ্যে এসব ঢিবি থেকে বালু বিক্রি হলেও দেখার কেউ নেই।মাস দুয়েক আগে প্রশাসনিক অভিযানে বালু উত্তোলন সাময়িক বন্ধ থাকলেও জেলা প্রশাসনের কতিপয় অসাধু কর্মকর্তা-কর্মচারীকে ম্যানেজ করে ফের শুরু হয়েছে বালু উত্তোলনের মহোৎসব।

পিবিএ/রকিব হাসান/বিএইচ

আরও পড়ুন...

ঘরে বসেই নিজের বিকাশ একাউন্ট খুলুন