লকডাউন ৭০ বাড়ি

জামালপুরে করোনায় আরও ২ জনের মৃত্যু, শনাক্ত ১৪

স্টাফ রিপোর্টার, জামালপুর: জামালপুরে করোনায় আক্রান্ত হয়ে যশমত আলী (৪১) ও মানিক সরকার (৪৫) নামে আরও দুই পুরুষ রোগীর মৃত্যু হয়েছে। তাদের বাড়ি মেলান্দহ উপজেলায়। এই দুই মৃত্যু নিয়ে জেলায় মোট মৃত্যু ৩৯ জনে দাঁড়ালো। এছাড়া ৯৩ টি নমুনা পরীক্ষায় নতুন করে আরও ১৪ ব্যক্তি করোনা পজিটিভ শনাক্ত হয়েছে। এ নিয়ে জেলায় মোট আক্রান্ত ২৪০২ জনে পৌঁছলো।

করোনা আক্রান্ত হয়ে মৃত দুই ব্যক্তি মেলান্দহ উপজেলার মাহমুদপুর ও নয়ানগরের বাসিন্দা। তাদের একজন ময়মনসিংহ মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে ও অন্যজন বাড়িতে আইসোলেশনে ছিলেন। ১৩ ও ১৪ জুন তাদের করোনা পজিটিভ শনাক্ত হয়। মঙ্গলবার (১৫ জুন) তারা মারা যান।

জেলা স্বাস্থ্য বিভাগের বুধবারের (১৬ জুন) করোনা আপডেটে এসব তথ্য জানা গেছে।

এদিকে করোনা সংক্রমণ বাড়ায় পৌরসভার বিভিন্ন এলাকায় ৭০টি বাড়ি লকডাউন দিয়েছে প্রশাসন। গতকাল মঙ্গলবার সন্ধ্যা থেকে রাত পর্যন্ত করোনা সংক্রমিত ব্যক্তির বাড়ি খুঁজে খুঁজে এই লকডাউন দেন এসিল্যাণ্ড তাহমিনা আক্তার।

স্বাস্থ্য বিভাগ জানায়, জামালপুর শেখ হাসিনা মেডিকেল কলেজের পিসিআর ল্যাবে ৮২ টি, ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজের পিসিআর ল্যাবে ৭টি ও রেপিড এন্টিজেন টেস্টে ৪ টি নমুনা পরীক্ষায় নতুন করে ১৪ জনের দেহে করোনা সংক্রমণ শনাক্ত হয়।

সংক্রমিত ১৪ জনের মধ্যে জামালপুর পৌরসভার মাইনপুরে ১ জন, বানাকুড়ায় ১ জন, পুলিশ লাইন্সে ১ জন, পাথালিয়ায় ১ জন, জেনারেল হাসপাতালে ১ জন ও মুসলিমাবাদে ১ জনের বাড়ি। এছাড়া সদর উপজেলার শরিফপুরে রয়েছে ২ জন, ছোনটিয়ায় ১ জন, দিগপাইতে ১ জন। উপজেলার মধ্যে মেলান্দহ উপজেলার মেলান্দহ সদরে ১ জন, বাজার এলাকায় ১ জন এবং সরিষাবাড়ী উপজেলার বারইপটল এলাকায় ১ জনের দেহে করোনা সংক্রমণ শনাক্ত হয়।

সিভিল সার্জন ডা. প্রণয়কান্তি দাস জানান, রবিবার (১৩ জুন) নমুনা পরীক্ষায় মেলান্দহ উপজেলার ৫ নম্বর চরের যশমত আলী করোনা পজিটিভ হন। তার অবস্থার অবনতি হলে তাকে ময়মনসিংহ মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। মঙ্গলবার দুপুরে তিনি মারা যান।

অপরদিকে, সোমবার (১৪ জুন) নমুনা পরীক্ষায় একই উপজেলার মাহমুদপুর গ্রামের মানিক সরকারের করোনা শনাক্ত হয়। তিনি হোম আইসোলেশনে ছিলেন। অবস্থার অবনতি হলে ঢাকায় নেয়ার পথে মারা যান তিনি।

এদিকে, জামালপুর পৌরসভা এলাকায় সংক্রমণের হার বেশি হওয়ায় বিধিনিষেধ আরোপ করেছে জেলা প্রশাসন। সেই সঙ্গে করোনা আক্রান্ত ব্যক্তির বাড়ি লকডাউনের আওতায় আনা হচ্ছে। এ পর্যন্ত পৌরসভা এলাকার ৭০টি বাড়ি লকডাউন করা হয়েছে।

এসিল্যান্ড ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট তাহমিনা আক্তার জানান, যে বাড়িতে করোনা রোগী শনাক্ত হচ্ছে সেই বাড়িকেই লকডাউনের আওতায় আনা হচ্ছে। এ পর্যন্ত পৌরসভার ৭০টি বাড়িকে লাল নিশান দিয়ে চিহ্নিত করে লকডাউন করা হয়েছে। এছাড়া কঠোর বিধিনিষেধ দেওয়া হয়েছে চিহ্নিত বাড়ির লোকজনদের।

পিবিএ/রাজন্য রুহানি/এমএসএম

আরও পড়ুন...