জামালপুরে করোনা আক্রান্ত আরও ২৮ জন, মোট আক্রান্ত ২৩৬

রাজন্য রুহানি,জামালপুর: জামালপুরে গত ২৪ ঘন্টায় নমুনা পরীক্ষায় নতুন করে করোনায় আক্রান্ত হয়েছেন আরও ২৮ ব্যক্তি। এ নিয়ে জেলায় মোট আক্রান্তের সংখ্যা ২৩৬ জনে পৌঁছল। ময়মনসিংহের পিসিআর ল্যাবে দু দফায় ১৭১টি নমুনা পরীক্ষায় নতুন করে ২৮ ব্যক্তির সংক্রমণ শনাক্ত হয়েছে বলে শনিবার (৩০) মাঝরাতে এ তথ্য নিশ্চিত করেছে স্বাস্থ্য বিভাগ।

নতুন সংক্রমিতদের মধ্যে দেওয়ানগঞ্জে ১০, ইসলামপুরে ৭, বকশীগঞ্জে ৯ ও মেলান্দহে ২ ব্যক্তি রয়েছেন। এ নিয়ে জেলায় আক্রান্তের পরিসংখ্যান হলো : সরিষাবাড়ী ১৮, মেলান্দহ ৫১, মাদারগঞ্জ ১৪, বকশীগঞ্জ ২৩, দেওয়ানগঞ্জ ২১, ইসলামপুর ৩৭ ও সদর ৭২।

দেওয়ানগঞ্জের নির্বাহী কর্মকর্তা সুলতানা রাজিয়া পিবিএ’কে বলেন, এ উপজেলায় নতুন সংক্রমিত ১০ ব্যক্তির মধ্যে ৯ জনই ধানকাটা শ্রমিক। তাদের বয়স ২০ থেকে ৩৫ বছরের মধ্যে। তারা সম্প্রতি মুন্সিগঞ্জ জেলায় ধানকাটা শেষে নিজবাড়ির উদ্দেশ্যে ফিরলে তাদের একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে কোয়ারেন্টিনে রাখেন উপজেলা প্রশাসন। তাদের প্রত্যেকের বাড়ি উপজেলার বাহাদুরাবাদ ইউনিয়নের শাহজাদপুর গ্রামে। এছাড়া নারায়ণগঞ্জ থেকে আসা ৪০ বছর বয়সী এক পোশাককর্মী রয়েছেন।

ইসলামপুরের স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. এ এম আবু তাহের পিবিএ’কে বলেন, উপজেলায় নতুন আক্রান্ত ৭ ব্যক্তির মধ্যে পৌরসভার কিংজাল্লা গ্রামের একই পরিবারের ৭৫ বছরের এক বৃদ্ধ ও তার ৬৫ বছর বয়সী স্ত্রী এবং তাদের ২৫ বছরের কন্যা রয়েছেন। এ পরিবারে এর আগে এক শিশু আক্রান্ত হয়েছিল। এছাড়া ওই গ্রামের ২৩ বছর বয়সী এক বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র আক্রান্ত হয়েছেন। তিনি সম্প্রতি ঢাকা থেকে নিজবাড়িতে এসেছেন। সিরাজাবাদ গ্রামে ঢাকা থেকে আসা ২৫ বছর বয়সী এক নারী পোশাককর্মী, ৩২ বছর বয়সী ওষুধ প্রতিষ্ঠানের কর্মচারী এবং গাঁওকুড়া গ্রামের ২৩ বছরের এক কলেজছাত্রী রয়েছেন।

বকশীগঞ্জের নির্বাহী কর্মকর্তা আ.স.ম. জামশেদ খোন্দকার পিবিএ’কে বলেন, উপজেলায় নতুন আক্রান্ত ৯ ব্যক্তি দুটি পরিবারের সদস্য। তাদের মধ্যে একই পরিবারের ৪৫ বছরের এক নারী, তার ১৬ বছরের ছেলে ও ১৫ বছরের মেয়ে রয়েছেন। আরেক পরিবারের ৪৫ বছরের এক নারী, ১৫ ও ২০ বছরের ছেলেমেয়ে এবং ১০ ও ১২ বছরের শিশু রয়েছেন।তাদের বাড়ি বগারচর ইউনিয়নের সারমারা গ্রামে। ১৯ মে এই দুই পরিবারের এক দম্পতি করোনায় আক্রান্ত হবার পর এই ৯ ব্যক্তি তাদের সংস্পর্শে এসেছিলেন।

মেলান্দহের নির্বাহী কর্মকর্তা তামিম আল ইয়ামীন পিবিএ’কে জানান, উপজেলার নতুন আক্রান্ত ব্যক্তি দুজন একই পরিবারের সদস্য। ৫০ বছরের মা ও ২৭ বছর বয়সী ছেলে। তাদের বাড়ি ঝাউগড়া ইউনিয়নের কাপাসহাটিয়া গ্রামে। গত ২১ মে এই পরিবারের পঞ্চাশোর্ধ এক ব্যক্তি করোনায় আক্রান্ত হয়ে মারা যান। পরে ওই পরিবারের সদস্য ও প্রতিবেশীদের নমুনা সংগ্রহ করা হয়।

সিভিল সার্জন প্রণয় কান্তি দাস পিবিএ’কে জানান, নতুন আক্রান্ত ২৮ ব্যক্তির কয়েকজনকে নিজ নিজ বাড়িতে এবং বাকিদের জামালপুর সদরে প্রাতিষ্ঠানিক আইসোলেশন সেন্টারে ভর্তির ব্যবস্থা করা হচ্ছে। আক্রান্তদের বাড়ি লকডাউনের নির্দেশ দিয়েছেন স্ব স্ব উপজেলা প্রশাসন।

তিনি আরও জানান, জেলায় এ পর্যন্ত সর্বমোট নমুনা সংগ্রহ ৩৩৩৫টি। এদের মধ্যে ২৪ জন চিকিৎসক, একজন পল্লী চিকিৎসক, ৫৭ জন সরকারি স্বাস্থ্যকর্মী ও ১০ জন বেসরকারি স্বাস্থ্যকর্মী করোনায় আক্রান্ত হয়েছেন। করোনায় মারা গেছেন ৪ জন। আক্রান্তদের মধ্যে ১০৯ জন সুস্থ হয়েছেন।

পিবিএ/এমএসএম

আরও পড়ুন...