জামালপুরে গণধর্ষিতার ডাক্তারী পরীক্ষা সম্পন্ন, ধর্ষকের রিমান্ড আবেদন, এসপির প্রেসব্রিফিং

পিবিএ,জামালপুর: জামালপুরে পুলিশ পরিচয়ে করোনা তল্লাশির নামে ঘরে ঢুকে ১৪ বছর বয়সী এক শিশুকে গণধর্ষণের ঘটনায় গ্রেফতারকৃত ধর্ষক মিজানকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য আদালতে ৫ দিনের রিমান্ড আবেদন করেছে পুলিশ। ৭ এপ্রিল রিমান্ড শুনানির দিন ধার্য করেছেন আদালত। অন্য আসামিরা এখনো গ্রেপ্তার হয়নি। আসামিদের গ্রেপ্তারে পুলিশি অভিযান চলছে। ধর্ষিতা জামালপুর জেনারেল হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। তার ডাক্তারী পরীক্ষা সম্পন্ন হয়েছে। তবে এখনো ডাক্তারী পরীক্ষার রিপোর্ট প্রকাশ হয়নি।

জামালপুর সদর উপজেলার চরজালালের পাড়া এলাকায় পুলিশ পরিচয়ে করোনা তল্লাশির নামে ঘরে ঢুকে শিশুকে গণধর্ষণ শিরোনামে বিভিন্ন পত্রপত্রিকা, টেলিভিশন চ্যানেল ও অনলাইন নিউজ পোর্টালে সংবাদ প্রকাশ নিয়ে মঙ্গলবার দুপুরে পুলিশ সুপারের কার্যালয়ের কনফারেন্স রুমে জামালপুরের পুলিশ সুপার মো. দেলোয়ার হোসেন প্রেসব্রিফিং করেন। তিনি বলেন, করোনা ভাইরাসের এই দুর্যোগময় সময়ে ধর্ষণের খবর পেয়ে ঘটনাটি পুলিশ অধিকতর গুরুত্ব দেয়। মিজান নামে এক ধর্ষককে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তাকে আদালতে সোর্পদ করে ৫ দিনের রিমান্ডের আবেদন করা হয়েছে। বিজ্ঞ আদালত রিমান্ডের শুনানির তারিখ ৭ এপ্রিল ধার্য করে ধর্ষক মিজানকে জেল হাজতে প্রেরণ করেছে। অন্য আসামিদের গ্রেপ্তারে আমরা তৎপর রয়েছি। দ্রুত তাদের গ্রেপ্তার করতে সক্ষম হবো বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেছেন তিনি।

তিনি আরও বলেন, এ ঘটনায় ধর্ষিতার মা মোছা. ময়না বেগম ২৯ মার্চ নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে মামলা করেছেন। বাদী ও বিবাদীদের থানা ভিন্ন হলেও তাদের বাড়ি পাশাপাশি। ধর্ষিতা ঢাকায় থেকে দর্জির কাজ করেন। ২৩ মার্চ তিনি বাড়িতে আসেন। বাড়িতে আসার পর জামালপুরের মেলান্দহ থানার টগারচরের মো. হাবলুর ছেলে মো. মিজান ও রুহিলী গ্রামের আবু বক্কর সিদ্দিকের ছেলে পুষণ তাকে উত্যক্ত করাসহ কু-প্রস্তাব দেয়। প্রস্তাবে রাজি না হওয়ায় তাকে হুমকিও দেয় তারা।

পুলিশ সুপার বলেন, গণমাধ্যমে প্রকাশিত ঘটনা সবই ঠিক রয়েছে। তবে পুলিশি পরিচয়ে করোনা তল্লাশির নামে খবর প্রকাশিত হওয়ার পর মেয়ের বাবাকে জিজ্ঞাসাবাদ করে জানতে পারি, তিনি সৎ বাবা, বাড়িতে আসর বসিয়ে গাঁজা সেবন করতেন। সেদিনও বাড়ির পাশে ওই ৫ যুবক নিয়ে মেয়েটির বাবা গাঁজা সেবন করছিলেন। মাঝখানে মিজান ও পুশন নামে দুই যুবক আসর থেকে ওঠে গিয়ে পানি খেতে যায় তাদের ঘরে। ধর্ষিতা মেয়েটি পানি দিতে আসলে মিজান ও পোষণ জোরপূর্বক বাড়ির পশ্চিম-উত্তর জোণে চরচন্দ্রা মৌজার নদীর পারে নান্দু বিডিআরের মরিচ ক্ষেতে নিয়ে যায়। মিজান ওই মেয়েটিকে আইলে ফেলে জোরপূর্বক ধর্ষণ করে ও পোষণসহ অন্যরা পাহারা দেয়।

এই ছিল ঘটনা। মেয়েটির বাবা নিজের দোষ আড়াল করতে পুলিশ পরিচয়ে করোনা তল্লাশির নামে ঘরে ঢুকে তুলে নিয়ে ধর্ষণ করার কথা সাংবাদিকদের বলেছেন। আমরা ডাক্তারী রিপোর্ট, এলাকায় তদন্ত ও গ্রেপ্তারকৃত আসামি মিজানের রিমান্ড মঞ্জুর হলে প্রকৃত ঘটনা বের করতে পারবো। উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের সাথে যোগাযোগ করে দ্রুততম সময়ের মধ্যে বিচার সম্পন্ন করার চেষ্টা করবেন বলে সাংবাদিকদের জানিয়েছেন পুলিশ সুপার।

এদিকে ধর্ষণের ঘটনার পর জামালপুর জেনারেল হাসপাতালে চিকিৎসাধীন ধর্ষিতা সাংবাদিকদের বলেন, পুলিশি পরিচয়ে করোনা তল্লাশির নামে ঘরে ঢুকে ৪ যুবক আমাকে তুলে নেবার সময় আমার বাবা-মা বাঁধা দেন। আমার বাবার গলায় ছুরি ধরে ও মাকে মারধর করে আমাকে ক্ষেতের আইলে ফেলে দলবেঁধে জোরপূর্বক ধর্ষণ করা হয়। ৪ জন ধর্ষণ করার পর আরেকজনকে ফোন দিয়ে ডেকে আনার পর সেও ধর্ষণ করে। এই ৫ জনের মধ্যে মিজান ও পুশনকে চিনেছিলেন ধর্ষিতা। ধর্ষিতার বাবা-মাও একই বক্তব্য দিয়েছে। তার বাবার শরীরেও আঘাতের চিহ্ন রয়েছে। সরেজমিনে খোঁজ-খবর নিয়ে ধর্ষিতা ও ধর্ষিতার বাবা-মার বক্তব্য ও পুলিশের বক্তব্যের উপর ভিত্তি করেই রিপোর্টটি তৈরি হয়েছিল।

নিউজটি গণমাধ্যম ও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ভাইরাল হয়। জামালপুরের নানা শ্রেণিপেশার মানুষ,রমানবাধিকার কর্মী ও সচেতন মহল বিচারের দাবিতে সোচ্চার হয়ে উঠেছে। ধর্ষণের ঘটনাটির সুষ্ঠু তদন্ত করে প্রকৃত দোষীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির আওতায় এনে ধর্ষিতার বিচার নিশ্চিতের দাবি জানিয়েছেন তারা।

পিবিএ/রাজন্য রুহানি/বিএইচ

আরও পড়ুন...