দিল্লির ৯০ শতাংশ মানুষের দেহে করোনার অ্যান্টিবডি

অন্য সব মানুষের মতোই করোনায় আক্রান্ত হচ্ছেন ভারতের দিল্লির বাসিন্দারা। কিন্তু সেটা নিজের অজান্তেই। আবার সেরেও উঠছেন। দেশটির রাজধানীতে সম্প্রতি চালানো এক সমীক্ষার তথ্য বলছে, দিল্লির প্রায় ৯০ শতাংশ বাসিন্দার দেহে করোনাভাইরাস প্রতিরোধী অ্যান্টিবডি তৈরি হয়েছে।

বুধবার (২৭ অক্টোবর) দিল্লি সরকারের পক্ষ থেকে ‘ষষ্ঠ সেরোলজিক্যাল সার্ভে (সেরো সার্ভে) রিপোর্ট’ প্রকাশ করা হয়। তাতে বলা হয়েছে, দিল্লির অনেক বাসিন্দার দেহে করোনাভাইরাস সংক্রমণ প্রতিরোধী অ্যান্টিবডি তৈরি হয়েছে। সেই সংখ্যাটি কোনো অবস্থাতেই ৮৫ শতাংশের কম নয়।

দিল্লিতে ষষ্ঠ দফার সেরো সমীক্ষা শুরু হয়েছিল গত ২৪ সেপ্টেম্বর। এক সপ্তাহ ধরে তিন পৌরসভার ২৮০টি ওয়ার্ড থেকে ২৮ হাজার বাসিন্দার রক্তের নমুনা সংগ্রহ করা হয়েছিল। সংক্রমণের দ্বিতীয় ঢেউ শুরুর আগে গত জানুয়ারি মাসে পঞ্চম দফার সেরো সমীক্ষায় দেখা গিয়েছিল ৫৬ শতাংশেরও বেশি দিল্লিবাসীর দেহে করোনাভাইরাস প্রতিরোধী অ্যান্টিবডি তৈরি হয়েছে।

প্রসঙ্গত, সম্প্রতি মুম্বাইয়ে সেরো সমীক্ষাতেও দেখা গেছে অধিকাংশ মানুষের দেহেই তৈরি হয়ে প্রতিরোধ ব্যবস্থা। গত বছর জুলাই মাসে দিল্লিতে করোনা সংক্রান্ত ‘প্রথম সেরোলজিক্যাল সার্ভে রিপোর্ট’ জানিয়েছিল, দিল্লির অন্তত ২২.৬ শতাংশ বাসিন্দার দেহে করোনাভাইরাস প্রতিরোধী অ্যান্টিবডি তৈরি হয়েছে। তার এক মাস পরে দ্বিতীয় সেরো সমীক্ষার রিপোর্টে জানা যায়, সেখানকার এক-তৃতীয়াংশ নাগরিকদের দেহে করোনা প্রতিরোধী অ্যান্টিবডি তৈরি হয়েছে। তারা কোনোভাবে করোনায় আক্রান্ত হয়েছিলেন। পরে সেরেও উঠেছেন।

দেহে করোনা প্রতিরোধী অ্যান্টিবডি তৈরি হয়েছে কি না, তা দেখার জন্য রক্ত পরীক্ষার নাম সেরোলজিক্যাল টেস্ট। অ্যান্টিবডি হলো বিশেষ এক ধরনের প্রোটিন যা শরীরে কোনো জীবাণু প্রবেশ করলে তার বিরুদ্ধে লড়াই করে। ইমিউনোগ্লোবিউলিন-জি বা আইজি-জি নামের অ্যান্টিবডি করোনাভাইরাসের বিরুদ্ধে লড়াই করে। রক্ত পরীক্ষা করে আইজি-জি পাওয়া গেলে বোঝা যায়, সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি আক্রান্ত হয়েছিলেন এবং সেরেও উঠেছেন।

আরও পড়ুন...