দুমকির চার ইউনিয়নের ৫ শতাধিক ঘরবাড়ি নদীগর্ভে বিলীন


পিবিএ,দুমকি(পটুয়াখালী): পটুয়াখালীর দুমকিতে পায়রা ও লোহালিয়া নদীতে ভাঙনের তীব্রতা বৃদ্ধি পেয়েছে। গত এক সপ্তাহে নদী ভাঙনে উপজেলার আংগারিয়া ইউনিয়নের বাহেরচর ্এলাকা শতাধিক ঘরবাড়ি নদীগর্ভে বিলীন হয়েছে। বিগত এক বছরে উপজেলার আংগারিয়া, মুরাদিয়া, পাঙ্গাশিয়া ও লেবুখালী ইউনিয়নের অন্তত: ১০ গ্রামের ৫শতাধিক ঘর, বাড়ি ফসলী জমিসহ বিস্তীর্ণ এলাকা নিশ্চিহ্ন হয়ে গেছে। হুমকির মুখে রয়েছে লেবুখালীর পুরাতন বাজার, আংগারিয়ার বাহেরচর, মুরাদিয়ার কালেখা সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয় ও দক্ষিন মুরাদিয়ার মজুমদারের হাট, রাজগন্জ ও চান্দখালী গ্রামের ওয়াপদা বেড়িবাঁধ।

ভাঙন অব্যাহত থাকায় ওইসব এলাকার মানুষের মধ্যে আতংকের পাশাপাশি উদ্বেগ ও উৎকণ্ঠা বাড়ছে। নদী ভাঙন কবলিত অসহায় পরিবারগুলোর মধ্যে কেউ কেউ ইতোমধ্যে নিরাপদ আশ্রয়ে সরে গেলেও অধিকাংশ পরিবার খোলা আকাশের নিচে মানবেতর জীবন কাটাচ্ছে। লেবুখালী পুরাতন বাজার সওজ’র সরকারী রাস্তার ওপর আশ্রয় নেয়া ৩০/৩৫টি পরিবার খোলা আকাশের নীচে অবর্নণীয় দুর্ভোগে কাটাচ্ছে। বাহেরচর এলাকায় অব্যাহত ভাংগনের মুখে এখনও গ্রামের মায়ায় পড়ে রয়েছে শতাধিক ছিন্নমূল পরিবার। উত্তর মুরাদিয়া ও সন্তোষদির পাউবো’র রাস্তায় আশ্রয় নেয়া শতাধিক পরিবার চরম অর্থ ও খাদ্যে সংকটের মধ্যে দিন কাটাচ্ছে।

আঙ্গারিয়া ইউনিয়নের বাহেরচর এলাকায় ভাঙ্গনের তীব্রতা বৃদ্ধি পেয়েছে। আংগারিয়া ইউপি চেয়ারম্যান মো: সুলতান আহম্মেদ হাওলাদার পিবিএ’কে জানান, গত শনিবার থেকে বৃহস্পতিবার পর্যন্ত এক সপ্তাহে বাহেরচর গ্রামের অর্ধশতাধিক পরিবারের বাড়িঘর নদীগর্ভে চলে গেছে। প্রতিদিনই ভাংগছে, ভাংগনের কবলে পড়া এ ইউনিয়নের প্রায় দুই থেকে আড়াইশ’ পরিবারের অসহায় মানুষ খোলা আকাশের নীচে মানবেতর জীবন যাপন করছে।

মুরাদিয়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মো: জাফর উল্লাহ পিবিএ’কে জানান, লোহালিয়া নদীর ভাঙ্গনে বিগত এক বছরে উত্তর মুরাদিয়া, সন্তোষদি, কালেখা, দক্ষিন মুরাদিয়ার কলাগাছিয়া গ্রামের প্রায় শতাধিক বাড়িঘর নদীগর্ভে বিলীন হয়ে গেছে। পাঙ্গাশিয়া ইউপি চেয়ারম্যান মো: আলমগীর হোসেন সিকদার জানান, পাংগাশিয়ার রাজগঞ্জ, চান্দখালী, আলগি, এলাকায় নদী ভাংগনে শতাধিক পরিবার গৃহহীন হয়েছে। প্রতি বর্ষা মৌসুমে ওই এলাকার বন্যা নিয়ন্ত্রণ বেরিবাঁধ ভেঙ্গে বিস্তীর্ণ এলাকা প্লাবিত হয়ে ফসল নস্ট হচ্ছে। তিনি আরও বলেন, নদী ভাঙ্গনে উপজেলার লেবুখালী ইউনিয়নের পশ্চিম লেবুখালী, ফেরীঘাট, লেবুখালী পুরাতন বাজার, পশ্চিম আংগারিয়া, মুরাদিয়ার উত্তর মুরাদিয়া, সন্তোষদি, চরগরবদি, কলাগাছিয়াসহ ১০ গ্রামের পাঁচশতাধিক পরিবার তাদের ঘরবাড়ি হারিয়ে নি:স্ব হয়ে গেছে। এভাবে ভাঙন অব্যাহত থাকলে পাঙ্গাশিয়া, আংগারিয়া ও লেবুখালী ইউনিয়ন উপজেলার মানচিত্র থেকে অচিরেই নিশ্চিহ্ন হয়ে যাবে। তিনি ভাঙন কবলিত এলাকার ক্ষতিগ্রস্থ পরিবারগুলোকে সাহায্য-সহযোগিতা করার জন্য সরকারের কাছে আবেদন জানান।

আলগি গ্রামের আবদুল লতিফ আকন , চান্দখালীর দেলোয়ার খন্দকার ও মান্নান খন্দকার, লেবুখালীর দেলোয়ার হোসেন মোল্লা, জাকির হোসেন মোল্লাসহ ক্ষতিগ্রস্থ পরিবারগুলো ভাঙনে সর্বস্ব হারিয়ে পুরোপুরি নিঃস্ব হয়ে পড়েছেন। তারা পরিবার পরিজন নিয়ে এখন ওয়াপদা বেড়িবাঁধে খোলা আকাশের নিচে বসবাস করছেন। তারা অভিযোগ করেন, এখন পর্যন্ত কেউ তাদের কোন খোঁজ-খবর নেয়নি। খেয়ে না খেয়ে স্ত্রী-সন্তান নিয়ে বহু কষ্টে কোনোমতে দিন কাটাচ্ছেন এই পরিবারগুলো। শুধু এরাই নয়, এ রকম মানবেতরভাবে জীবনযাপন করছেন ভাঙন কবলিত ওই এলাকার প্রায় সব মানুষই। আংগারিয়া ইউনিয়নের ভাঙ্গন কবলিত বাহেরচর গ্রামের প্রায় অর্ধশতাধিক ঘরবাড়ি নদীগর্ভে তলিয়ে গেছে। হুমকির মুখে রয়েছে অসখ্য ঘরবাড়ি ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠান। এমতাবস্থায় ভাঙন রোধ করা না গেলে অল্প কয়েকদিনের মধ্যেই ওই ইউনিয়নের বহু ঘরবাড়ি ও আবাদি জমির ফসল নদীগর্ভে তলিয়ে যাবে বলে তিনি আশংকা প্রকাশ করেন। এছাড়া মুরাদিয়া ইউনিয়নের ঝড়ঝড়িয়াতলা, মজুমদার হাট ও কলাগাছিয়া এলাকায় ঘরবাড়ি হুমকির মুখে রয়েছে। মজুদারের হাটের অর্ধেকের বেশীই এলাকা ভেঙ্গে নদী গর্ভে চলে গেছে। ভাংগন রোধকল্পে জরুরী ব্যবস্থা গ্রহনের দাবী জানিয়েছেন এলাকাবাসী ও ক্ষতিগ্রস্থরা।

দুমকি উপজেলা চেয়ারম্যান এড. হারুন অর রশিদ হাওলাদার বলেন, ভাঙ্গন রোধে কার্যকর পদক্ষেপ নিতে পটুয়াখালী পানি উন্নয়ন বোর্ডকে ডিও লেটার দেয়া হয়েছে। টেলিফোনে নির্বাহী প্রকৌশলীকে জানিয়েছি। খুব শীঘ্রই ভাংগন রোধে কাজ শুরু হবে।

পটুয়াখালী পানি উন্নয়ন বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী মো: হাসানুজ্জামান পিবিএ’কে বলেন, বাহেরচর এলাকার ভাঙ্গন পরিদর্শণে টিম পাঠানো হয়েছে। পরিদর্শন টিমের রিপোর্টের ভিত্তিতে শীঘ্রই ভাংগন রোধে কাজ শুরু হবে।

পিবিএ/সোহাগ হোসেন/এমএসএম


আরও পড়ুন...

ঘরে বসেই নিজের বিকাশ একাউন্ট খুলুন