হঠাৎ রংপুরের মাস্কের বাজারে আগুন

দ্বিগুণ হয়েছে মাস্কের দাম

মেজবাহুল হিমেল,রংপুর: করোনা ভাইরাসের সংক্রমণ দ্রুত বেড়ে যাওয়ায় এক সপ্তাহের লকডাউন ঘোষণার দিয়েছে সরকার। আর এ লকডাউন ঘোষণার পর থেকেই মাস্কের দাম বেড়েছে দ্বিগুণ। একই সঙ্গে স্যানিটাইজারের দামও কিছুটা বেড়েছে।
বুধবার লকডাউনের তৃতীয় দিনে রংপুরের লালবাগ, জাহাজ কোম্পানীর মোড়, পায়রা চত্তর, মিঠুর মোড়, সিটি বাজার, টাউন হল, কাচারী বাজার, মেডকেল মোড়সহ নগরীর বিভিন্ন স্থানে পিবিএ রংপুর প্রতিনিধি ঘুরে এমন চিত্র দেখেন।

হ্যান্ড স্যানিটাইজারের দাম তেমন না বাড়লেও চাহিদা বেড়েছে। এছাড়াও জীবাণুনাশক, হ্যান্ডওয়াস এবং ওষুধের বাড়তি বিক্রির কথাও জানান বিক্রেতারা।

ক্রেতারা বলছেন, রবিবার পর্যন্ত মাস্কের দাম কম ছিলো। রাত পার না হতেই মাস্কের দাম বেড়ে গেছে। এখনই বিষয়টি সরকারের নজরে না আসলে এর দাম আরো বাড়িয়ে দেবে অসাধু কিছু ব্যবসায়ী।

এ বিষয়ে মাস্ক-স্যানিটাইজার বিক্রেতা জসিম মিয়া পিবিএকে বলেন, মাস্ক ও স্যানিটাইজার পর্যাপ্ত আছে। আমরা বেশি দামে কিনছি, তাই বেশি দামে বিক্রি করতে হচ্ছে। তিনি আরও বলেন, লকডাউন ঘোষণার পরই পাইকারি বাজারে মাস্কের দাম বেড়ে গেছে। তাই বাড়তি দাম দিয়ে বাধ্য হয়েই কিনতে হচ্ছে। এখন দুই পিস মাস্ক ১০ টাকা, আগে চার পিস ১০ টাকায় বিক্রি করতাম।

মাস্ক বিক্রেতা আক্কাস আলী পিবিএকে বলেন, মাস্কের চাহিদা বেশি তাই দামও সামান্য বেশি। আমরা বেশি দামে কিনেছি তাই বেশি দামে বিক্রি করতে হচ্ছে। তবে স্যানিটাইজার দাম তেমন বাড়েনি। ৫০টি মাস্কের বাক্সের দাম ১৪০ থেকে ১৫০ টাকা। স্যানিটাইজার ছোট সাইজ ৪০-৫০ টাকা, আর বড় সাইজ ১৩০ থেকে ১৫০ টাকা।

নগরীর জাহাজ কোম্পানীর মোড়ে অস্থায়ী মাস্কের দোকান বসিয়েছেন ওবায়দুল ইসলাম। তিনি পিবিএকে বলেন, আগে মাস্কের প্যাকেট ১০০টাকায় বিক্রী হতো। দুদিন থেকে সারা দেশে সাত দিনের লকডাউন হওয়ার কারণে মাস্কের দাম বেড়ে যাওয়ায় একন প্যাকেট বিক্রী করতে হচ্ছে ১৫০-১৬০ টাকায়।

যারা মাস্ক আগে ৩৫টাকা বিক্রী হতো দু-দিন থেকে ৫০-৬০টাকায় বিক্রী হচ্ছে বলে জানান মাস্ক বিক্রেতা সাগর মিয়া। তিনি আরও জানান, লকডাউনের ঘোষণার পরই পাইকারি বাজারে মাস্কের দাম হু হু করে বাড়তে শুরু করে। এতে তারাও মাস্কের দাম বাড়াতে বাধ্য হই। আমরা বেশি দামে কিনেছি বলে বেশি দামে মাস্ক বিক্রি করতে হচ্ছে। তবে স্যানিটাইজার আগের দামেই বিক্রি হচ্ছে। তবে হ্যান্ড গ্লোভসের বিক্রি বাড়েনি।
মাস্ক কিনতে আসা রাশেদ হোসেন রাব্বি পিবিএকে বলেন, এক সপ্তাহ আগেও সার্জিক্যাল মাস্ক কিনেছিলাম দুইটা পাঁচ টাকায়, এখন দুইটা কিনতে হচ্ছে দশ টাকা দিয়ে। কিন্তু লকডাউনের ঘোষণার পর থেকে মাস্কের দাম বাড়ানো হয়েছে।

করোনা প্রতিরোধে শুধু লকডাউন দিলেই তো হবে না। মাস্কসহ এধরণের পূণ্যের বাজার পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণেও রাখা জরুরী বলে জানান রাব্বি।

পিবিএ/এমএসএম

আরও পড়ুন...