করতোয়ার তীরে লাশের মিছিল, এলাকাজুড়েঁ শোকের মাতম

পিবিএ,পঞ্চগড় প্রতিনিধি: লাশের মিছিল যেন থামছেই না। পঞ্চগড়ে মহালয়ার উৎসবে যোগ দিতে গিয়ে নৌকা ডুবে দ্বিতীয় দিন ২৬ জনের লাশ উদ্ধার করা হয়েছে। গতকাল ও আজ মিলিয়ে লাশের সংখ্যা গিয়ে দাড়িয়েছে ৫০ জনে। এলাকায় চলছে শোকের মাতম। নিখোঁজ স্বজনদের খুঁজতে আউলিয়া ঘাঠে নদীর তীরে ভীড় করছে তাদের পরিবার।

দুর দুরান্ত থেকে ঘটনাস্থল দেখতে আসছে উৎসুক জনতা। দুই ভাতিজী নিখোঁজ পুতুল রানী (১২)ও কবিতা (৮)কে খু্ঁজতে এসেছেন গোবিন্দ গুরু গ্রামের প্রদীপ চন্দ্র বর্মন, তিনি জানান গতকাল তার ২জন ভাতিজী তাদের কাকিমা সাথী রানীর সাথে এসেছিল মহালয়ার উৎসবে যোগ দিতে। নৌকা ডুবি ঘটনায় সাথী রানীকে উদ্ধার করে স্থানীয়রা, পরে বোদা উপজেলা হাসপাতালে চিকিৎসার জন্য পাঠানো হয়, তিনি এখন সুস্থ রয়েছেন বলে জানতে পারা যায়। কিন্তু খোঁজ মেলেনি উনার ভাতিজীদের। এক নারী তার নাতনী আখিঁকে খুজঁতে এসেছেন। আখিঁ নিখোঁজ রয়েছে বলে তিনি জানান।

পঞ্চগড়ে করতোয়া নদী পাড়াপাড়ের সময় অতিরিক্ত যাত্রীর চাপে নৌকাডুবীর ঘটনা ঘটে। সেই সাথে সময় বাড়ার সাথে সাথে বাড়ছে লাশের সংখ্যাও। ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স উদ্ধার কাজ চালিয়ে যাচ্ছে। পাশাপাশি স্থানীয়রাও যে যার মত করে উদ্ধার কাজে অংশ নিয়েছেন। ইউনিয়ন পরিষদে খোলা হয়েছে জরুরী তথ্য ও সহায়তা কেন্দ্র এবং তা মনিটরিং করছেন অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট দীপঙ্কর রায়।

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, সনাতন ধর্মাবলম্বীদের উৎসব মহালয়াকে কেন্দ্র করে পার্শ্ববর্তী বড়শশী ইউনিয়নের বদেশ্বরী মন্দিরে পূজার আয়োজন করা হয়। সেখানে অংশ নিতে জেলার বিভিন্ন এলাকা থেকে পূণ্যার্থীরা বদেশ্বরী মন্দির যাওয়ার জন্য মাড়েয়ার আউলিয়া ঘাটে উপস্থিত হন। পূজার কারণে অন্যান্য দিনের তুলনায় যাত্রীদের চাপ বেশি ছিল। বিকাল ৩টার দিকে অতিরিক্ত যাত্রী উঠানোর কারণে নৌকাটি মাঝ নদীতে আসা মাত্র ডুবে যায়। গত তিন দিনের ভারী বর্ষণের কারণে নদীতে পানি বৃদ্ধি পায়। ফলে নৌকা ডুবে যাওয়ায় মাঝ নদী থেকে নৌকার অধিকাংশ যাত্রী সাঁতার কেটে তীরে ফিরতে পারেননি।

আউলিয়ার ঘাটে উদ্ধার অভিযানে নেতৃত্বদানকারী কর্মকর্তা লিডার শাহজাহান আলী বলেন, আমরা স্থানীয়দের সহযোগিতায় উদ্ধার কাজ অব্যাহত রেখেছি। নদীর পানি বেশি হওয়ায় উদ্ধার কাজে ব্যাঘাত ঘটছে। উদ্ধার কাজে অংশ নিতে রংপুর ও রাজশাহী থেকে ডুবুরী দল এসেছেন।

এদিকে নিহতদের পরিবারকে সৎকারের জন্য জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে ২০ হাজার টাকা পরিবার প্রতি দেওয়া হয়েছে। পঞ্চগড় ২ আসনের সংসদ সদস্য ও রেলপথমন্ত্রী এ্যডভোকেট নুরুল ইসলাম সুজন কক্সবাজারে নৌকাডুবি ঘটনা জানার সাথে সাথে ছুটে এসে গতকাল রাতেঁ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন। আজকেও তিনি এসে মৃত ব্যাক্তিদের বাড়ি বাড়ি গিয়ে দেখা করেন।

ইনসান সাগরেদ/এমআর

আরও পড়ুন...