ধুনটে যমুনার ভাঙ্গনে দুই বিদ্যালয়ের শিক্ষকরা বিপাকে!

পিবিএ,ধুনট (বগুড়া): বগুড়ার ধুনট উপজেলার ভান্ডারবাড়ী ইউনিয়নের বৈশাখী চরে নদী ভাঙ্গনের শিকার দুটি বিদ্যালয় নিয়ে বিপাকে পড়েছেন শিক্ষকরা। চলতি বছরের বন্যায় ওই চর যমুনা নদী গর্ভে বিলীন হয়ে যায়। বাধ্য হয়ে ঠিকানা পরিবর্তন করেছেন চরের বাসিন্দারা। বদলে গেছে ১৩৫ বছর আগে প্রতিষ্ঠিত বৈশাখী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় এবং ৫০ বছর আগে প্রতিষ্ঠিত বৈশাখী নিম্ন মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের ঠিকানাও।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ধুনট উপজেলার এক সময়ের সমৃদ্ধ গ্রামের নাম বৈশাখী। ৮০ দশকে যমুনা নদীর ভাঙ্গনের কবলে পড়ে এই গ্রাম। ১৯৮৪ সালে গ্রামটি যমুনা নদীর গর্ভে বিলীন হয়ে যায়। এরপর ১৯৯৫ সালে যমুনার বুকে জেগে ওঠে বৈশাখী। এরপর থেকে ওই গ্রামের বাসিন্দা চরে ফিরতে শুরু করেন। এক পর্যায়ে বৈশাখী চরে স্থায়ী ভাবে বসবাস শুরু হয়।

১৮৮৫ সালে বৈশাখী গ্রামে একটি প্রাথমিক বিদ্যালয় এবং ১৯৭০সালে একটি নিম্ন মাধ্যমিক বিদ্যালয় প্রতিষ্ঠা করা হয়। ১৯৮৪ সালে গ্রামটি নদী গর্ভে বিলীন হলে স্কুল দু’টি যমুনা তীরের শহরাবাড়ী গ্রামে স্থানান্তর করা হয়। কিন্তু চর জেগে ওঠার পর স্থায়ী ভাবে বসবাস শুরু হলে চরের বাসিন্দারা স্কুল দু’টিকে পুনরায় নিজেদের গ্রামে ফিরিয়ে নিয়ে যান।

চলতি বছরে বৈশাখী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে ১২০জন ও বৈশাখী নিম্ন মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে ১৩২জন শিক্ষার্থী লেখাপড়া করছিল। গত ১৭ মার্চ থেকে করোনা ভাইরাসের কারনে দেশের সকল শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে এ দুটি বিদ্যালয়েও পাঠদান বন্ধ হয়ে যায়। এদিকে গত জুলাই মাস থেকে দফায় দফায় বন্যায় আক্রান্ত হয় বৈশাখী চর। গত কয়েক বছরের ধারাবাহিকতায় এবারও বন্যার সময় বৈশাখী চরে নদী ভাঙন দেখা দেয়। নদী ভাঙনের ফলে চরের শতাধিক পরিবারের বসত ভিটা, মসজিদ, দুটি বিদ্যালয় নদী গর্ভে বিলীন হয়ে যায়। বর্তমানে ওই চরে কোন বসতি নেই। যার ফলে স্কুল দু’টি নদীর পশ্চিম তীরে বানিয়াজান গ্রামের চল্লিশপাড়ায় স্থানান্তর করা হয়েছে।

বৈশাখী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক নুরুল ইসলাম বলেন, বৈশাখী চর নদী গর্ভে বিলীন হওয়ায় আমরা বিদ্যালয়টি বানিয়াজান গ্রামের চল্লিশপাড়ায় স্থানান্তর করেছি। এই গ্রামের একজন ব্যক্তি বিদ্যালটি প্রতিষ্ঠার জন্য জমি দান করেছেন। সেখানে আপাতত একটি মাত্র ঘর নির্মাণ করা হয়েছে।

বৈশাখী নিম্ন মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মাহমুদুল হাসান বলেন, প্রাথমিক বিদ্যালয়ের পাশাপাশি নিম্ন মাধ্যমিক বিদ্যালয়টিও চল্লিশপাড়ায় স্থানান্তর করা হয়। কিন্তু বিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার জন্য জমি পাওয়া যায়নি। যার কারনে ম্যানেজিং কমিটির মাধ্যমে ৩৫ শতাংশ জমি কিনে একটি ঘর ওঠানো হয়েছে।

বিদ্যালয় দু’টির শিক্ষক ও পরিচালনা কমিটির সদস্যরা জানান, আপাতত বিদ্যালয় দু’টির একটি করে ঘর ওঠানো হয়েছে। তবে সেখানে প্রয়োজন অনুসারে শ্রেণি কক্ষ নেই। পর্যাপ্ত শ্রেণি কক্ষের জন্য আরো ঘর নির্মাণ করা প্রয়োজন। এছাড়া ঘর গুলোর মেঝেতে মাটি ভরাট, ব্রেঞ্চ ও প্রয়োজনীয় আসবাবপত্র তৈরী করা প্রয়োজন। তাছাড়া মুল সড়ক থেকে বিদ্যালয়ে যাওয়ার জন্য সড়ক নির্মাণ করতে হবে। বতর্মানে সেখানে কাঁদা-পানি মাড়িয়ে চলতে হচ্ছে শিক্ষকদের। তারা দাবী করেন, দ্রুত স্কুলে পাঠদানের পরিবেশ তৈরী করা না গেলে স্কুল খোলার পর শিক্ষার্থীদের পাঠদান ও পরীক্ষা গ্রহণ অনিশ্চিত হয়ে পড়বে।

ভান্ডারবাড়ী ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আতিকুল করিম আপেল বলেন, বৈশাখী চরের স্কুল দু’টি চল্লিশপাড়ায় স্থানান্তর করা হয়েছে। সেখানে তাদের বিভিন্ন সমস্যা বিদ্যমান রয়েছে। ইউনিয়ন পরিষদ থেকে সাধ্য অনুযায়ী তাদের সমস্যাগুলোকে সমাধানের চেষ্টা করা হবে।

উপজেলা নির্বাহি কর্মকর্তা সঞ্জয় কুমার মহন্ত বলেন, স্কুল দু’টি স্থানান্তরের বিষয়ে শুনেছি। তাদের পাঠদানের পরিবেশ সৃষ্টি করতে বেশ কিছু সমস্যার কথা জেনেছি। প্রতিষ্ঠান দুটির সমস্যা গুলো পর্যায়ক্রমে সমাধান করা হবে।

পিবিএ/আবু সুফিয়ান/এমআর

আরও পড়ুন...