নওগাঁয় অসময়ে দেখা মিলেছে পলাশ ফুলের

ইউনুস আলী ফাইম,নওগাঁ: এখনো শীত শেষ হয়নি। মাঘের শুরু এখনও একদিন বাকী। বরং কিছুদিন ধরে তার তীব্রতা আরো বেড়েছে। তবে এবার শীতেই নওগাঁ শহরে দেখা মিলেছে পলাশ ফুলের।

অসময়ে লালচে কমলা রঙের আভায় নওগাঁ শহরের ব্যস্ততম মুক্তির মোড় কেন্দ্রীয় শহীদ মিনার চত্তর পলাশ ফুল প্রকৃতিকে রাঙিয়ে দিয়েছে। আর এই ফুলকে ঘিরে অসময়ে বসন্ত উৎসবে মেতেছে কোকিল, বুলবুলি, শালিকের মত ছোট গানের পাখিরা।

নওগাঁ শহরের প্রাণ কেন্দ্র হিসেবে কেন্দ্রীয় শহীদ মিনার চত্বরকে বিবেচনা করা হয়। এই চত্বর একপাশে গাছে গাছে পলাশ রঙের পসরা সাজিয়েছে। এই অসময়ে পলাশের পসরা যেন শহরেতে বসন্ত বরণে প্রস্তুতি।

জাতীয় কবি নজরুলের একটি জনপ্রিয় গানে আছে,- ‘হলুদ গাঁদার ফুল, রাঙা পলাশ ফুল, এনে দে এনে দে নৈলে রাঁধব না, বাঁধব না চুল।’

কবিগুরু রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর পলাশের রঙ দেখে লিখেছিলেন, -‘রাঙ্গা হাসি রাশি-রাশি অশোকে পলাশে, রাঙ্গা নেশা মেঘে মেশা প্রভাত-আকাশে, নবীন পাতায় লাগে রাঙ্গা হিল্লোল।’

পলাশ পর্ণমোচী বৃক্ষ জাতীয় ফুল গাছ। উচ্চতা গড়ে ১২ থেকে ১৫ মিটার। শাখা-প্রশাখার সামনে থোকায় থোকায় ফুল ফোটে। কুঁড়ি দেখতে অনেকটা বাঘের নখের আকৃতির মতো। বাকল ধূসর। শাখা-প্রশাখা ও কাণ্ড আঁকাবাঁকা। নতুন পাতা রেশমের মতো সূক্ষ্ম। গাঢ় সবুজ পাতা ত্রিপত্রী, দেখতে অনেকটা মান্দার গাছের পাতার মতো হলেও আকারে বড়। শীত মৌসুমে গাছের সব পাতা ঝরে যায়। গ্রীষ্মে নতুন পাতা গজায়। ফুল ফোটার সময় গাছ থাকে পাতাশূন্য। গাছের শাখা-প্রশাখা নরম। ফুল শেষে গাছে ফল ধরে। ফল দেখতে অনেকটা শিমের মতো। বীজ ও ডাল কাটিংয়ের মাধ্যমে পলাশের বংশবিস্তার ঘটানো হয়।

পলাশ বসন্তজুড়েই মুগ্ধতা ছড়ায়। সংস্কৃতিতে ফুলটি কিংসুক নামে আর মনিপুরী ভাষায় পাঙ গোঙ নামে পরিচিত।

প্রতিকূল পরিস্থিতিতে অসময়ে নওগাঁর রাস্তার পাশে অন্তত ১০-১২টি পলাশ গাছ রয়েছে; যাতে শীতের মধ্যভাগেই লালচে কমলা রঙের ফুলের দেখা মিলছে। এই পথে আসা-যাওয়ার সময় ইট-পাথরের নগরীর বাসিন্দাদের মনে পলাশ ফুল দেখে ভালোলাগার আবহ ছড়িয়ে যাচ্ছে।

অসময়ে পলাশ ফুল ফোঁটার পেছনে আবহাওয়া পরিবর্তনের প্রভাব রয়েছে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। নওগাঁর বদলগাছী উপজেলা কৃষি আবহাওয়া পর্যবেক্ষণাগার সূত্রে জানা যায় , বৈশ্বিক জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে আবহাওয়ায় বড় ধরণের অদল-বদল হয়েছে।

নওগাঁ সরকারি কলেজের উদ্ভিদ বিজ্ঞান বিভাগের সহকারী অধ্যাপক ফজিলাতুন নেছা মিলি বলেন, ‘বৈশ্বিক জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে ষড়ঋতুর বাংলাদেশে ঋতুর চারিত্রিক পরিবর্তন হচ্ছে। আর এর প্রভাব পড়ছে পরিবেশ ও প্রকৃতিতে। বসন্ত ঋতু আসার আগে পলাশ ফুল ফোঁটার পেছনেও আবহাওয়ার পরিবর্তণের প্রভাব বলে মনে করছেন তিনি।

একসময় গ্রামে-গঞ্জে অনেক পলাশ গাছ দেখা গেলেও আজকাল কদাচিৎ তার দেখা পাওয়া যায়। এমন অবস্থায় অসময়ে নওগাঁ শহরেতে পলাশের পসরাকে শহরবাসী দেখছেন প্রকৃতির আশীর্বাদ হিসেবে।

আরও পড়ুন...