‘নিজ হাতে ১১টি লাশ উদ্ধার করেছি’

নৌকাডুবির ঘটনাটি খুবই ভয়াবহ। নৌকা ডুবে যাওয়ার পর ফায়ার সার্ভিসের উদ্ধার অভিযান নিয়ে আমি খুব হতাশ ছিলাম। সেজন্য নিজ থেকে উদ্যোগ গ্রহণ করে আরো কয়েকজনকে সঙ্গে নিয়ে লাশ উদ্ধার করা শুরু করি। আমি নিজ হাতে ১১টি লাশ উদ্ধার করেছি। আমরা আজও উদ্ধার কাজ পরিচালনা শুরু করব। আমার সঙ্গে আরো স্থানীয় মানুষ সম্পৃক্ত আছেন।

কথাগুলো বলছিলেন সারোয়ার হোসেন। পঞ্চগড়ের বোদা উপজেলার করতোয়া নদীতে নৌকাডুবির ঘটনায় ফায়ার সার্ভিসের পাশাপাশি মরদেহ উদ্ধারে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালনকারীর মধ্যে তিনিও একজন। সারোয়ার হোসেন উপজেলার মাড়েয়া বামনহাট ইউনিয়নের পাকাপাড়া গ্রামের বাসিন্দা সারোয়ার। পেশায় তিনি একজন ব্যবসায়ী। নিজের কথা না ভেবে স্থানীয় যুবকদের সঙ্গে নিয়ে তিনি মরদেহ উদ্ধার কাজ পরিচালনা করেন।

সারোয়ার হোসেন বলেন, নৌকাডুবির ঘটনাটি খুবই ভয়াবহ। নৌকা ডুবে যাওয়ার পর ফায়ার সার্ভিসের উদ্ধার অভিযান নিয়ে আমি খুব হতাশ ছিলাম। সেজন্য নিজ থেকে উদ্যোগ গ্রহণ করে আরও কয়েকজনকে সঙ্গে নিয়ে লাশ উদ্ধার করা শুরু করি। আমি নিজ হাতে ১১টি লাশ উদ্ধার করেছি। আমার কাছে মানুষ মানে হলো মানুষের পাশে দাঁড়ানো। এখানে ধর্ম-বর্ণ কোনো বাধা না। মানুষের জন্য কিছু করতে পারাটাই সবচেয়ে বড় প্রাপ্তি। আমরা আজও উদ্ধার কাজ পরিচালনা শুরু করব। আমার সঙ্গে আরও স্থানীয় মানুষ সম্পৃক্ত আছেন।

পঞ্চগড় ফায়ার সার্ভিসের স্টেশন কর্মকর্তা তুষার কান্তি বলেন, আজ তিন দিন ধরে উদ্ধার অভিযান পরিচালনা করছি। আমরা আমাদের সাধ্যমতো চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছি।

জেলা প্রশাসক জহুরুল ইসলাম বলেন, শোকাহত পরিবারের প্রতি সমবেদনা জ্ঞাপন করছি। এ ঘটনায় পাঁচ সদস্যের একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। আর মৃতদের পরিবারের মাঝে ২০ হাজার টাকা করে অনুদান দেওয়া হচ্ছে। আহতদের চিকিৎসা খরচ বহন করা হবে বলে জানিয়েছেন তিনি।

আরও পড়ুন...