পঞ্চগড়ে মদের বৈধ দোকানে অবৈধ ক্রেতার ভিড়

ইনসান সাগরেদ,পঞ্চগড়: পঞ্চগড় শহরের প্রাণকেন্দ্র করতোয়া নদীর তীরে পৌর খালপাড়া এলাকায় সরকার অনুমোদিত দেশীয় মদের দোকান। এখানে লাইসেন্সধারী মাদকসেবীদের কাছে মদ বিক্রির কথা থাকলেও নিয়মনীতির তোয়াক্কা না করে সব বয়সিদের কাছে দেদারছে বিক্রি করা হচ্ছে মদ। চাহিদা মত দেওয়া হচ্ছে যে কোন ব্যক্তিকে । মদ পেতে সহজলভ্য হওয়ায় দিন দিন বাড়ছে মাদকাসক্তের সংখ্যা। স্থানীয়রা অতি দ্রুত লাইসেন্সের আড়ালে এই অবৈধ কারবার বন্ধের দাবী জানিয়েছেন।

জানা যায়, ১৯৭৭-৭৮ সালে লাইসেন্স নিয়ে অর্জুন কুমার ভৌমিক এর প্রয়াত পিতা এই মদের দোকানটি চালু করেন। জেলায় মোট দেশী মদের লাইসেন্সধারী মুসলমান ৪৩ ও অন্যান্য ধর্মের ২০৭ জন, মোট ক্রেতার সংখ্যা মাত্র ২৫০ জন। জনপ্রতি মাসে সাড়ে আট লিটার মদ বরাদ্দ দেয়ার নিয়ম রয়েছে। গত আগস্ট মাসে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের অভিযানে দুটি নিয়মিত মামলা ও ২৯ জনকে ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে জেল হাজতে পাঠানো হয়েছে। এসময় ১ কেজি ৫৮০ গ্রাম গাঁজা ও ৪৬৩ পিচ নেশাজাতীয় ইনজেকশন জব্দ করা হয়।

এদিকে জেলা পুলিশ পঞ্চগড় জেলায় ১৫ টি মামলা দায়ের করে, সাত কেজি ৩০০ গ্রাম গাঁজা, নয় লিটার মদ, ১৬০ পিচ নেশাজাতীয় ইনজেকশন, ১০ গ্রাম হিরোইন জব্দ করেন।
সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, উঠতি বয়সী যুবক সহ নানা শ্রেণি-পেশার মানুষ এখানে মদ কিনতে আসে। লাইসেন্সধারীদের কাছে মদ বিক্রির কথা থাকলেও এখানে তা মেনে মদ বিক্রি করেন না বিক্রেতা। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক দুই ব্যক্তি জানান, তাদের কাছে কোন লাইসেন্স নাই। এক লিটার মদ ৪০০ টাকা দিয়ে কিনেন তারা। টাকা দিলে যে কাউকে মদ দেওয়া হয়। কোন রকম বাধা বিঘ্ন ছাড়াই তারা মদ কেনেন।

মদের দোকানের তত্বাবধায়ক অর্জুন কুমার ভৌমিক বলেন, লাইসেন্সধারী ব্যক্তি ছাড়া অন্য কারো কাছে মদ বিক্রি করা হয় না। তবে দোকানের আশ-পাশে অন্যান্য মাদক পাওয়া যায়। এবিষয়ে জেলা প্রশাসনকে অবহিত করা হয়েছে।

পঞ্চগড় সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আব্দুল লতিফ মিঞা বলেন, সরকার অনুমোদিত দোকানে মদ বিক্রি চলছে। সেখানে কে মদ কিনছে বা খাচ্ছে তা মাদক দ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর দেখবে।
পঞ্চগড় মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের পরিদর্শক জান্নাতুন নুরি বলেন, মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর এর অনুমতি নেই এমন কোন ব্যক্তির কাছে মদ বিক্রয় করা যাবে না। দেশীয় মদের দোকানে যদি নিয়মের বাইরে কিছু হয়, তদন্ত করে তা আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

 

আরও পড়ুন...