পদ্মা সেতু হওয়ায় বিএনপি খুশি নয় : তথ্যমন্ত্রী


মেজবাহুল হিমেল,রংপুর: তথ্যমন্ত্রী ড. হাছান মাহমুদ এমপি বলেছেন, পদ্মা সেতু হওয়ায় বিএনপি খুশি নয়। কারণ আওয়ামীলীগ সকাকার নেতৃত্ব পদ্মা সেতু হয়েছে। এজন্য খুশি না তারা। শুক্রবার (৭ জানুয়ারি) রংপুর সার্কিট হাউসে সন্ধ্যায় রংপুর জেলা ও মহানগর আওয়ামীলীগের আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্য এসবকথা বলেন এমপি।

হাছান মাহমুদ বলেন, বিএনপি জোটের মধ্যে যে ২২দলীয় জোট আবার এটা বৃদ্ধি করে আবার একটা জোট করেছিলো ভোটের আগে সেই জোটের এখন অস্থিত আছে কিনা নাই বুঝা যায় না। আবার সেই জোটের মধ্যে বিভিন্ন দলের মধ্যে ভাগ হয়ে গেছে। গনফোরাম ভেঙ্গে কয় ভাগ হয়ে গেছে সেটি পরিক্ষা নিরিক্ষা করতে হবে। তারা প্রতি বছর বলে এই বছর সরকারকে টেনে নামিয়ে ফেলবো। এখন তার আমাদের টেনে নামাতে গিয়ে তাদের রশি ছিড়ে নিজেরাই পড়ে গেছে। তারা আমাদেরকে নামানোর ষড়যন্ত্র করছে। যখন রাজনৈতিক ভাবে মোকাবেলা করতে পরে না কখনেই ষড়যন্ত্রের পথ বেছে নেয় তারা। এজন্য এই ব্যাপারে চোখ-কান খোলা রাখতে হবে। আমার অনেক দিন থেকে ক্ষমতায় আছি অনেকের মধ্যে অলশ্য এসেছে এ অলশ্য রাখা যাবে না। দেখে চুপ করে থাকলে হবে না। মনে করতে হবে শত্রু সজাগ সজাগ। এই শত্রু শুধু রাজনৈতিক শত্রু নয় তারা দেশেও শত্রু।

তথ্যমন্ত্রী ড. হাছান মাহমুদ বলেছেন, ১৫ আগস্ট বঙ্গবন্ধুকে হত্যা করার মধ্য দিয়ে প্রতিপক্ষে বাংলাদেশকে হত্যার অপচেষ্টা চালানো হয়েছিলো। একে সঙ্গে আওয়ামীলীগকে শেষ করার চেষ্টা চালানো হয়েছিলো। ৭৫ সালের পরে জিয়াউর রহমান আওয়ামীলীগকে ভাগ করেছিলো। এবং প্রচেষ্টা ছিলো আওয়ামীলীগকে শেষ করার। তখন অনেকে দম্ভ করে বোলতো আওয়ামীলীগ আর কখনো ক্ষমতায় আসতে পারবে না। ১৯৮১ সালের ১৭ মে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বাংলাদেশের সভাপতি হয়। তার পর থেকে তিনি মনের স্নেহে মায়ের মমতায় আমাদেও দলকে লালন করেছে। চার চারবার রাষ্ট ক্ষমতায় নিয়ে গেছেন। বঙ্গবন্ধু কণ্যা শেখ হাসিনা যে ভাবে দলকে আগলে রেখেছেন একটা পরিবারের মা যে ভাবে আগলে রাখেন কিংবা বড় বোন যে ভাবে আগলে রাখেন ঠিক সেভাবেই আমাদের দলকে আগলে রেখেছেন। ৮১ সালের পরে তিনি বিভিন্ন উপজেলায় সফর করেছেন, সংগঠন করেছেন। তখন যোগাযোগ ব্যবস্থা এসমন ছিলো না, রাত থাকার সুব্যবস্থা ছিলো না, বিভিন্ন জেলা উপজেলায় আমাদের কর্মী নেতাদের বাসায় তিনি থেকেছেন। অনেক হামলা-হুমকির শিকার হয়েছেন। একে এক ১৯বার তাকে হত্যা করার অপচেষ্টা চালানো হয়েছে। যারা মনে করতো আওয়ামীলীগ আর কোনদিন ক্ষমতায় যাবে না তারাই আজ রাজনৈতিক থেকে হাওয়ায় বিলিয়ে যাচ্ছে এটি হলো বাস্তবতা।

তথ্যমন্ত্রী আরও বলেন, আমাদের দল পর পর চার বার রাষ্ট্রক্ষমতায়। আমার জনগনের রায় দিয়ে সরকার গঠন করেছি বার বছর হয়ে গেলো। আমার পর পর তিনবার ক্ষমতায় থাকায় সবাই এখন আওয়ামীলীগের নৌকায় উঠতে চায়। আওয়ামীলীগের নৌকায় সবাইকে নেয়া যাবে না, সবাই এখন আওয়ামীলীগ হতে চায় বা সাজতে চায়। সবাইকে আওয়ামীলীগে নেয়া যাবে না। আমাদের এই সংগঠন একটি গনসংগঠন এই সংগঠন যেকেউ সমর্থন করতে পারে। তিন্তু যেকেউ নেতৃত্বেও আসনে আসতে পারে না। রাজনৈতি হচ্ছে একটি ব্রত জনসেবাইর জন্য দেশ সেবার জন্য ও সমাজ সেবার জন্য। এটি মাথায় রেখে আমাদেও সবাইকে রাজনৈতি করা প্রয়োজন। আমরা দেশ পরিবর্তনের জন্য, বঙ্গবন্ধুর স্বপ্ন বাস্তবায়নের জন্য, মানুষের ভাগ্য পরিবর্তনের জন্য আমরা আওয়ামীলীগ করি। শেখ হাসিনা সেই লক্ষে কাজ করে যাচ্ছেন।

নেতাকর্মীর উদ্দ্যেশে হাছান মাহমুদ বলেন, দলের মধ্যে যারা পরিক্ষীত কর্মী তারের চিহ্নীত করে তাদেরকে নেতৃৃত্বও আসনে বসাতে হবে। অনেক অভিমানী কর্মী আছে যারা অনেক বছর থেকে দল করে, দলের কাছে কিছু চায় না, অভাব অনাটনের কথাও অভিমানে বলে না। এরকম অনেক কর্মী আছে আমাদের দলে। তাদেরকেও খুজে বের করে তাদের জন্য কি করা প্রয়োজন সেটিও দেখতে হবে। আজদে শেখ হাসিনার নেতৃত্বে বদলে গেলে দেশ। খাদ্য ঘারতির দেশ এখন খাদ্য উৎপিত্তের দেশ হয়েছে। উত্তরঅঞ্চলে আগে মঙ্গায় ছিলো মঙ্গা এখন খাতায়, বই আছে বাস্তবে নেই। দলের ঐক্য যদি থাকে, আমাদের দল যদি ঐক্য থাকে ঐক্যবন্ধ ভাবে কাজ করেন। আমাদের দলের সঙ্গে মোকাবেলা করার মত বাংলাদেশে কোন রাজনৈতিক শক্তি নাই।

এর আগে দুপুরে ঢাকার হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে ইউএসবাংলা এয়ারলাইন্সের ফ্লাইটে করে সৈয়দপুর বিমানবন্দরে আসেন। সেখান থেকে তিনি গাড়িবহরে করে রংপুর সার্কিট হাউসে পৌছলে মন্ত্রীকে গার্ড অফ অনার প্রদান করা হয়। এসময় মন্ত্রীর একান্ত সচিব (উপসচিব) আরিফ নাজমুল হাসান, ব্যক্তিগত কর্মকর্তা কায়ছারুল আলম ও ইমরুল করিম সফর সঙ্গী হিসেবে ছিলেন।

এদিকে তথ্যমন্ত্রী ড. হাছান মাহমুদ রংপুর পৌঁছলে তাকে ফুলেল শুভেচ্ছায় বরণ করে নেন জেলা ও পুলিশ প্রশাসনের কর্মকর্তারা ছাড়াও আওয়ামী লীগের নেতা কর্মীরা। এসময় উপস্থিত ছিলেন জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি মমতাজ উদ্দিন আহমেদ, সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট রেজাউল করিম রাজু, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মোতাহার হোসেন মন্ডল মওলা, মহানগর সভাপতি সফিউর রহমান সাফি, সাধারণ সম্পাদক

বাবু তুষার কান্তি মন্ডল, সদর উপজেলার চেয়ারম্যান ও জেলা মহিলা বিষয়ক সম্পাদক নাছিমা জামান ববি প্রমুখ।

এর আগে মন্ত্রী বাংলাদেশ টেলিভিশনের রংপুর উপকেন্দ্র এবং বাংলাদেশ বেতার রংপুর কেন্দ্র পরিদর্শন করেন।

পিবিএ/এমএসএম

আরও পড়ুন...