পাটের সোনালী আঁশ নামটি বিলীনের পথে, পলিথিনের চাহিদা সর্বাধিক

 সোনলী আশঁ
এক সময় দেশ-বিদেশে সোনালী আঁশ নামে পাটের সুনাম ছিল

পিবিএ, রাজশাহী: এক সময় দেশ-বিদেশে সোনালী আঁশ নামে পাটের সুনাম ছিল। সোনালী আঁশ বিদেশে রপ্তানী করে বহু মূদ্রা আয় করেছে বাংলাদেশ। পাটের আঁশ থেকে নানা রকম পণ্য তৈরী করা হতো। পাট পণ্যে সকলের চাহিদা ছিল যথাযথ। কৃষকরাও পাট চাষাবাদে সম্ভাব্য চেষ্টা করতেন। কৃষকদের পরিবারদের মাঝে দুঃখ দূর্দশা ছিল না এবং সামজে তাদের কদর ছিল।

শুধূ তাই নই শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে বিভিন্ন পরীক্ষায় পাট রচনা লিখার বেশ প্রবণতা ছিল। শিক্ষার্থীদের মাঝে এই রচনা লিখার একটি প্রতিযোগিতাও কাজ করতো। তারা বিভিন্ন তথ্য অপাথ্য সংগ্রহে ব্যাস্ত থাকতো। জ্ঞানের চর্চা চলছে তারও একটি দৃষ্ট্রান্ত প্রমান বহন করতো।

এদশের কৃষকরা পাট চাষাবাদে বাংলাদেশের কৃষি অধিদপ্তর কর্তৃক তুলামূলক সুযোগ সুবিধা পাচ্ছে না। জেলা ও উপজেলা কৃষি দপ্তর গুলো সহজ সাদ্য চাষাবাদে সময় ব্যায় করছে। রাজশাহী জেলার ৯টি উপজেলায় কৃষি দপ্তর কর্মকর্তারা আম, পিয়ারা, কলা, লেবু ইত্যাদী জাতের চাষাবাদে পরার্মশ প্রদান করছেন। কৃষকের ঘরে জন্ম, আর কৃষি কাজ তাদের পেশা। কৃষি কাজ ব্যতীত তারা অন্য কোন কাজ করতে পারে না তদুপরি প্রাতিষ্ঠানিক কোন শিক্ষা তাদের মধ্যে নেই। জেলার বড় একটি কৃষকদের মধ্যে অল্প সংখ্যক কৃষক কৃষি দপ্তরের সুবিধা পাচ্ছে বলে জানান স্থানীয় কৃষকরা।

দেশে পলিথীনের ব্যবহার বৃদ্ধির ফলে কৃষকরাও হতাশ। পাট শিল্প গুলো বিলীন হয়ে যাচ্ছে। কৃষকরা পাট চাষ না করে অন্য ফসল চাষাবাদে ঝুকছে। পাট পণ্য পরিবেশ বান্ধব কিন্ত পলিথীন পণ্যের কারনে মানবদেহে মরণ বেদীর আশঙ্কা দেখা দেয়, বায়ু দূষণ, পানি দূষণ এবং ফসলি জমির উর্বর ক্ষমতা নষ্ট করে। এদেশ ও জনগনের সার্বিক কথা চিন্তা করে সরকারকে অতিশিগ্রই পলিথীন বন্ধের বিষয়ে কঠিন আইন বাস্তবায়ন করতে হবে। রাসায়ানিক দ্রব্যের ব্যবহার করে বিভিন্ন কল-কারখানায় নানা ধরনের পলিথীন পণ্য তৈরী করা হচ্ছে যার বর্জ্য জলাশয় এবং নদীতে গিয়ে মিশ্রণ হচ্ছে। এভাবে চলতে থাকলে খুব অচিরেই ভয়াবহ ধংস নেমে আসবে কৃষিতে, আর বিপ্লব ঘটবে পলিথীন পন্যের।

রাজশাহী জেলার বিভিন্ন প্রান্তরে কৃষক সমাবেশ, প্রশিক্ষন অব্যহত আছে। পাট জাত করনে এজেলাই অনেক সমস্যা। সাধারণত একটু নিচু জমিতে পাট চাষের জন্য উপযোগী। পাটের আঁশের জন্য প্রয়োজন হয় জলাশয়। উত্তরবঙ্গের মধ্যে এই জেলার চাষাবাদের জমি অনেক উচু। যেখানে পানি সংরক্ষনের সম্ভবনা অনেক কম। জেলা কৃষি অধিদপ্তর কর্তৃক বিভিন্ন জলাশয় সংগ্রহ চলছে। বর্তমান পাট চাষে উন্নত ফলনের লক্ষে “রবি-১” নামের একটি জাত সরবরাহ করা হচ্ছে যা পাট চাষাবাদে কৃষকদের অনেক ফলন দিবে। সর্বপরি সরকারের উদ্ব্যোগে পাটের ন্যায্য মূল্য নির্ধারণ করতে হবে। পলিথীন বন্ধে কঠর পদক্ষেপ নিতে হবে বলে জানান রাজশাহী জেলার কৃষি দপ্তরের উপ-পরিচালক সামছুল হক।

পিবিএ/ওবায়দুল ইসলাম রবি/জেডআই

আরও পড়ুন...

ঘরে বসেই নিজের বিকাশ একাউন্ট খুলুন