পার্বতীপুরে কমিউনিটি ক্লিনিকে চিকিৎসাসেবা থেকে বঞ্চিত গ্রামীণ জনগণ

পিবিএ,ফুলবাড়ী: দিনাজপুরের ফুলবাড়ী উপজেলার এলুয়ারী ইউনিয়নের পার্বতীপুর কমিউনিটি ক্লিনিকের কমিউনিটি হেলথ কেয়ার প্রোভাইডার (সিএইচসিপি) পাঁচদিনের ছুটিতে থাকায় তালাবদ্ধ রয়েছে ওই ক্লিনিটটি। ফলে চিকিৎসা সংক্রান্ত সকল কার্যক্রম বন্ধ থাকায় স্থানীয় রোগীরা ক্লিনিকে এসে চিকিৎসা না পেয়ে শরীরের রোগবালাই শরীরেই নিয়ে বাড়ী ফিরতে বাধ্য হচ্ছেন।

গতকাল মঙ্গলবার সকাল সাড়ে ১০টায় সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, ক্লিনিকটি তালাবদ্ধ করা রাখা হয়েছে। ক্লিনিকের সামনে অপেক্ষায় রয়েছেন চিকিৎসা নিতে আসা রোগীরা।

চিকিৎসা নিতে আসা দোলা রানী (৬০), বুলবুলি রানী (৪০), মো. মোস্তাকিম (২৬), ওয়াহেদা বেগম (৪৫) বলেন, জ্বর-সর্দিসহ নানান রোগে ভুগছেন তারা। ক্লিনিকে এসে দেখেন তালা ঝুলছে, ডাক্তারের (সিএইচসিপি) খোঁজ নেই। চিকিৎসা না পেয়ে বাড়ী ফিরতে হচ্ছে।

স্থানীয় বাসিন্দা ইসমাইল হোসেন (৫০), আল আমিন (৩০), রেজুনার আমেনা (৬০), মোনোয়ার বেগম (২৮) ও নূর সেলিম (২২) বলেন, করোনাভাইরাস নিয়ে দেশে এখন যে অবস্থা বিরাজ করছে, তখন সরকারি ক্লিনিক কিভাবে বন্ধ থাকতে পারে? এক ব্যক্তির জন্য কী ক্লিনিক বন্ধ থাকবে আর স্থানীয়রা চিকিৎসাসেবা নিতে পারবে না? এটা কী হতে পারে? সিএইচসিপি গোলাম মাবুদ হোসেন নিজ খেয়ালখুশি মতো সপ্তাহে দু-একদিন ক্লিনিকে আসেন। তাও আবার তার আসতে আসতে সকাল সাড়ে ১১ টা থেকে দুপুর ১২টা বেজে যায়। আবার দুপুর ১টা হলেই বিদায় নেন। অথচ সরকারী নির্দেশনা অনুযায়ী সকাল ৯টা থেকে বিকেল ৩টা পর্যন্ত ক্লিনিক খোলা রাখতে হবে।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, ফুলবাড়ী থানায় চালতি মাসের ২৪ তারিখে দায়েরকৃত ১৯ নম্বরের মামলার এজাহারভূক্ত আসামী হওয়ায় গত ২৬ মার্চ থেকে ক্লিনিকটি তালাবদ্ধ রয়েছে। এ কারণে তিনি পাঁচদিনের ছুটি নিয়েছেন।

কমিউনিটি হেলথ কেয়ার প্রোভাইডার (সিএইচসিপি) গোলাম মাবুদের ব্যক্তিগত ০১৭১৪ ৬০১৮৫৫ নম্বরের মুঠোফোনে একাধিকবার ফোন করা হলেও মুঠোফোনের ফোনের সুইচ বন্ধ থাকায় এ বিষয়ে তার কোন বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

উপজেলা স্বাস্থ্য পরিদর্শক কার্তিক চন্দ্র সাহা বলেন, ওই ক্লিনিকে আগে থেকেই এফডাব্লুউ এর পদ শূন্য রয়েছে। এর ওপর ওই সিএইচসিপি ছুটিতে যাওয়ায় ক্লিনিকটি তালাবন্ধ করে রাখা হয়েছে।

উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. মো. হাসানুল হোসেন বলেন, আমি নতুন এসেছি, তাই এ বিষয়ে কিছুই বলতে পারবো না। তবে যতটুকু জেনেছি, ওই সিএইচসিপি ফৌজদারী মামলা এজাহারভূক্ত আসামী হওয়ায় তিনি ক্লিনিকে আসছেন না। তিনি সাতদিনের ছুটির চেয়েছেন, বিষয়টি মানবিক কারণে তাকে ৫ এপ্রিল পর্যন্ত ছুটি দেওয়া হয়েছে।

দিনাজপুর সিভিল সার্জন মো. আব্দুল কুদ্দুছ বলেন, পার্বতীপুর কমিউনিটি ক্লিনিকটি তালাবদ্ধ করে রাখা হয়েছে, এটি আমার জানা নেই। তবে সিএইচসিপি ছুটিতে থাকলে কেউ না কেউ দায়িত্ব পালন করবে এবং ক্লিনিক অবশ্যই খোলা থাকবে। কোনভাবেই ক্লিনিক বন্ধ রাখা যাবে না।
পিবিএ/প্লাবন শুভ/এএম

আরও পড়ুন...