পিতৃহীন সেই তরুণীর আশ্রয় মিলল পুনর্বাসন কেন্দ্রে

পিবিএ,সুনামগঞ্জ: আরজিনা (১৯) নামে পিতৃহীন এক তরুণীর ওসির মানবিকতায় অবশেষে আশ্রয় মিলেছে সামাজিক মেয়েদের প্রশিক্ষণ ও পুনর্বাসন কেন্দ্রে। আরজিনা নোয়াখালী জেলার সেনবাগ উপজেলার মুগদা প্রকাশ মগুয়া (মান্নানঘাট)’র মৃত আব্দুল মান্নানের মেয়ে।

সোমবার সুনামগঞ্জের তাহিরপুর থানার ওসি এ তথ্য নিশ্চিত করে বলেন, রবিবার রাতেই পুলিশী নিরাপক্তায় তরণীকে সিলেটের খাদিমনগরস্থ সামাজিক মেয়েদের প্রশিক্ষণ ও পুনর্বাসন কেন্দ্রে পৌঁছে দেয়া হয়েছে। জানা গেছে, রবিবার উপজেলা সদরের রতশ্রী গ্রামে যাতায়াতকালে এক পথচারীকে দেখে পিতৃহীন আরজিনা কান্নাকাটি করে আশ্রয়ের জন্য সাহায্য দাবি করেন।,এরপর পথচারী তাৎক্ষণিকভাবে তরুণীকে সাথে নিয়ে এসে থানার ওসির শরনাপন্ন হন।

পরবর্তীতে বিস্তারিত জেনে পিতৃহীন তরুণীর বিষয়টিকে পাশ না কাঁটিয়ে পুলিশ সুপার মো. মিজানুর রহমান বিপিএম, উপজেলা নির্বাহী অফিসার পদ্মাসন সিংহসহ সুনামগঞ্জ সমাজসেবা অধিদপ্তরের উপ-পরিচালকের শরনাপন্ন হন ওসি নিজেই। এরপর দায়িত্বশীলদের পরামর্শ ক্রমে ও নির্দেশনায় রবিবার রাতে থানার একজন এসআই’র তদারকীতে দু’জন নারী কনষ্টেবলকে সাথে দিয়ে থানা পুলিশের গাড়িতে করেই ওই তরুণীকে সিলেটের খাদিমনগরস্থ সামাজিক মেয়েদের প্রশিক্ষণ ও পুনর্বাসন কেন্দ্রে পৌঁছানো এবং সেখানে আশ্রয়ের ব্যবস্থা করে দেন।

উপজেলা সদর পাশ্ববর্তী গোবিন্দশ্রী গ্রামের শাফায়েত উল্লাহ নামে পথচারী বলেন, তরুণীর কান্নাকাটি দেখে আমি নিজেই ওই তরুণীকে নিয়ে থানায় ওসির শরনাপন্ন হই, এরপর ওসি মানবিক দিক বিবেচনায় নিয়ে পুলিশী নিরাপক্তায় সামাজিক মেয়েদের প্রশিক্ষণ ও পুনর্বাসন কেন্দ্রে সেই তরুণীকে আশ্রয়ের ব্যবস্থা করে দেন।

সোমবার সন্ধায় ওসি মো. আব্দুল লতিফ তরফদার বললেন,তরুণী নিদ্রিষ্টভাবে তার অভিভাবকদের ঠিকানা দিতে পারেনি, তার কথাবার্তায় অনেকটা অপ্রকৃতিস্থ্য ধারণা পাওয়ায় তাকে আপাতত আশ্রয়ের ব্যবস্থা দেয়া হয়েছে। তিনি আরো বলেন, পরবর্তীতে পরিবারের দায়িত্বশীল কেউ থাকলে যদি যোগাযোগ করেন তখন তরুণীকে তাদের হেফাজতে নিতে পারবেন। এমন মানবিক কাজকে সাধুবাদ জানিয়ে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে অসংখ্য নেটিজেনরা ওসির প্রশংসা করেছেন।

পিবিএ/জেডএইচ

আরও পড়ুন...