মেহেরপুরে ৪ এতিম শিশুকে নিয়ে

পিবিএ,তে সংবাদ প্রকাশের পর বিভিন্ন সংগঠনের সহযোগিতা অব্যাহত

পিবিএ,মেহেরপুর: মেহেরপুর জেলার গাংনী উপজেলার কসবা গ্রামের ৪ এতিম শিশুর জীবনী নিয়ে সংবাদ সংস্থা পিবিএতে সংবাদ প্রকাশের পর বিভিন্ন সংগঠন তাদের সহযোগিতা অব্যাহত রেখেছে। কসবা গ্রামের মা হারা ও বাবা বিয়ে করে সংসার করার ব্যস্ত জীবনের কারণে ফেলে যাওয়া ৪ ভাই-বোনদের কষ্টের জীবন নিয়ে সংবাদ সংস্থা পিবিএ,তে সংবাদ প্রকাশ। সংবাদটি প্রকাশের পর দেশ-বিদেশের বিভিন্ন শ্রেণী-পেশার মানুষ তাদের সহযোগিতা অব্যাহত রেখেছে।

নিউজ প্রকাশের পর মেহেরপুর জেলা ছাত্রলীগের নেতৃবৃন্দ রাতের আঁধারে খাদ্য সামগ্রী প্রদান করেন। এছাড়াও মেহেরপুর জেলা জাতীয় পার্টির (জাপা) সংগ্রামী সাধারণ সম্পাদক সাইফুল ইসলাম সেলিম ১ বস্তা চাউল,৫ কেজি ডাল,আলু,তেল,সাবানসহ বিভিন্ন প্রকার খাদ্য সামগ্রী সহায়তা করেন। ব্যক্তিগত উদ্যোগে তিনি এসব প্রদান করেন। এসময় উপস্থিত ছিলেন জাতীয় পার্টির বিভিন্ন পর্যায়ে নেতা-কর্মীবৃন্দ।

এছাড়াও ওই শিশুদের সহযোগিতা প্রদান করেন গাংনী উপজেলার হাড়িয়াদহ গ্রামের বাসিন্দা ও প্রশাসন বিভাগে কর্মরত ব্যক্তি,এক প্রবাসী ও গাংনী উপজেলা শহরের বাসিন্দা বর্তমান চট্টগ্রামের ব্যবসায়ী কাজে নিয়োজিত ব্যক্তি নেপথ্যে থেকে আর্থিকভাবে সহযোগিতা করেন।

জানা যায়,কসবা গ্রামের রাশিদুল ইসলাম একই উপজেলার পীরতলা গ্রামের এক মেয়ের সাথে ১৫ বছর আগে বিয়ে করেন। বিয়ের পর তাদের সংসারে আসে ৩ ছেলে ও ১ মেয়ে। গত ৪ বছর আগে রাশিদুল ইসলামের স্ত্রী স্ট্রোক করে মারা যান। পরে রাশিদুল ইসলাম তার ছেলে ও মেয়েদের ফেলে বিয়ে করে অন্যত্রে চলে যান। নিরুপায় হয়ে ছোট ছেলে-মেয়েরা তাদের দাদার কাছে আশ্রয় গ্রহণ করে। দাদা-দাদি বৃদ্ধ হওয়ায় সংসার চালানো কষ্ট হয়ে পড়ে।

স্থানীয়দের সহযোগিতায় ছোট ছেলে-মেয়েরা দাদার বাড়ির আঙ্গিনায় একটি চায়ের দোকান স্থাপন করে। এবং চা বিক্রি করে কোনো রকম সংসার চালায়। পাশাপাশি বড় ছেলে আশিক,মেজো মোস্তাকিন,সেজো কুলছুম ও ছোট ছেলে রিয়াজ স্থানীয় একটি বিদ্যালয়ে পড়া-লেখা করে। করোনা ভাইরাসের কারণে অন্যন্য দোকানের পাশাপাশি তাদের চায়ের দোকান বন্ধ রয়েছে। কিন্তু দোকান বন্ধ থাকলেও পেট তো আর থেমে থাকে না। তাদের এ কষ্টের খবর প্রকাশের পর দেশ-বিদেশের অসংখ্য মানুষ সহযোগিতা অব্যাহত রেখেছে।

পিবিএ/জিএস সাজ/বিএইচ

আরও পড়ুন...