পীরগঞ্জে সরিষা চাষে আগ্রহী হচ্ছে কৃষক

শাহ্ মো: রেজাউল করিম,পীরগঞ্জ (রংপুর): রংপুরের পীরগঞ্জে ভোজ্য তেলের চাহিদা ও অল্প সময়ে ফসল বিক্রি করে লাভবান হওয়ায় দিন দিন সরিষা চাষে কৃষকদের আগ্রহ বাড়ছে। উৎপাদন লক্ষ্যমাত্রা পূরণে কাজ করেছে স্থানীয় কৃষি বিভাগ। পীরগঞ্জ উপজেলায় চলতি বছর মোট ১ হাজার ৭’শ ৫০ হেক্টর জমিতে বিভিন্ন জাতের সরিষার আবাদ হয়েছে।

সরিষা চাষ করে কৃষকেরা খুশি। উপজেলা কৃষি অফিস সূত্রে জানা গেছে, প্রণোদনা কর্মসূচিরর আওতায় উপজেলার ২হাজার ২শ’ জন কৃষককে ৩’শ হেক্টর, প্রদর্শনী ও উদ্ধুদ্ধকরনের মাধ্যমে প্রায় ১৪শ হেক্টর জমিতে সরিষা চাষ হয়েছে। আমন ধান কাটার পর বোরো ধানের চাষ শুরুর মধ্যবর্তী সময়ে জমিতে সরিষা চাষ করে লাভবান হওয়ায় কৃষকরা সরিষা চাষে আগ্রহী হচ্ছে। উচ্চ ফলনশীল জাতের সরিষার বীজ, সময় কম লাগা,উৎপাদন খরচ কম ও লাভ বেশি হওয়ায় কৃষকরা সরিষা চাষের প্রতি ঝুঁকছে। উপজেলার ১৫টি ইউনিয়নের মধ্যে চৈত্রকোল, পাঁচগাছী, শানেরহাট, পীরগঞ্জ সদর, বড়আলমপুর, টুকুরিয়া ও চতরা ইউনিয়নে সবচেয়ে বেশি সরিষার চাষ হয়েছে। চৈত্রকোল ইউনিয়নের কৃষক আবুল খায়ের জানান, গত কয়েক বছর ধরে সরিষা চাষ করে আসছেন তিনি। অল্প সময়ে অধিক লাভ পাওয়ায় তিনি সরিষা চাষ করছেন। রোগবালাই কম এবং উৎপাদন খরচও কম। ফলন আশানুরুপ হয়েছে। পীরগঞ্জ ইউনিয়নের কৃষক ওমর ফারুক বলেন, ১ একর জমিতে সরিষা চাষ করেছি এবার, স্থানীয় উপ-সহকারী কৃষি অফিসার সার্বিক সহযোগীতা করে যাচ্ছেন সরিষার ফলন ভালো হয়েছে। একাধিক সরিষা চাষী জানান, প্রণোদনা ও উদ্বুদ্ধকরনের মাধ্যমে উচ্চ ফলনশীল সরিষার নতুন নতুন উন্নত জাত উদ্ভাবনের ফলে উপজেলার কৃষকদের মাঝে দিন দিন আগ্রহ বাড়ছে সরিষা চাষের জন্য। আর সরিষা চাষে সার্বিক ভাবে কৃষকদেকে সহযোগিতা করে যাচ্ছে স্থানীয় কৃষি বিভাগ।

এব্যাপারে উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবিদ সাদেকুজ্জামান সরকার বলেন, সরিষা রোপা আমন ও বোরো ধানের মধ্যবর্তী সময়ে জমি প্রায় ৮০-৯০ দিন পরে থাকে এই সময়ে সরিষা ফসল চাষ করে ভোজ্য তেলের চাহিদা পুরন করতে কৃষকদের উৎসাহিত করা হচ্ছে। এছাড়া সরিষা ক্ষেতে মৌ চাষের উদ্যোগ নেয়া হচ্ছে, যার ফলে সরিষা ফলন বৃদ্ধি ও মধু আহরণ করা সম্ভব হবে। আগামী বছর পীরগঞ্জ উপজেলায় সরিষা চাষ বৃদ্ধির সাথে সাথে উৎপাদন লক্ষমাত্রা ছাড়িয়ে যাবে।

আরও পড়ুন...