প্রতিবাদ এবং আ’লীগ নেতার বাসভবনে হামলা একসূত্রে গাঁথা!

মোহাম্মদ আলম,টঙ্গী: গাজীপুর মহানগরের টঙ্গী পূর্ব ও পশ্চিম থানা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক পদপ্রার্থী দুই নেতার বাড়িতে হামলার ঘটনা ঘটেছে। ওয়ার্ড কমিটিতে পদবিঞ্চত প্রতিবাদকারীরা পরিকল্পিতভাবে এই হামলা চালিয়েছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে।

টঙ্গী পূর্ব থানা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক পদপ্রার্থী এম এম নাসির উদ্দিন মুঠোফোনে জানান, তার বাসভবনের আশপাশের সিসি ক্যামেরায় ধারনকৃত ফুটেজে হামলাকারি ৪ জনের পরিচয় নিশ্চিত হওয়া গেছে। তারা কথিত পদবঞ্চিত প্রতাবাদকারীদের লোক। হামলাকারীরা চিহ্নিত মাদক সেবনকারী ও সন্ত্রাসী। নবগঠিত মহানগর ওয়ার্ড আহ্বায়ক কমিটির আনন্দ মিছিল বানচালে আতংক সৃষ্টি করতেই এই ভাঙচুর ও গুলাগুলির ঘটনা ঘটিয়েছে।

টঙ্গী সরকারী কলেজের সাবেক ছাত্রলীগ সভাপতি (২০০১-২০১০) নাসির আরও জানান, তার রাজনৈতিক জীবনে কারো সাথে ব্যক্তিগত কোন বিরোধ নেই। সামাজিকভাবেও সকলের সাথে সুসম্পর্ক। অতিতে কখনোই তার সাথে এধরনের সহিংসতামূলক ঘটনা ঘটেনি। মহানগর সভাপতি আজতম উল্লা খান ও সাধারণ সম্পাদক মোঃ জাহাঙ্গীর আলমের নেতৃত্বে যখন গাজীপুর মহানগর আওয়ামী লীগ নতুন করে উজ্জিবিত হয়েছে। দীর্ঘ ১৮ বছর পর কমিটি পূর্ণগঠন হয়েছে। তখন একটি শ্রেনী পরিকল্পিতভাবে আওয়ামী লীগকে প্রশ্নবিদ্ধ করার ষড়যন্ত্রে লিপ্ত হয়েছে। তবে কোন ষড়যন্ত্র ভয়-ভিতি প্রদর্শন করে তাদের দমানো যাবে না।

প্রতিবাদকারী বা তাদের পক্ষ থেকে এই ধরনের নাশকতামূলক কাজ সংঘঠিত হয়নি বলে দাবি করেছেন সাবেক মহানগর ছাত্রলীগ সহ-সভাপতি মোঃ খালেদুর রাসেল। তিনি ৪৩ নাম্বার ওয়ার্ডে সাধারণ সম্পাদক পদপ্রার্থী। নবগঠিত ওয়ার্ড আহ্বায়ক কমিটি বাতিলের দাবিতে প্রতিবাদ বিক্ষোভ করছেন।

তিনি এই ধরনের হামলা ও সহিংসতার তীব্র নিন্দা জানিয়ে বলেন, এম এম নাসিরের সাথে তিনি ছাত্র রাজনীতি করেছেন। তিনি অত্যন্ত স্বজ¦ন ও কর্মীবান্ধব নেতা। আওয়ামী লীগের দুর্দিনের ত্যাগি নেতা। আওয়ামী লীগের কোন নেতা-কর্মী তার বাসভবনে হামলা করতে পারে না।

তার ভাষ্য, কমিটি নিয়ে মতভিন্নতা থাকতে পারে, তবে তারা সবাই আওয়ামী পরিবারের এবং ঐক্যবদ্ধ। পদ বঞ্চিত হয়ে তারা সাংগঠনিকভাবে বিক্ষোভ মিছিলের মাধ্যমে প্রতিবাদ করেছেন। আওয়ামী লীগের আভ্যন্তিরিন কোন্দল পুঁজি করে তৃতীয় কোন পক্ষ বিএনপি বা জামায়াত এ ঘটনা ঘটিয়েছে কিনা তা ক্ষতিয়ে দেখা উচিত।

ঐদিন একই সময়ে পশ্চিম থানা সাধারণ সম্পাদক পদপ্রার্থী এম এম হেলাল উদ্দিনের বাড়িতে ককটেল বিষ্ফোরণের ঘটনা ঘটে। তারা দুইজনই মহানগর সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকের অনুসারী হিসেবে চিহ্নিত আওয়ামী লীগ নেতা। হেলাল উদ্দিনে ভাষ্য, প্রতিবাদ এবং হামলার ঘটনা একসূত্রে গাঁথা। তাদেরকে ভয়ভিতি প্রদর্শন ও নেতাকর্মীদের মাঝে আতংক সৃষ্টির জন্য ঘটানো হয়েছে। তবে তারা কোনভাবেই ভিত নন। তিনি, দোষীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দাবি করেন।

এ ব্যপারে জানতে চাওয়া হলে মহানগর আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক কাজী ইলিয়াস আহমেদ বলেন, দুইজন আওয়ামী লীগ নেতার বাড়িতে ভাঙচুর হামলার ঘটনা নিন্দনীয়। পুলিশ, র‌্যাব ও গোয়েন্দা সংস্থা তদন্ত করছে। যারাই এই ধরনের হামলার সাথে জড়িত তাদের শাস্তি হওয়া উচিত।

পিবিএ/এমএসএম

আরও পড়ুন...