প্রধানমন্ত্রীর জনসভায় কাজিম উদ্দিন আহম্মেদ ধনুর সাহসী ভূমিকা

সাজ্জাদুল আলম খান,ভালুকা (ময়মনসিংহ): একজন জননেতার যতোসব গুনাবলী থাকা প্রয়োজন তার প্রায় সবই কাজিম উদ্দিন আহম্মেদ ধনুর মধ্যে বিদ্যমান। সেই যোগ্য নেতা, যার রয়েছে রাজনৈতিক প্রজ্ঞা, দুরদর্শিতা, মানুষকে আপন করে নেবার অলৌকিক ক্ষমতা, সাধারণ মানুষের বিপদে পাশে থাকা, সাহসীকতা, বিচক্ষনতা, নৈতিকতা ইত্যাদি গুনাবলী।

ধনু সাহেবের পিতা মুক্তিযুদ্ধের কিংবদন্তী মেজর আফসার উদ্দিন সাহেবের বীরত্ব ও সাহসীকতার কথা শুধু ভালুকা কিংবা ময়মনসিংহের মানুষই নয়; বাংলাদেশের আপামর জনগনই জানে, কারণ মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাসে উনার বীরত্বের কথা স্থান করে নিয়েছে উনার মহান কীর্তির জন্যই। মহান মুক্তিযুদ্ধে যে তিনটি বাহিনী পাকিস্তানী হানাদার বাহিনীর আতঙ্ক ছিলো সেই কাদেরীয়া বাহিনী, হেমায়েত বাহিনী আর আফসার বাহিনীর ইতিহাস মুক্তিযুদ্ধের অমূল্য সম্পদ। সেই মহান ব্যক্তি আফসার সাহেবের রক্ত যাঁর ধমনীতে সে তো সাহসী হবেনই।

আজ এমন একটি ছোট ঘটনা উল্লেখ করছি যা সেদিন ময়মনসিংহের ঐতিহাসিক সার্কিট হাউজ ময়দানে ঘটে গেলো, যার স্বাক্ষী আমার মতো অনেক সাধারণ জনগনের সাথে স্বয়ং প্রধানমন্ত্রী জননেত্রী শেখ হাসিনা! সার্কিট হাউজের বিশাল দৃষ্টিনন্দন মঞ্চের ঠিক সামনেই ভি.আই.পি এরিয়াতে আমি সহ অনেক নেতৃবৃন্দ যাঁরা এই ক্যাটাগরির টিকেট পেয়েছিলেন তারা বসে ছিলাম; খুব ভাল ভাবেই জেলা ও কেন্দ্রীয় নেতৃবৃন্দের বক্তব্য পর্যন্ত শুনছিলাম।

উল্টাপাল্টা হয়ে গেলো প্রাণের নেত্রী মঞ্চে উপস্থিত হবার পরই…নেত্রী মঞ্চে বসে আছেন; দলের কেন্দ্রীয় সাধারণ সম্পাদক সহ দু-তিন জন নেতা বাদ আছেন বক্তব্য রাখার, এরপরই প্রিয় নেত্রী গুরুত্বপূর্ণ বক্তব্য রাখবেন। ঠিক সেই মুহূর্তে প্রিয় নেত্রীকে একনজর দেখার জন্য সমস্ত প্রটোকল ভেঙ্গে, নিরাপত্তায় নিয়োজিত কর্মকর্তা-প্রশাসনের লোকদের ডিঙ্গিয়ে সাধারণ মানুষ নেত্রীর কাছাকাছি চলে আসে!
নিরাপত্তা কর্মীরা শত চেষ্টা করেও বারবার বাঁধভাঙ্গা মানুষকে নিয়ন্ত্রন করতে ব্যর্থ হচ্ছেন, আমরা যারা চেয়ারে বসা ছিলাম তারা অনেক আগেই চেয়ার ছেড়ে দাঁড়িয়ে পড়ি, একটু পরপরই মানুষের ঢেউয়ে কিছুই করার ছিলোনা, পায়ের নীচে চেয়ারের গাদাগাদিতে অনেকেই হুমরি খেয়ে বারবার পড়ে যাচ্ছিলো।

মঞ্চ থেকে সিনিয়র নেতৃবৃন্দ মাইকে আওয়ামী প্রেমী, বঙ্গবন্ধু প্রেমী, শেখ হাসিনা প্রেমী মানুষকে নিয়ন্ত্রন করতে ব্যর্থ হচ্ছিলেন; নেত্রীও বারবার মানুষের তাঁর প্রতি ভালবাসার কারনে সৃষ্ট বিশৃঙ্খলা দেখছিলেন। উনি ক্ষমাসুন্দর দৃষ্টিতে বিষয়টা নিলেও আয়োজকদের জন্য খুব বিব্রতকর ছিলো।

ঠিক সেই মুহূর্তে মঞ্চ থেকে চেয়ার ছেড়ে নেমে আসলেন ভালুকার গনমানুষের নেতা কাজিম উদ্দিন আহম্মেদ ধনু। উপস্থিত সব নেতৃবৃন্দকে অবাক করে এক সাহসী পদক্ষেপ নিলেন অত্যান্ত বিচক্ষনতার সাথে; তিনি মঞ্চের সামনে যে অল্প একটু দুরে বাঁশ দিয়ে নিরাপত্তা বেস্টনী দেয়া ছিলো সেই বাঁশের উপর দাঁড়িয়ে মানুষের পায়ের নীচে পড়ে থাকা প্রায় অর্ধশত চেয়ার নিজেই সড়িয়ে নিলেন, পায়ের নীচে চেয়ার পড়ে থাকায় মানুষ ঠিকভাবে দাড়াতে পারছিলো না, পিছন থেকে আসা মানুষের ঢেউয়ে অনেকেই পড়ে যাচ্ছিলো, যা খুবই দৃষ্টিকটু তো বটেই হতাহতের আশঙ্কাও ছিলো! কাজিম উদ্দিন ধনুর এমন বিচক্ষন অথচ সাহসী পদক্ষেপে অবশেষে সেই পরিস্থিতি ক্ষনিক সময়েই নিয়ন্ত্রনে চলে আসে।

যা প্রিয় নেত্রী শেখ হাসিনা মঞ্চে বসেই প্রত্যক্ষ করছিলেন। সমাবেশে উপস্থিত সাধারণ জনগনও যারা এই ঘটনা প্রত্যক্ষ করেছেন, তারাও বাহবা দিয়েছেন, দুর দুরান্তের সাধারণ মানুষ যারা ধনু সাহেবকে চেনেন না তারাও একে অপরের কাছে জানতে চেয়েছেন এই নেতার নাম কী!

যিনি প্রিয় নেত্রীর কাছাকাছি বসা চেয়ার ছেড়ে এসে সাধারণ জনগনের হতাহতের কথা চিন্তা করে, এলাকার মানুষের বদনামের কথা চিন্তা করে, নেত্রীর সম্মানের কথা চিন্তা করে, আয়োজকদের বদনামের কথা চিন্তা করে পরিস্থিতি সাহসীকতার সাথে সামাল দিয়েছেন।

নেত্রীর পাশে চেয়ারে বসে থাকার লোভ যাকে স্পর্শ করেনি, পরিস্থিতি স্বাভাবিক করতে প্রাথমিক পদক্ষেপ যে মানুষের পায়ের নীচে পড়ে যাওয়া চেয়ারগুলি সড়িয়ে নেওয়া সেই উপস্থিত বুদ্ধিটা প্রশাসনের অনেক বাহিনীর মাথায়ও যেখানে আসেনি সেখানে বুদ্ধিটা শুধু ধনু সাহেবের মাথায়ই আসেনি নিজে সাহসীকতার সাথে মাঠে নেমে করে দেখিয়েছেন। কাউকে নির্দেশ বা পরামর্শ দিয়ে বসে থাকেননি!

একেই বলে জনগনের নেতা, জননেতা…ঘটনাটা অনেক পাঠকের কাছে নগন্য হতে পারে কিন্তু আমার মতো অনেকেই সেদিন এই মহানুভবতার স্বাক্ষী হয়ে রইলাম, এমনকি আমাদের আস্থার ঠিকানা, বঙ্গ কন্যা, বঙ্গবন্ধু তনয়া, দেশরত্ন, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাও…শুধু এই ঘটনার জন্য নয়, এরকম হাজারও মহৎ কাজের স্বীকৃতি স্বরুপ, দেশ স্বাধীনে পিতার অবদান স্বরুপ শহীদ ভ্রাতা কাজিম উদ্দিন আহম্মেদ ধনুর পুরস্কার প্রিয় নেত্রী অবশ্যই দিবেন বলে ভালুকাবাসী বিশ্বাস করে।

আরও পড়ুন...