প্রধানমন্ত্রীর ভারত সফর মৎস্যজীবীদের নিয়ে কতটুকু গুরুত্ব পাবে দ্বিপক্ষীয় বৈঠকে?

শফিকুল ইসলাম খোকন: আমরা প্রায়ই বলে থাকি বা মুরুব্বীদের মুখে শুনতে পাই ‘আত্মীয়ের চেয়ে পরম আত্মীয় প্রতিবেশী’ আবার কখনো কখনো সমাজের মুরুব্বী বা নেতৃত্বস্থানীয়রা বলে থাকেন বিপদে পড়লে দুর থেকে নিকটতম আত্মীয় স¦জন আসার আগে প্রতিবেশিরা আসেন। তাদের কথায় এটাই প্রমানিত যে, কখনো কখনো নিকটতম আত্মীয়ের চেয়ে পরম আত্মীয় প্রতিবেশি। গ্রামের এসব চিরন্তন কথার সাথে আমি একমত হয়েই বলছি ভারত আমাদের প্রতিবেশি আপন বন্ধু রাষ্ট্র। কারণ মহান স¦াধীনতা যুদ্ধের সময়ের দিকে তাকালেই আমরা বুঝতে পারি ভারত আমাদের বন্ধু রাষ্ট্র কিনা। আমাদের সাথে ভারতের সেই থেকেই বন্ধুত্ব এবং প্রতিবেশি রাষ্ট্র। কিন্তু স¦াধীনতা পরবর্তী তিস্তা চুক্তিসহ বেশ কয়েকটি চুক্তিসহ কার্যক্রমে আমার কাছে বন্ধুত্ব শব্দটি প্রশ্নবিদ্ধ মনে হচ্ছে।

যাক এ বিষয়টি পড়ে বলবো এখন আসল কথায় আসি। ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর আমন্ত্রণে সরকারি সফরে ভারতে গেছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। চার দিনের এ সফরে নরেন্দ্র মোদীর সঙ্গে দ্বিপাক্ষিক বৈঠক ও কয়েকটি চুক্তি সম্পাদনের পাশাপাশি প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বিশ্ব অর্থনৈতিক ফোরামের (ডব্লিউইএফ) বিভিন্ন কমর্সূচিতেও অংশ নেবেন। প্রধানমন্ত্রীকে বহনকারী বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের ভিভিআইপি ফ্লাইট বিজি-২০৩০ বৃহস্পতিবার (৩ অক্টোবর) সকাল ৮টা ১৫ মিনিটে নয়াদিল্লির উদ্দেশে ঢাকা ছেড়ে যায়। এ সফরে দুই দেশের মধ্যে দ্বিপক্ষীয় সহযোগিতার ক্ষেত্রগুলো নিয়ে আলোচনা হবে। বৈঠক শেষে দুই দেশের মধ্যে প্রায় ১৫টি চুক্তি ও সমঝোতা স্মারক সইও হতে পারে। ওয়ার্ল্ড ইকোনমিক ফোরামের সম্মেলনে যোগ দিতে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ভারতে অবস্থান করছেন। ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর সঙ্গে বৈঠক করবেন শেখ হাসিনা। বৈঠকে আলোচনা শেষে যুব ও ক্রীড়া, সংস্কৃতি, নৌপরিবহন, অর্থনীতি, সমুদ্র গবেষণা, পণ্যের মান নির্ধারণ, বাণিজ্য, শিক্ষা, তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি এবং অর্থনৈতিক অঞ্চল প্রতিষ্ঠা খাতের প্রায় ১৫টি চুক্তি ও সমঝোতা স্মারক সইয়ের প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে।

চলতি বছরের জানুয়ারিতে নতুন মেয়াদে সরকারপ্রধানের দায়িত্ব গ্রহণের পর প্রথমবারের মতো ভারত সফর করছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। সরকারপ্রধান হিসেবে এটা শেখ হাসিনার টানা তৃতীয় মেয়াদ। অন্যদিকে চলতি বছরের মে মাসেই টানা দ্বিতীয়বারের মতো ভারতের প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করেন নরেন্দ্র মোদি। দুই দেশের দুই শীর্ষ নেতাই পার্লামেন্টে নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা নিয়ে সরকার গঠন করেছেন। দৃশ্যত বাংলাদেশে হাসিনা এবং ভারতে মোদির সরকার এখন অনেকটাই শক্তিশালী অবস্থানে। সে বিবেচনায় বলা যেতে পারে, বড় ধরনের রাজনৈতিক সিদ্ধান্ত গ্রহণের ক্ষেত্রে প্রতিবেশি রাষ্ট্রের দুই নেতাই সুবিধাজনক অবস্থায় রয়েছেন। তবে এটাও ঠিক যে, দুই নেতাই বর্তমানে নিজ নিজ দেশে অভ্যন্তরীণ এবং আঞ্চলিক নানা সংকট মোকাবিলা করছেন। আরেক দিকে, দক্ষিণ এশিয়ার দুই ঘনিষ্ঠ প্রতিবেশী বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যে দীর্ঘদিন ঝুলে থাকা অনেক দ্বিপক্ষীয় সংকট অমীমাংসিত রয়ে গেছে। এমন বাস্তবতায় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ভারত সফর এবং ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির সঙ্গে তার শীর্ষ বৈঠক ঘিরে সংগত কারণেই অনেক প্রত্যাশা তৈরি হয়েছে। ইতিমধ্যে দুই দেশের মধ্যকার স্থলসীমান্ত ও সমুদ্রসীমা বিরোধের শান্তিপূর্ণ নিষ্পত্তি হয়েছে। ট্রানজিট ও ট্রান্সশিপমেন্ট প্রশ্নে ভারতের প্রত্যাশা পূরণে যথাযথ পদক্ষেপ নিয়েছে বাংলাদেশ। এ ধারাবাহিকতায় বহুল প্রত্যাশিত পানিবণ্টন সমস্যারও নিষ্পত্তি হওয়া উচিত বলে আমরা মনে করি। বাংলাদেশের জন্য তিস্তাসহ ৫৪টি অভিন্ন নদীর পানির ন্যায্য হিস্যা, সীমান্ত হত্যা বন্ধ এবং বাণিজ্য বাধা অপসারণ গুরুত্বপূর্ণ। তিস্তার পানিবণ্টন ইস্যু নিয়ে জল কম গড়ায়নি; তবে দ্বিতীয় মেয়াদে ক্ষমতায় আসার পর মোদি সরকার আগের চেয়ে অনেক বেশি শক্তিশালী।

আমি এবারের একটু ভিন্নধর্মী চিন্তা নিয়ে লেখাটি শুরু করেছি। তার কারণ হচ্ছে ভারতণ্ডবাংলাদেশ দুই রাষ্ট্র সমুদ্রসীমা সংলগ্ন। এ দুদেশ যেহেতু সমুদ্র সীমার কাছে সে কারণে আপাতত সমুদ্র নিয়েই এ লেখাটির উদ্ভব। ভারতণ্ডবাংলাদেশের সমুদ্রসীমা এবং বাংলাদেশি জলসীমায় ভারতীয় জেলেদের মাছ শিকারের অভিতজ্ঞা এবং নির্যাতন আমরা জানি। আমরা যদি ভুলে না গিয়ে থাকি সবশেষ চলতি বছরের জুলাই মাসে ভারতীয় জেলেরা ঝড়ের কবলে জলসীমা অতিক্রম করে পটুয়াখালীর কলাপাড়ায ভারতীয় ৩২ ট্রলারসহ ৫০০ জেলে অনুপ্রবেশ করে। বাংলাদেশী কোস্টগার্ড তাদেরকে আটক করলেও পরে তা ছেড়ে দেয়া হয়। ২০১১ সালের প্রথম দিকে ৭২জেলে পটুয়াখালীতে আসার পরে তাও ছেড়ে দেয়া হয়। এ চিত্রগুলো যদি কাগজ কলমে লিখতে চাই তাহলে হয়তো কাগজ ফুরিয়ে যাবে। তাছাড়া বাংলাদেশী জলসীমায় মাছ ধরার ওপর নিষেধাজ্ঞা থাকার সময়ও ভারতীয় জেলেরা অবাধে মাছ শিকার করে নিয়ে যাচ্ছে। এছাড়াও দেখা গেছে, আমাদের বাংলাদেশি কত সংখ্যক অনুপ্রবেশের অপরাধে ভারতে কারাবন্দি রয়েছে এমন কোন পরিসংখ্যান বাংলাদেশ বা ভারত সরকারের কাছে আছে কিনা আমার জানা নেই। বর্তমান দ্বিপীয় আলোচনায় বিশেষ করে সমুদ্রসীমা অনুপ্রবেশ করে অবাধে মাছ শিকার বন্ধ, কারাবন্দি জেলেদের ফেরত, বাংলাদেশী জলসীমায় মাছ ধরার ওপর নিষেধাজ্ঞা দুদেশের এক সাথে করাসহ নানা বিষয় আলোচনায় থাকা উচিত। যদিও ইতিপুর্বে জেলে সম্প্রদায়ের পক্ষ থেকে দুদেশের অবরোধ এক সাথে করার দাবি তোলা হয়েছে।

আমরা জানি বাংলাদেশ অনেক সম্পদের দেশ এবং বঙ্গোপসাগরের বাংলাদেশি অংশে সমুদ্রের তলদেশেও রয়েছে অনেক সম্পদ। ওয়ার্ল্ড ফিশের পর্যবেক্ষণ অনুযায়ী, বিশ্বের মোট ইলিশের প্রায় ৮৫ভাগ উৎপাদিত হয় বাংলাদেশে। ২০১৮-১৯ অর্থবছরে বাংলাদেশের বিভিন্ন নদী ও সাগর থেকে প্রায় পাঁচ লাখ মেট্রিক টন ইলিশ আহরণ করা হয়। বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ১৯৭২ সালের ৪ঠা জুলাই ‘মাছ হবে দ্বিতীয় প্রধান বৈদেশিক মুদ্রা অর্জনকারী সম্পদ’ আজ তার প্রমান দেখা যাচ্ছে। আর যদি বলি বাংলাদেশে মোট দেশজ উৎপাদনে (জিডিপি) ইলিশের অবদান কত? তাহলে দেখা যায় ৩ দশমিক ৫৭ শতাংশ। এদেশের মোট মাছের ১২শতাংশই ইলিশ। এর অর্থমূল্য আনুমানিক সাড়ে ৭ হাজার কোটি টাকা। আর ইলিশ রফতানির মাধ্যমে আসে ১৫০-৩০০ কোটি টাকার বৈদেশিক মুদ্রা। আশার কথা হলো, প্রতি বছরই বাড়ছে ইলিশের উৎপাদন। মাত্র দেড় দশকের ব্যবধানে এ সংখ্যা ছাড়িয়ে গেছে ২ লাখ টনের ঘর। পরিসংখ্যানে দেখা যায়, ১৯৮৬-৮৭ সালে দেশে ইলিশ উৎপাদন হতো ১ লাখ ৯৫ হাজার টন। ২০০২-০৩ অর্থবছরে ১ লাখ ৯১ হাজার টন ইলিশ উৎপাদিত হয়। ২০১৫-১৬ অর্থবছরে সেই সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৩ লাখ ৯৫ হাজার টন। ২০১৯ সালের ২১ মার্চে মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির তথ্য মতে মৎস্য রপ্তানিতে গত অর্থ বছরে আয় ৪ হাজার ৩১০ কোটি টাকা। জাতিসংঘের খাদ্য ও কৃষি সংস্থার ২০১৮ সালের প্রতিবেদন অনুযায়ী অভ্যন্তরীণ মুক্ত জলাশয়ে মৎস্য আহরণে বাংলাদেশের অবস্থান বিশ্বে তৃতীয় এবং সাদু পানির মাছ উৎপাদনে বাংলাদেশ ৫ম স্থান অর্জন করেছে। গত অর্থবছরে মৎস্য উৎপাদন ছিল ৪২ লাখ ৭৭ হাজার মেট্টিক টন, যার মধ্যে ইলিশের উৎপাদন ছিল ৫ লাখ ১৭ হাজার মেট্টিক টন।

মৎস্য ও প্রাণী সম্পদ মন্ত্রণালয়ের একটি সূত্র জানায়, ইলিশ উৎপাদনে বাংলাদেশ বর্তমানে বিশ্বে রোলমডেল। অর্থনৈতিক দিক থেকেও গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখছে এই মাছ। তাছাড়া জাতীয় মাছ সুস্বাদু ইলিশের জীবনরহস্য উন্মোচনে সফল হয়েছেন বাংলাদেশের বিজ্ঞানীরা। ওয়ার্ল্ড ফিশের পর্যবেক্ষণ অনুযায়ী, বিশ্বের মোট ইলিশের ৮৫ শতাংশ উৎপাদিত হয় বাংলাদেশে। এছাড়া ভারতে ২০ শতাংশ, মিয়ানমারে ১৫ শতাংশ, আরব সাগর তীরবর্তী দেশগুলো এবং প্রশান্ত ও আটলান্টিক মহাসাগর তীরবর্তী দেশগুলোতে বাকি ৫ শতাংশ ইলিশ ধরা পড়ে। এদিক দিয়ে পরিষ্কারভাবেই বোঝা যাচ্ছে, বাংলাদেশের পর রয়েছে যথাক্রমে মিয়ানমার, ভারত, পাকিস্তান, ইরান, ইরাক, কুয়েত, বাহরাইন, ইন্দোনেশিয়া, মালয়েশিয়া ও থাইল্যান্ড। এসব দেশের উপকূলেও ইলিশ ধরা পড়ে। তবে এ ১০টি দেশেই ইলিশ উৎপাদন কমেছে। একমাত্র বাংলাদেশেই প্রতি বছর ৯-১০ শতাংশ হারে ইলিশ উৎপাদন বাড়ছে। ইলিশের এতো সম্পদ হওয়ার পরেও প্রশ্ন উঠেছে ইলিশের বাড়ি বরগুনা না কি চাদপুরে। গত ২ অক্টোবর বরগুনাকে ইলিশের জেলা হিসেবে বিশ্বের কাছে পরিচিত করার জন্য বিশ্বে বৃহত্তম ইলিশ উৎসব পালন করা হয়েছে। সেখানে একদিনেই ৮২ লাখ টাকার ইলিশ বিক্রি হয়েছে। আর এ ব্যতিক্রম ইলিশ উৎসবের আয়োজন করেছেন বরগুনা জেলা প্রশাসন ও বরগুনা টেলিভিশন সাংবাদিক ফোরাম।

এতো কিছুর পরেও আজ বাংলাদেশি জেলেরা নির্যাতিত, নিপিড়িত ও বৈষম্যের শিকার। অধিকাংর বঞ্চিত হচ্ছে বাংলাদেশি জেলেরা। বাংলাদেশি জেলেরা সব সময় নির্যাতিত এবং বৈষম্যের শিকার হচ্ছে, সেটি নিজ দেশের ট্রলার মালিক এবং ভারতের জেলেদের দ্বারা। আমরা যদি অন্ধ না হয়ে থাকি তাহলে দেখবো, ভারতের একটি মাছ ধরা ট্রলার কত আধুনিক যন্ত্রপাতিতে ভরপুর। ভারতীয় ট্রলারে অত্যাধুনিক ইঞ্জিন থাকায় দ্রুত চালাতে সক্ষম, তাছাড়া তাদের ট্রলারে অত্যাধুনিক যন্ত্র থাকায় মাছ দেখে জাল ফেলতে পারে, এমনকি তাদের জীবনের নিরাপত্তার জন্য রয়েছে নিরাপত্তা সামগ্রী। যা আমাদের দেশের ট্রলারের নেই। ভারতীয় ট্রলার প্রতিনিয়ত বাংলাদেশি জলসীমা অতিক্রম করে মাছ শিকার করে নিয়ে যাচ্ছে এবং জেলেদের নির্যাতন করছে। বাংলাদেশে যখন মাছ ধরার ওপর নিষেধাজ্ঞা থাকে তখন ভারতে নিষেধাজ্ঞা না থাকায় বাংলাদেশি সীমায় অতিক্রম করে মাছ শিকার করছে। তাছাড়া বাংলাদেশি জলসীমা অতিক্রম করে বাংলাদেশী জেলেরা ভারতে গেলে তাদের ঠাই হয় ভারতের কারাগারে আর ভারতীয় জেলেরা বাংলাদেশি জলসীমা অতিক্রম করলে তাদের জামাইর আদরে নিজ দেশে পাঠিয়ে দেই। বছরের পর বছর বাংলাদেশি জেলেরা ভারতের কারাগারে বন্দি রয়েছে। এ ব্যপারে বাংলাদেশ সরকারের কোন মাথা ব্যাথা নেই। আমার প্রশ্ন হচ্ছে এটি কি বন্ধু রাষ্ট্রের আচরণ? আসলে তারা আমাদের বন্ধু? আমাদের বেলায় আইন আ তাদের বেলায় মানবিকতা; এমন প্রশ্ন আমার মনে দোলা দিচ্ছে। কারণ তিস্তা নিয়ে যে নাটক করছে ভারত তাতে এমন প্রশ্ন উঠাই স¦াভাবিক। যেখানে বঙ্গোপসাগরের বাংলাদেশি অংশ থেকে ৮৫ ভাগ ইলিশ আহরিত হচ্ছে। সেখানে তারা বীরদর্পে আমাদের জলসীমায় এসে মাছ শিকার করে নিয়ে যায়। আর জেলেদের আটক এবং জলসীমা অতিক্রম করে বাংলাদেশি মাছ শিকার করে নিয়ে যাওয়াতো তাদের স¦াভাবিক ব্যপার। এমনকি বাংলাদেশি কত সংখ্যক জেলে ভারতের কারাগারে রয়েছে সেটির সঠিক পরিসংখ্যান আজও সরকার প্রকাশ করেনি।

চোখ বন্ধ করে শুধু একবার কল্পনা করুন, ভারতের কারাগারে বাংলাদেশি যারা আছেন তাদের স¦জন যদি আমি বা আপনি হতেন? তাহলে কেমন লাগতো? আমি বলবো বর্তমান প্রধানমন্ত্রীর সফরে আলোচনায় অন্তত বাংলাদেশি জলসীমা, জেলেদের নিরাপত্তা, বাংলাদেশি জেলেরা ভারতের কারাগারে বন্দি, মাছ ধরার ওপর নিষেধাজ্ঞা এক সাথে করার বিষয় অথবা বাংলাদেশি জলসীমায় নিষেধাজ্ঞার সময় ভারতীয় জেলে অনুপ্রবেশ বন্ধ ইত্যাদি নিয়ে আলোচনা হবে।

পরিশেষে বলতে চাই, ভারত আমাদের বন্ধু রাষ্ট্র, আমরা কৃতজ্ঞ তাদের প্রতি সাধীনতা যুদ্ধের সময় আমাদের সহযোগিতা করার জন্য। ভারতে বাংলাদেশী কত সংখ্যক জেলে এবং কত সংখ্যক নাগরিক বন্দি রয়েছে তার একটি চিত্র তুলে ধরবেন এবং বাংলাদেশি জলসীমায় তাদের অনুপ্রবেশ বন্ধে একটি অঙ্গীকার সারক সাক্ষর একখনই সময়। আমরা আশা করবো ভারত তিস্তার সাথে এ বিষয়গুলোও আলোচনায় নিয়ে আসবে এবং বাংলাদেশ সরকার প্রধান শেখ হাসিনা ভালো কিছু বার্তা আমাদের জন্য নিয়ে আসবে এই প্রত্যাশা করছি।

লেখক: সাংবাদিক, কলামিষ্ট ও স্থানীয় সরকার বিষয়ে গবেষক।

পিবিএ/বিএইচ

আরও পড়ুন...

ঘরে বসেই নিজের বিকাশ একাউন্ট খুলুন