কোভিড-১৯ ও ডেঙ্গুর বিস্তার সম্ভাবনা

প্লাস্টিক ও পলিথিনের পণ্যে আচ্ছন্ন পদ্মার চর

ওবায়দুল ইসলাম রবি,রাজশাহী: রাজশাহী পদ্মা নদী তীরবর্তী এলাকা প্লাস্টিক ও পলিথিনের তৈরী বিভিন্ন পণ্যে আচ্ছন্ন হয়ে আছে। করোনার পূর্বে ছিল না নোংরা পদ্মাপাড়ের দৃশ্য। লকডাউন খুলে দেয়ার পরেই পরিচ্ছন্ন পরিবেশ প্রতিনিয়িত বদলে যাচ্ছে দৃশ্যপট। পদ্মা নদীর পানি, মাছসহ বিভিন্ন জাতের জলজ প্রানীর বংশ বৃদ্ধি ও ধ্বংস হওয়ার আশঙ্খা রয়েছে। অন্যদিকে ব্যবহারিত পণ্যে ডেঙ্গুর বংশ ও রোগের বিস্তার হওয়ার সম্ভবনা আছে বলে মনে করেন পরিবেশবিদ ও বিশেষজ্ঞরা।

বর্তমান করেনার কারনে বিভিন্ন পেশাজীবি ও পথচারীরা বাহিরের ভ্রাম্যমান দোকানে স্বাস্থ্যসম্মত্য চা পানের কাচের কাপের পরিবর্তে ব্যবহৃত করছে প্লাস্টিক কাপ। অপরদিকে পদ্মার চরকে ভাগার হিসাবেও ব্যবহার করা হচ্ছে। ফেলে দেওয়া বিভিন্ন পলিথিন ও প্লাস্টিকের পন্য নষ্ট হচ্ছে পদ্মা পানি ও নদীর তীরবর্তী সৌন্দর্য। এই কর্মকান্ড সুদূরপ্রসারীত হলে পরিবেশের বিপর্যয় হবে বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।

রাজশাহীর কেশবপুর পুলিশ লাইন পদ্মার পাড়ে, শ্রীরামপুর টি-বাঁধ, পদ্মা গার্ডেন, দরগা পাড়া লালন শাহ এবং বাংলাদেশ পুলিশ একাডেমির সংলগ্ন এলাকায় যত্রতত্র অপচনশীল পণ্যে পদ্মার পাড় সহ পদ্মা তীরের নানাস্থানে ছড়িয়ে ছিটিয়ে ফেলা হচ্ছে। যা দীর্ঘ দিনের রাজশাহীর পরিচ্ছন্ন পরিবেশ হুমকির মুখে পড়তে পারে।

সেইভ দ্য ন্যাচার অ্যান্ড লাইফ সংগঠনের চেয়ারম্যান মিজানুর রহমান বলেন, এমনিতেই পলিথিন এবং প্লাাস্টিক পরিবেশের ভারসম্য রক্ষার বড় শত্রু। সর্বসাধারনরা করোনাভাইরাসের সময় অপচনশীল পণ্য ব্যবহারে নিরাপদ মনে করছেন। তিন্ত এসকল প্লাপস্টিক পন্যের গায়ে দীর্ঘক্ষণ করোনাভাইরাসের জীবাণু টিকে থাকে। চলামান সময়ে যদি কোনো চা-বিক্রেতা কারোয় আক্রান্ত হয়, তাহলে ওই প্লাস্টিকের কাপে চা- পান করলে একই সময়ে অনেক সংখ্যক লোকের মধ্যে করোনাভাইরাসের সংক্রমণের ছড়িয়ে যাওয়ার সম্ভবনা রয়েছে।

অপরদিকে যোগ হতে পারে ডেঙ্গু রোগের। ওই সকল ব্যবহারিত চা-কাপ এবং বিভিন্ন পলিথিন ও প্লাস্টিক পন্য পানি জমে থাকে। যেখানে ডেঙ্গু বংশ ও রোগের বিস্তার শঙ্কা রয়েছে। এছাড়া শহরের ভেতরে এবং বিভিন্ন উপজেলা ও পৌরাসভার ড্রেনে চায়ের কাপসহ নানা ধরনের পলিথিন ও প্লাস্টিক পন্য জমা করে ড্রেনে ফেলছে বিক্রেতারা এবং স্থানীয়রা। এই সকল অনিয়মের কারনে ড্রেনের প্রবেশমুখ বন্ধ হয়ে জলাবদ্ধতা ও রোগের সৃষ্টি হচ্ছে।

প্লাস্টিক ও পলিথিন পরিবেশের জন্য মারাত্মক হুমকি। এসকল পণ্য মাটি ও পানির গুণাগুণ নষ্ট করে দেয়। সরকারীভাবে এসকল পন্য ব্যবহার বন্ধ করার ঘোষনা দেওয়া উচিত। যার পরিবর্তে মোটা কাগজের তৈরী চায়ের কাপ এবং পাটের আশেঁর পন্য ব্যবহারে উদবুদ্ধ করা যেতে পারে এর ফলে পরিবেশ ও রোগ দুই রক্ষা হবে বলে মনে করছেন রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের ভূগোল ও পরিবেশ বিদ্যা বিভাগের অধ্যাপক ড. মিজানুর রহমান। রাজশাহী মেডিকেল কলেজের কমিউনিটি মেডিসিনের সাবেক অধ্যাপক ডা. চিন্ময় কান্তি দাশ বলেন, বর্তমান সময়ে সকল শ্রেনীর মানুষ বাহিরে অবাদে চলাফেরা করছে। বন্ধু আড্ডায় প্লাস্টিক কাপে চা পানে স্বাস্থ্য সম্মত্য মনে করছেন কিন্ত জনস্বাস্থ্যের জন্য মারাত্মক হুমকি।

পিবিএ/এমএসএম

আরও পড়ুন...