ফরিদগঞ্জে মেয়েকে ধর্ষণের অভিযোগে বাবা গ্রেফতার

পিবিএ,চাঁদপুর: চাঁদপুর জেলার ফরিদগঞ্জ উপজেলায় বিশ্ব কন্যা দিবসে বাবার বিরুদ্ধে নিজ মেয়েকে ধর্ষণের অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় মেয়েটির মা মুক্তা বেগম বাদী হয়ে ফরিদগঞ্জ থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করে।

২৮শে সেপ্টেম্বর সোমবার এমন অভিযোগের প্রেক্ষিতে পুলিশ ধর্ষক মনির হোসেনকে গ্রেফতার করেছে। গত ২২শে সেপ্টেম্বর ফরিদগঞ্জের ৩নং সুবিদপুর পূর্ব ইউনিয়নের ৭নং ওয়ার্ডের লক্ষীপুর চৌধুরী বাড়িতে মৃত সেকান্তরের ছেলে ধর্ষক মনির হোসেন (৩৭) এ ঘটনা ঘটায়।

এদিকে লিখিত অভিযোগে জানা যায়, ধর্ষক মনির হোসেনের স্ত্রী মুক্তা বেগম ২ ছেলে ও ১৪ বছরের এক মেয়েসহ ঢাকায় বসবাস করে আসছিলেন। দেশের চলমান লকডাউনের কারণে তিনি দেশে আসলে মেয়েটির বাবা গত ২২ সেপ্টেম্বর গভীর রাতে ঘুমন্ত অবস্থায় হঠাৎ ঝাপটে ধরে কাপড় ছোপড় খুলে নরপৈচাশিক পন্থায় জোরপূর্বক মেয়েকে ধর্ষণ করে।

এ সময় নিজ মেয়েকে ভয় দেখিয়ে এ ঘটনা কাউকে বলিলে খুন করে ফেলবে বলেও হুমকি-ধমকি দেয়।

ধর্ষিতা মেয়ের মা জানান, তার স্বামী মনির তার মেয়েকে বিয়ে দিবে না বলেও হুমকি দেয়। (মনিরের ভাষ্য) তার মেয়েকে বলা হয়েছিলো-তোকে আমি বিয়ে দেব না। আমার বাড়ীতে রেখে তোকে ভাত মাছ খাওয়াবো।

ধর্ষিতা মেয়ের মা আরো জানান, ধর্ষিত হয়েও মেয়েটি বাবার ভয়ে চুপ করে ছিলো। আমি বাড়িতে না থাকায় বিষয়টি খুলে বলার সাহস পায়নি। কিন্তু এরই মধ্যে প্রায় সময় নরপিশাচ বাবা মেয়েটিকে পূর্বেও একের পর এক ধর্ষণ করে আসছিলেন।

পুলিশ জানায়, এ ঘটনা কয়েক বার ধর্ষক মনির হোসেনের মা রেহেনা বেগমের চোখে পড়লে তাকেও মেরে ফেলার হুমকি দিয়ে আসছে নিজ সন্তান ধর্ষণ করা অভিযুক্ত ধর্ষক মনির।

গত ২৫ সেপ্টেম্বর মুক্তা বেগম মেয়েটিকে ঢাকায় নিয়ে যায়। সেখানে গেলে মেয়ে তার মাকে নিজ বাবার নির্মম ঘটনা খুলে বলে। মেয়েটির মা দ্রুত ঢাকা থেকে এলাকায় আসে এবং নিজ শাশুড়ির মুখের বর্ণনা শুনে ফরিদগঞ্জ থানায় ধর্ষক মনির হোসেনের বিরুদ্ধে ধর্ষণ মামলা দায়ের করেন।

এদিকে এ ব্যপারে এলাকাবাসী জানান,ধর্ষক মনির হোসেন আগে থেকে এলাকায় মাদক ও ইভটিজিংয়ের সাথে জড়িত। আমরা এ ঘটনায় ধর্ষক মনিরের ফাঁসি চাই। এ বিষয়ে ফরিদগঞ্জ থানার অফিসার ইনচার্জ মো. আব্দুর রকিব জানান, ধর্ষণ এখন ঘরে ঘরে পৌঁছে যাচ্ছে। বাবার কাছেও নিজের মেয়ের ইজ্জতের নিরাপত্তা নেই। যার বাস্তব প্রমাণ ধর্ষক মনির হোসেন।

তিনি আরো জানান, ধর্ষক মনির বিষয়টি স্বীকার করেছে। তার বিরুদ্ধে মামলার সকল কাগজপত্র তৈরি করে চাঁদপুর আদালতে প্রেরণ করা হয়েছে।আর মেয়েটিকে ডাক্তারি পরীক্ষা নিরিক্ষা শেষে মায়ের হেফাজতে দেওয়া হয়েছে।

পিবিএ/মিজানুর রহমান/এমআর

আরও পড়ুন...