ফাহাদ ইস্যুতে বুয়েটে ছাত্র রাজনীতি নিষিদ্ধ হচ্ছে

ছাত্র রাজনীতি নিষিদ্ধ
বুয়েট ছাত্র কল্যাণ উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. মো. মিজানুর রহমান।

পিবিএ,ঢাকা: আবরার ফাহাদ হত্যায় ছাত্র রাজনীতি নিষিদ্ধ হচ্ছে বলে জানিয়েছেন বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বুয়েট) ছাত্র কল্যাণ উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. মো. মিজানুর রহমান।

পেশিশক্তির রাজনীতি না থাকুক বলে মন্তব্য করেন জনপ্রিয় কথাসাহিত্যিক আনিসুল হক ।তিনিও শিক্ষার্থীদের আন্দোলনে  একাত্মতা প্রকাশ করেন।

মঙ্গলবার বেলা সাড়ে ১১টার শিক্ষার্থীদের আন্দোলনস্থলে উপস্থিত হয়ে তিনি এসব কথা বলেন।তিনি বলেন, আমাদের দেশে বর্তমানে যে পরিস্থিতি, তাতে আমার মনে হয় না যেকোনো বিশ্ববিদ্যালয়ে ছাত্র রাজনীতি থাকার দরকার আছে। বুয়েটে ছাত্র রাজনীতি থাকার কোনো প্রয়োজন নেই।

আন্দোলনে শিক্ষার্থীদের সঙ্গে আছেন কি না জানতে চাইলে তিনি বলেন, আমি শিক্ষার্থীদের সঙ্গে আছি। এ সময় তাকে সেখানে ৫টা পর্যন্ত থাকার অনুরোধ জানান শিক্ষার্থীরা।

বেলা সাড়ে ১১টায় বিভিন্ন লেখা সংবলিত প্ল্যাকার্ড নিয়ে বুয়েটের শহীদ মিনার প্রাঙ্গণে শিক্ষার্থীদের আন্দোলনে  একাত্মতা প্রকাশ করেন জনপ্রিয় কথাসাহিত্যিক আনিসুল হক।

তিনি বলেন, এক সময় রাজনীতি করা হতো আদর্শের জন্য। এখন করা হয় চাঁদাবাজির জন্য, বড় দলকে পাহারা দেয়ার জন্য।

তিনি আরও বলেন, বুয়েটে সারা দেশের সবচেয়ে মেধাবী শিক্ষার্থীদের তুলে আনা হয়। পৃথিবীর সব জায়গায় বুয়েটের একটা নাম রয়েছে। অথচ বুয়েটের মেধাবী শিক্ষার্থীকে এ পরিণতি ভোগ করতে হলো।

‘আমার চাই বুয়েটে বিতর্ক ক্লাস, সংস্কৃতি ক্লাব এ ধরনের সংগঠনগুলো থাকুক। পেশিশক্তির রাজনীতি না থাকুক।’

শিক্ষার্থীরা দাবি ঘোষণা করে বলেন, আবরারকে হত্যার ৩০ ঘণ্টার মধ্যেও উপাচার্য ক্যাম্পাসে আসেননি। তাকে বিকেল ৫টার মধ্যে স্বশরীরে ক্যাম্পাসে এসে জবাবদিহি করতে হবে।

এর আগে গতকাল ফোন দেয়া হলে উপাচার্যের ব্যক্তিগত সহকারী (পিএস) কল রিসিভ করে উপাচার্য অসুস্থ বলে জানান। এজন্য তিনি ক্যাম্পাসে আসতে পারবেন না বলেও নিশ্চিত করেন। এতে ক্ষোভ প্রকাশ করেন শিক্ষার্থীরা। আবরারকে হত্যার ঘটনায় কান্নায় ভেঙে পড়েন তার সহপাঠীরা।

আবরারের খুনিদের ফাঁসির দাবিতে ক্যাম্পাসে বিক্ষোভ মিছিল করেছেন বুয়েটের শিক্ষার্থীরা। মঙ্গলবার সকাল সাড়ে ১০টায় বুয়েট কেন্দ্রীয় শহীদ মিনার প্রাঙ্গণ থেকে ‘বুয়েটের সাধারণ শিক্ষার্থীবৃন্দ’র ব্যানারে এই মিছিল শুরু করেন তারা। পরে ক্যাম্পাসের বিভিন্ন সড়ক প্রদক্ষিণ করে মিছিলটি।

শিক্ষার্থীদের আট দফা দাবির মধ্যে রয়েছে- আবরারের খুনিদের ফাঁসি দেয়া, ৭২ ঘণ্টার মধ্যে জড়িতদের স্থায়ী বহিষ্কার করা, মামলা দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনালে দিতে হবে, উপাচার্যকে ৫টার মধ্যে ক্যাম্পাসে আসতে হবে, আবাসিক হলে ভিন্ন মতাবলম্বীদের নির্যাতনে জড়িতদের বিচার করতে হবে, আগের ঘটনাগুলোয় জড়িতদের শাস্তি দিতে হবে, শের ই বাংলা হলের প্রভোস্টকে প্রত্যাহার করতে হবে।

৬ অক্টোবর রোববার দিবাগত মধ্যরাতে বুয়েটের সাধারণ ছাত্র ও বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ আবরারকে শেরেবাংলা হলের দ্বিতীয় তলা থেকে অচেতন অবস্থায় উদ্ধার করে ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালে নিয়ে যান। সোমবার সকাল সাড়ে ৬টার দিকে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।

পিবিএ/জেডআই

আরও পড়ুন...

ঘরে বসেই নিজের বিকাশ একাউন্ট খুলুন