ফের ব্যর্থ বাংলাদেশের ব্যাটসম্যানরা, পাকিস্তানের লক্ষ্য ১০৯

১০৮! আগের ম্যাচে ১২৭ রান করে ৪ উইকেটে হারানো বাংলাদেশ দল সিরিজ বাঁচানোর লড়াইয়ে নেমে করেছে মাত্র ১০৮ রান। ৩ ম্যাচ সিরিজের প্রথম ম্যাচে হেরে পিছিয়ে পড়া স্বাগতিকদের সিরিজে টিকে থাকতে এ ম্যাচ জয়ের বিকল্প নেই, যদি না ম্যাচটি ড্র বা টাই হয়! মিরপুরের যে উইকেটে ম্যাচটি হচ্ছে, সেটি এই রান কোনভাবেই নিরাপদ বার্তা দিচ্ছে না। তবে ক্রিকেটকে যারা গৌরবময় নিশ্চয়তার খেলা বলে দাবি করেন, তারা ম্যাচের শেষ অবধি অপেক্ষা করবেন হয়তো।

অধিনায়ক মাহমুদউল্লাহ রিয়াদ এ ম্যাচের ব্যাটিং দৈন্যতাকে কিভাবে ব্যাখ্যা করবেন ম্যাচ শেষে? আগের ম্যাচে হারের দোষ চাপান ব্যাটসম্যানদের কাঁধে। ওই ভারটা যেন বোঝা হয়ে দাঁড়িয়েছে আরও। আজ (শুক্রবার) সিরিজের দ্বিতীয় ম্যাচে ব্যর্থ ব্যাটসম্যানরা। গড়তে পারেনি প্রতিরোধ করা জুটি। তারই প্রভাব পড়ল স্কোর বোর্ডে। বাংলাদেশের ইনিংস থামে মাত্র ১০৮ রানে। গ্যালারিতে থাকা হাজার দশের সমর্থকের সমর্থনও যেন কাজে আসছে না!

এদিন টস জিতে ব্যাট করতে নামে বাংলাদেশ। টাইগারদের উদ্বোধনী জুটি এক বিভীষিকার নাম হয়ে দাঁড়িয়েছে। একের পর এক পরিবর্তনেও ফায়দা হচ্ছে না কিছুতেই। পাকিস্তানের বিপক্ষে গত ম্যাচের মতো আজও দুই ওপেনার নাঈম শেখ ও সাইফ হাসান ফেরেন দলীয় রান ১০ পার করার আগেই। চমক হয়ে টি-টোয়েন্টি দলে জায়গা পাওয়া সাইফ আগের ম্যাচে ১ রান করলেও এদিন রানের খাতা খুলতে পারলেন না। নিজের খেলা প্রথম বলেই ফেরেন শাহীন শাহ আফ্রিদির বলে এলবিডব্লিউর ফাঁদে পড়ে।

এদিকে সাইফের মতো নাঈমের ফুটওয়ার্কে ঘাটতি সামনে এলো আরেক দফা। ইনিংসের দ্বিতীয় ওভারে মোহাম্মদ ওয়াসিম জুনিয়রের অফ স্টাম্পের বাইরের নিরীহ লেংথের বলে ড্রাইভ করলেন জায়গায় দাঁড়িয়ে। নড়েনি পা, ততক্ষণে বল ব্যাট ছুঁয়ে উইকেটের পেছনে, ফিরেছেন ২ রান করে। এতে ৫ রানেই দুই ওপেনারকে হারিয়ে বিপদে স্বাগতিকরা।

সেখান থেকে আবারও দলকে উদ্ধারের চেষ্টা করেন আগের ম্যাচের সর্বোচ্চ রান সংগ্রাহক আফিফ হোসেন। নাজমুল হোসেন শান্তকে নিয়ে দলকে বিপদ মুক্তির ইঙ্গিত দেন এই তরুণ।

যদিও দুই বাঁহাতি ব্যাটসম্যান ক্রিজে থাকায় প্রথম ম্যাচে পাকিস্তানের বিপক্ষে বাংলাদেশ অধিনায়ক মাহমুদউল্লাহ রিয়াদ আক্রমণে আনেননি লেগ স্পিনার আমিনুল ইসলাম বিপ্লবকে। আজ পাকিস্তানি অধিনায়ক বাবর আজম সে পন্থা মানলেন না একেবারেই। দুই বাঁহাতি আফিফ-শান্ত জুটি ভাঙতে ঠিকই ৭ম ওভারে এদিন ডেকে আনেন শাদাব খানকে। এতে সফল বাবর-শাদাব দুজনেই। নিজের দ্বিতীয় ২০ রানে থাকা আফিফকে বোকা বানিয়ে ফেরান শাদাব।

তার বিদায়ের পর পাওয়ার প্লেতে ৩৬ রান তোলা বাংলাদেশ ১০ ওভার শেষে ৩ উইকেটে তোলে ৬৪ রান। ততক্ষণে হাত খোলা শুরু করেন শান্ত, তার যোগ্য সঙ্গী অধিনায়ক রিয়াদ। চতুর্থ উইকেটে দুজনের জুটি থেকে আসে ২৮ রান। ভালো শুরুর ইঙ্গিত দেওয়া মাহমুদউল্লাহ ১২ রান করে হারিস রউফের বলে আউট হলে ভাঙে এই জুটি।

আগের ম্যাচে ব্যর্থ শান্ত এদিন লড়াই করেন পাকিস্তানি বোলারদের বিপক্ষে, হাঁটছিলেন ফিফটির পথে। তবে মাইলফলকে পৌঁছাতে পারেননি তিনি। বাঁহাতি হয়েও লেগ স্পিনার শাদাবের বলে ফিরতি ক্যাচ দেন। তার ব্যাট থেকে আসে ইনিংস সর্বোচ্চ ৪০ রান। আউট হওয়ার আগে ৩৪ বলের ইনিংসটি সাজান ৫টি চারের মারে।

দুই সেট ব্যাটসম্যানকে হারিয়ে আবার বড় রানের স্বপ্নে ভাটা পড়ে স্বাগতিক শিবিরের। গত ম্যাচে ব্যাট হাতে ঝড় তোলা শেখ মেহেদী হাসান সুবিধা করতে পারেননি আজ। ফেরেন ৮ বলে ৩ রান করে। পরে সোহান ১১ রান করে সজঘরে ফিরলে কোনরকম একশ রানের কোটা পার করে বাংলাদেশ দল।

শেষদিকে আমিনুল ইসলাম বিপ্লব অপরাজিত ৭ রানের কল্যাণে নির্ধারিত ২০ ওভার শেষে ৭ উইকেট হারানো বাংলাদেশ দল ১০৮ রানের পুঁজি পায়। ম্যাচ জয়ের সঙ্গে সিরিজ জিততে পাকিস্তানের প্রয়োজন ১০৯ রান। সফরকারীদের হয়ে সর্বোচ্চ ২টি করে উইকেট নেন শাহিন শাহ আফ্রিদি ও শাদাব খান।

আরও পড়ুন...